ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিষিদ্ধ সংগঠনকে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না : মীর হেলাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ‘সৌর বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে : সিপিডি ৫-৭ খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী স্থায়ীভাবে বন্ধ ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং, ১৮০০ শ্রমিকের মাঝে উদ্বেগ-হতাশা অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোরালো নির্দেশ স্পিকারের একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ সিদ্ধিরগঞ্জে ডোবা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশা চীনের দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি অপশক্তি সক্রিয়: ইউনুছ আহমাদ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে কিশোরী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয়েছে। এতিম ওই কিশোরী এখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

একই এলাকার সবজি ব্যবসায়ী ধর্ষক আক্তার হোসেন এখন বিয়ে না করে গ্রাম্য মাতবরদের সহযোগিতায় ১৫ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাতবরেরা ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতেও দিচ্ছেন না।

জানতে চাইলে বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান মঙ্গলবার রাতে বলেন, খবর পেয়ে ধর্ষিতার অভিযোগ জানতে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এসআই মাহবুব ওই কিশোরীর বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে ফেরত আসেন। প্রভাবশালীদের ভয়ে মেয়েটি পালিয়ে আছেন কিনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ধর্ষক যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন অভিযোগ পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পূর্বপাড়ার পারিবারের সঙ্গেই থাকতো মেয়েটি। তার বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা চালান। তার মা যখন কাজ করতে যান তখন একা পেয়ে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় একই এলাকার জমাগাজীর বাড়ির মনু ফকিরের ছেলে সবজি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন (৪৫)।

অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মা বলেন, আমার স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকেই মেয়েকে নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় বসবাস করে আসছি। কাজের সন্ধানে মেয়েকে বাড়িতে রেখে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাই। এ সুযোগে কোনো একদিন গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আমি আমার মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে আক্তার হোসেন।

এ বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে উভয়পক্ষের স্থানীয় মেম্বার ও সাহেব-সর্দাররা মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব নেন। তারা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন। এর কয়েক দিন পর নজির সর্দারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা কিশোরীর মায়ের হাতে তুলে দিলে ওই কিশোরীর মা পারুল আক্তার টাকা ফেরত দিয়ে দেন। মামলা করতে গেলে মাতবরেরা বাধা দেন।

ধর্ষিতার মা বলেন, আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিয়ে করার জন্য আশ্বাস দেন আক্তার হোসেন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও সে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে আসে নাই। আমি এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি গরিব হওয়াতে সঠিক বিচারও পাই না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার হোসেন ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন না করার অনুরোধও করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, মেম্বার আতিকুর রহমান আবুলসহ কয়েকজন তাকে বিয়ে করতে দিচ্ছে না। তারা বাধা দিচ্ছেন। কারণ বিষয়টি আপস-মীমাংসা হলে তারা আমার কাছ থেকে কিছু টাকা নিতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেম্বার আবুল হোসেন বলেন, মেয়েটা গরিব। তাকে কিছু টাকা নিয়ে দিই। এটা নিয়ে নিউজেরও প্রয়োজন নেই। আমরা বিষয়টি দেখছি।

স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ঘটনায় অনেক দিন ধরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন লোভী গ্রাম্য মাতবরদের কারণে অসহায় মেয়েটি সঠিক বিচার পাচ্ছে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ সংগঠনকে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না : মীর হেলাল

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে কিশোরী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

আপডেট সময় ১১:০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয়েছে। এতিম ওই কিশোরী এখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

একই এলাকার সবজি ব্যবসায়ী ধর্ষক আক্তার হোসেন এখন বিয়ে না করে গ্রাম্য মাতবরদের সহযোগিতায় ১৫ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাতবরেরা ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতেও দিচ্ছেন না।

জানতে চাইলে বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান মঙ্গলবার রাতে বলেন, খবর পেয়ে ধর্ষিতার অভিযোগ জানতে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এসআই মাহবুব ওই কিশোরীর বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে ফেরত আসেন। প্রভাবশালীদের ভয়ে মেয়েটি পালিয়ে আছেন কিনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ধর্ষক যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন অভিযোগ পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পূর্বপাড়ার পারিবারের সঙ্গেই থাকতো মেয়েটি। তার বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা চালান। তার মা যখন কাজ করতে যান তখন একা পেয়ে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় একই এলাকার জমাগাজীর বাড়ির মনু ফকিরের ছেলে সবজি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন (৪৫)।

অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মা বলেন, আমার স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকেই মেয়েকে নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় বসবাস করে আসছি। কাজের সন্ধানে মেয়েকে বাড়িতে রেখে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাই। এ সুযোগে কোনো একদিন গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আমি আমার মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে আক্তার হোসেন।

এ বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে উভয়পক্ষের স্থানীয় মেম্বার ও সাহেব-সর্দাররা মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব নেন। তারা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন। এর কয়েক দিন পর নজির সর্দারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা কিশোরীর মায়ের হাতে তুলে দিলে ওই কিশোরীর মা পারুল আক্তার টাকা ফেরত দিয়ে দেন। মামলা করতে গেলে মাতবরেরা বাধা দেন।

ধর্ষিতার মা বলেন, আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিয়ে করার জন্য আশ্বাস দেন আক্তার হোসেন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও সে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে আসে নাই। আমি এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি গরিব হওয়াতে সঠিক বিচারও পাই না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার হোসেন ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন না করার অনুরোধও করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, মেম্বার আতিকুর রহমান আবুলসহ কয়েকজন তাকে বিয়ে করতে দিচ্ছে না। তারা বাধা দিচ্ছেন। কারণ বিষয়টি আপস-মীমাংসা হলে তারা আমার কাছ থেকে কিছু টাকা নিতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেম্বার আবুল হোসেন বলেন, মেয়েটা গরিব। তাকে কিছু টাকা নিয়ে দিই। এটা নিয়ে নিউজেরও প্রয়োজন নেই। আমরা বিষয়টি দেখছি।

স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ঘটনায় অনেক দিন ধরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন লোভী গ্রাম্য মাতবরদের কারণে অসহায় মেয়েটি সঠিক বিচার পাচ্ছে না।