ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

সু চির ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাহার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইনের বর্বর সেনা নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে দেয়া ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব অক্সফোর্ড অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাহার করেছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল ১৯৯৭ সালে গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেয়।

৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করছে, তাতে সুচি আর ‘ফ্রিডম অব দি সিটি’ নামের ওই পুরস্কারের যোগ্য নন বলে অক্সফোর্ড নগর সরকারের প্রধান বলেছেন।

২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সোমবার অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জাতিসংঘের কাছ থেকে যেসব তথ্যপ্রমাণ আসছে তাতে অং সান সুচি আর ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ সম্মাননার জন্য যথোপযুক্ত নন।

অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, মিয়ানমারের নেত্রীর জন্য এই সম্মাননা যথোপযুক্ত নয়। সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের কারণে অং সান সুচি দীর্ঘদিন ইয়াংগুনে গৃহবন্দী ছিলেন। এজন্য তিনি ও তার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। ২০১৫ সালে উন্মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল সরকার গঠন করে।

কিন্তু সম্প্রতি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর শুরু হওয়া নতুন সংঘাত ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকায় আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ও সংস্থা তার সমালোচনা করেছে।

এছাড়া আগামী মাসের বিশেষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রত্যাহার করা হবে বলে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে জানা যায়, অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ সুচির একটি পোট্রেট প্রদর্শনী থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ১১ আগস্ট সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান। নির্বিচারে গণহত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের এ অভিযানের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো অতীতের সকল বর্বরতা হার মেনেছে। প্রাণ বাঁচাতে পাশ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৫ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

সু চির ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাহার

আপডেট সময় ১১:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইনের বর্বর সেনা নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে দেয়া ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব অক্সফোর্ড অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাহার করেছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল ১৯৯৭ সালে গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেয়।

৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করছে, তাতে সুচি আর ‘ফ্রিডম অব দি সিটি’ নামের ওই পুরস্কারের যোগ্য নন বলে অক্সফোর্ড নগর সরকারের প্রধান বলেছেন।

২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সোমবার অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জাতিসংঘের কাছ থেকে যেসব তথ্যপ্রমাণ আসছে তাতে অং সান সুচি আর ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ সম্মাননার জন্য যথোপযুক্ত নন।

অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, মিয়ানমারের নেত্রীর জন্য এই সম্মাননা যথোপযুক্ত নয়। সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের কারণে অং সান সুচি দীর্ঘদিন ইয়াংগুনে গৃহবন্দী ছিলেন। এজন্য তিনি ও তার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। ২০১৫ সালে উন্মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল সরকার গঠন করে।

কিন্তু সম্প্রতি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর শুরু হওয়া নতুন সংঘাত ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকায় আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ও সংস্থা তার সমালোচনা করেছে।

এছাড়া আগামী মাসের বিশেষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রত্যাহার করা হবে বলে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে জানা যায়, অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ সুচির একটি পোট্রেট প্রদর্শনী থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ১১ আগস্ট সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান। নির্বিচারে গণহত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের এ অভিযানের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো অতীতের সকল বর্বরতা হার মেনেছে। প্রাণ বাঁচাতে পাশ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৫ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা।