ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়ে ছাই: কূটনীতিকদের বিবৃতি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারে কর্মরত অধিকাংশ পশ্চিমা দেশসহ ২০ দেশের রাষ্ট্রদূত এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পরিদর্শনকালে দেখেছেন যে তাদের বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই। আজ বসতবাড়ির বাসিন্দারা অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে এবং তারা সেনাবাহিনীর সহিংসতায় ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখেছেন।

গতকাল ওই অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতায় রাখাইন সফর শেষে কূটনীতিকরা বলেন, ‘আমরা দেখেছি গ্রামগুলো পুড়ে গেছে এবং সেখানে কোন মানুষজন নেই… সেখানকার সহিংসতা অবশ্যই থামাতে হবে।’

কূটনীতিকরা বলেন, ‘আমরা ওই সফরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখেছি’ এবং ‘আমরা আরেকবার আহ্বান জানাচ্ছি সেখানে যেন মানুষ নির্বিঘেœ বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি ওই রাজ্যে জীবনরক্ষাকারী সেবা পৌছাতে হবে এবং অন্য রাজ্যের সাথে কোন বৈষম্য রাখা যাবে না।’
সন্ত্রাসের অভিযোগে রাখাইনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সেদেশের সেনাবাহিনীর বিশ্বের নৃশংসতম সহিংসতা ঘটনার ৫ সপ্তাহ পর সেখানে বিদেশী কূটনীতিকদের এই সফর ও বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর উচিত কোন প্রকার বৈষম্য না করে রাখাইন রাজ্যের সকল মানুষের জান-মাল রক্ষা করা। তারা বলেন, এই সহিংসতার বিষযে উচ্চপর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত এবং তাদের এই পরিদর্শন ‘কোন তদন্ত মিশন ছিল না।’
কূটনীতিকরা ‘ইউএন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’কে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের অনুমতি প্রদানের জন্য আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে কূটনীতিকরা বলেন, ‘আরসা ২৫ আগস্ট যে হামলা করেছিল সেজন্য আমরা আবারো নিন্দা জানাই। তবে এজন্যে যে সহিংসতা ও ব্যাপক সংখ্যক মানুষের দেশত্যাগ ঘটেছে তার জন্য গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের কূটনীতিকগণ এই সফরে অংশ নেন।

রোহিঙ্গাদের মাঝে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব রোধে উদ্যোগ
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা বিশেষ করে তাদের মাঝে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব রোধে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশিদাররা একত্রে কাজ করছে। দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের কুতুপালং ক্যাম্পে সোমবার ২০ শয্যার ডায়রিয়া চিকিৎসা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এই কেন্দ্র পরিচালনায় ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনে দেশী ও বিদেশী বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোকে একত্রিত করেছে। ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র আন্দ্রের্জ মাহেসিক জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন।
তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য ৩টি স্থানে মোট ৮০টি বেড হবে।

পরবর্তী সপ্তাহে আরো ৩টি কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুতুপালংয়ের ২ হাজার একর বর্ধিত এলাকায় চলতি সপ্তাহে ওর‌্যাল রিহাইড্রেশন কর্নারসহ মেডিকেল কন্সাল্টেশন সেন্টার খোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৫ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গার অনেকের অবস্থান এই এলাকায় এবং তারা সহায়তার জন্য ভীড় করছে। তাদের প্রয়োজনে স্বাস্থ্য সেবার এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। সংস্থাটি বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব, মারাত্মক অসুস্থতা ও অনাকাঙ্খিত মৃত্যু রোধে অংশিদারদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৩২টি স্যালো টিউবওয়েল ও ২৫০টি ল্যাট্রিন স্থাপন করেছে।

ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের মাঝে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সরকারের রিফিউজি রিলিফ এ্যান্ড রিপার্টিএ্যাশন কমিশনের (আরআরআরসি) সঙ্গে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের চাহিদা নির্ধারণে কাজ করছে। প্রত্যেক পরিবারকে আরআরআরসি’র লোগো সম্বলিত কার্ড দেয়া হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছে বিএসএমএমইউ’র মেডিক্যাল টিম
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেডিক্যাল টিম আগামীকাল বুধবার বিকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।

এই মেডিক্যাল টিমের নেতৃত্ব দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসকবৃন্দ দুইদিন- আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অসহায় ও রোগাক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। মেডিক্যাল টিমটিতে সহযোগি ও সহকারি সহ কমপক্ষে ২০ জন অধ্যাপক, কনসালট্যান্ট, মেডিক্যাল অফিসার ও রেসিডেন্ট চিকিৎসক ১৫ জন এবং নার্স, টেকনিশিয়ানসহ সাপোর্টিং স্টাফ থাকবেন ১৫ জন।

এছাড়াও মেডিক্যাল টিমে ডেন্টাল (দন্ত), ইন্টারনাল মেডিসিন, অবস এন্ড গাইনী, চর্ম ও যৌনব্যাধি, জেনারেল শিশু, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, কার্ডিওলজি বিভাগ, ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, নাক, কান, গলাসহ বিভিন্ন বিভাগের কমপক্ষে ৫০ জন চিকিৎসক সরাসরি চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দও মেডিক্যাল টিমের সাথে যাবেন।

মেডিক্যাল টিম সেখানে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার পাশাপাশি ওষুধপত্র প্রদান, শুকনো খাবার বিতরণসহ রোগিদের ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করবেন। যেসব রোহিঙ্গা রোগিকে রেফার্ড করা প্রয়োজন হবে, তাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যগণ, কোষাধ্যক্ষ, ডীনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ মেডিক্যাল টিমটির সাথে যাবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়ে ছাই: কূটনীতিকদের বিবৃতি

আপডেট সময় ১২:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারে কর্মরত অধিকাংশ পশ্চিমা দেশসহ ২০ দেশের রাষ্ট্রদূত এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পরিদর্শনকালে দেখেছেন যে তাদের বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই। আজ বসতবাড়ির বাসিন্দারা অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে এবং তারা সেনাবাহিনীর সহিংসতায় ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখেছেন।

গতকাল ওই অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতায় রাখাইন সফর শেষে কূটনীতিকরা বলেন, ‘আমরা দেখেছি গ্রামগুলো পুড়ে গেছে এবং সেখানে কোন মানুষজন নেই… সেখানকার সহিংসতা অবশ্যই থামাতে হবে।’

কূটনীতিকরা বলেন, ‘আমরা ওই সফরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখেছি’ এবং ‘আমরা আরেকবার আহ্বান জানাচ্ছি সেখানে যেন মানুষ নির্বিঘেœ বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি ওই রাজ্যে জীবনরক্ষাকারী সেবা পৌছাতে হবে এবং অন্য রাজ্যের সাথে কোন বৈষম্য রাখা যাবে না।’
সন্ত্রাসের অভিযোগে রাখাইনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সেদেশের সেনাবাহিনীর বিশ্বের নৃশংসতম সহিংসতা ঘটনার ৫ সপ্তাহ পর সেখানে বিদেশী কূটনীতিকদের এই সফর ও বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর উচিত কোন প্রকার বৈষম্য না করে রাখাইন রাজ্যের সকল মানুষের জান-মাল রক্ষা করা। তারা বলেন, এই সহিংসতার বিষযে উচ্চপর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত এবং তাদের এই পরিদর্শন ‘কোন তদন্ত মিশন ছিল না।’
কূটনীতিকরা ‘ইউএন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’কে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের অনুমতি প্রদানের জন্য আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে কূটনীতিকরা বলেন, ‘আরসা ২৫ আগস্ট যে হামলা করেছিল সেজন্য আমরা আবারো নিন্দা জানাই। তবে এজন্যে যে সহিংসতা ও ব্যাপক সংখ্যক মানুষের দেশত্যাগ ঘটেছে তার জন্য গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের কূটনীতিকগণ এই সফরে অংশ নেন।

রোহিঙ্গাদের মাঝে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব রোধে উদ্যোগ
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা বিশেষ করে তাদের মাঝে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব রোধে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশিদাররা একত্রে কাজ করছে। দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের কুতুপালং ক্যাম্পে সোমবার ২০ শয্যার ডায়রিয়া চিকিৎসা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এই কেন্দ্র পরিচালনায় ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনে দেশী ও বিদেশী বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোকে একত্রিত করেছে। ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র আন্দ্রের্জ মাহেসিক জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন।
তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য ৩টি স্থানে মোট ৮০টি বেড হবে।

পরবর্তী সপ্তাহে আরো ৩টি কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুতুপালংয়ের ২ হাজার একর বর্ধিত এলাকায় চলতি সপ্তাহে ওর‌্যাল রিহাইড্রেশন কর্নারসহ মেডিকেল কন্সাল্টেশন সেন্টার খোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৫ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গার অনেকের অবস্থান এই এলাকায় এবং তারা সহায়তার জন্য ভীড় করছে। তাদের প্রয়োজনে স্বাস্থ্য সেবার এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। সংস্থাটি বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব, মারাত্মক অসুস্থতা ও অনাকাঙ্খিত মৃত্যু রোধে অংশিদারদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৩২টি স্যালো টিউবওয়েল ও ২৫০টি ল্যাট্রিন স্থাপন করেছে।

ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের মাঝে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সরকারের রিফিউজি রিলিফ এ্যান্ড রিপার্টিএ্যাশন কমিশনের (আরআরআরসি) সঙ্গে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের চাহিদা নির্ধারণে কাজ করছে। প্রত্যেক পরিবারকে আরআরআরসি’র লোগো সম্বলিত কার্ড দেয়া হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছে বিএসএমএমইউ’র মেডিক্যাল টিম
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেডিক্যাল টিম আগামীকাল বুধবার বিকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।

এই মেডিক্যাল টিমের নেতৃত্ব দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসকবৃন্দ দুইদিন- আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অসহায় ও রোগাক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। মেডিক্যাল টিমটিতে সহযোগি ও সহকারি সহ কমপক্ষে ২০ জন অধ্যাপক, কনসালট্যান্ট, মেডিক্যাল অফিসার ও রেসিডেন্ট চিকিৎসক ১৫ জন এবং নার্স, টেকনিশিয়ানসহ সাপোর্টিং স্টাফ থাকবেন ১৫ জন।

এছাড়াও মেডিক্যাল টিমে ডেন্টাল (দন্ত), ইন্টারনাল মেডিসিন, অবস এন্ড গাইনী, চর্ম ও যৌনব্যাধি, জেনারেল শিশু, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, কার্ডিওলজি বিভাগ, ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, নাক, কান, গলাসহ বিভিন্ন বিভাগের কমপক্ষে ৫০ জন চিকিৎসক সরাসরি চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দও মেডিক্যাল টিমের সাথে যাবেন।

মেডিক্যাল টিম সেখানে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার পাশাপাশি ওষুধপত্র প্রদান, শুকনো খাবার বিতরণসহ রোগিদের ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করবেন। যেসব রোহিঙ্গা রোগিকে রেফার্ড করা প্রয়োজন হবে, তাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যগণ, কোষাধ্যক্ষ, ডীনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ মেডিক্যাল টিমটির সাথে যাবেন।