ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আবারও রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা জাতিসংঘের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে নতুন করে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের ঢল নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মার্ক লোকক এ আশঙ্কার কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি বিদ্যমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক সুইজারল্যান্ডের জেনাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সহিংসতার মধ্যেও অনেক রোহিঙ্গা রাখাইন অঞ্চলে রয়ে গেছে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন থেকে মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রাখাইন অঞ্চলে যারা রয়ে গেছে তাদের কাছে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি পৌঁছাতে পারছে না বলে জানান জাতিসংঘের এ প্রতিনিধি। তিনি একে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মার্ক লোকক আশা প্রকাশ করেন খুব শিগগিরই তাঁরা সেখানে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।

এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসীদের দমন করার চেষ্টা করছে। বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গিদের হামলার পরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই কঠোর অভিযান শুরু হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের চারশোরও বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জেনেভা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তবে ওই কর্মকর্তাকে রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে কতোটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে সেটা পরিস্কার নয়। এর আগে জাতিসংঘের তরফে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধন অভিযানের সাথে তুলনা করা হয়।

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, রাখাইন রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ও নির্যাতন শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী মগ-চাকমা উপজাতিরা। এর পরিস্থিতিতে নির্যাতিত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দিকে রওনা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক কর্মকর্তাদেরকে রাখাইনে যেতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জানান, রোহিঙ্গাদের আসা এখনো বন্ধ হয়নি। এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করছে। আর সেই কারণে শরণার্থীদের ঢল যদি আবারও নামে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিরতির পর নতুন রূপ নিয়ে ফিরছেন রাইমা সেন

আবারও রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা জাতিসংঘের

আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে নতুন করে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের ঢল নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মার্ক লোকক এ আশঙ্কার কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি বিদ্যমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক সুইজারল্যান্ডের জেনাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সহিংসতার মধ্যেও অনেক রোহিঙ্গা রাখাইন অঞ্চলে রয়ে গেছে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন থেকে মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রাখাইন অঞ্চলে যারা রয়ে গেছে তাদের কাছে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি পৌঁছাতে পারছে না বলে জানান জাতিসংঘের এ প্রতিনিধি। তিনি একে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মার্ক লোকক আশা প্রকাশ করেন খুব শিগগিরই তাঁরা সেখানে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।

এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসীদের দমন করার চেষ্টা করছে। বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গিদের হামলার পরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই কঠোর অভিযান শুরু হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের চারশোরও বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জেনেভা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তবে ওই কর্মকর্তাকে রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে কতোটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে সেটা পরিস্কার নয়। এর আগে জাতিসংঘের তরফে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধন অভিযানের সাথে তুলনা করা হয়।

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, রাখাইন রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ও নির্যাতন শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী মগ-চাকমা উপজাতিরা। এর পরিস্থিতিতে নির্যাতিত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দিকে রওনা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক কর্মকর্তাদেরকে রাখাইনে যেতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জানান, রোহিঙ্গাদের আসা এখনো বন্ধ হয়নি। এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করছে। আর সেই কারণে শরণার্থীদের ঢল যদি আবারও নামে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।