ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০ ‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ : মির্জা আব্বাস

আবারও রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা জাতিসংঘের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে নতুন করে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের ঢল নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মার্ক লোকক এ আশঙ্কার কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি বিদ্যমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক সুইজারল্যান্ডের জেনাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সহিংসতার মধ্যেও অনেক রোহিঙ্গা রাখাইন অঞ্চলে রয়ে গেছে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন থেকে মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রাখাইন অঞ্চলে যারা রয়ে গেছে তাদের কাছে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি পৌঁছাতে পারছে না বলে জানান জাতিসংঘের এ প্রতিনিধি। তিনি একে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মার্ক লোকক আশা প্রকাশ করেন খুব শিগগিরই তাঁরা সেখানে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।

এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসীদের দমন করার চেষ্টা করছে। বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গিদের হামলার পরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই কঠোর অভিযান শুরু হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের চারশোরও বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জেনেভা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তবে ওই কর্মকর্তাকে রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে কতোটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে সেটা পরিস্কার নয়। এর আগে জাতিসংঘের তরফে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধন অভিযানের সাথে তুলনা করা হয়।

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, রাখাইন রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ও নির্যাতন শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী মগ-চাকমা উপজাতিরা। এর পরিস্থিতিতে নির্যাতিত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দিকে রওনা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক কর্মকর্তাদেরকে রাখাইনে যেতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জানান, রোহিঙ্গাদের আসা এখনো বন্ধ হয়নি। এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করছে। আর সেই কারণে শরণার্থীদের ঢল যদি আবারও নামে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা জাতিসংঘের

আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে নতুন করে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের ঢল নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মার্ক লোকক এ আশঙ্কার কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি বিদ্যমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক সুইজারল্যান্ডের জেনাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সহিংসতার মধ্যেও অনেক রোহিঙ্গা রাখাইন অঞ্চলে রয়ে গেছে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন থেকে মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রাখাইন অঞ্চলে যারা রয়ে গেছে তাদের কাছে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি পৌঁছাতে পারছে না বলে জানান জাতিসংঘের এ প্রতিনিধি। তিনি একে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মার্ক লোকক আশা প্রকাশ করেন খুব শিগগিরই তাঁরা সেখানে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।

এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসীদের দমন করার চেষ্টা করছে। বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গিদের হামলার পরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই কঠোর অভিযান শুরু হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের চারশোরও বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জেনেভা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তবে ওই কর্মকর্তাকে রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে কতোটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে সেটা পরিস্কার নয়। এর আগে জাতিসংঘের তরফে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধন অভিযানের সাথে তুলনা করা হয়।

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, রাখাইন রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ও নির্যাতন শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী মগ-চাকমা উপজাতিরা। এর পরিস্থিতিতে নির্যাতিত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দিকে রওনা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক কর্মকর্তাদেরকে রাখাইনে যেতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জানান, রোহিঙ্গাদের আসা এখনো বন্ধ হয়নি। এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করছে। আর সেই কারণে শরণার্থীদের ঢল যদি আবারও নামে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।