ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার জনগণের বিশ্বাস অর্জনের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই : আমীর খসরু আটকের পর ডাবলুর মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চান বিএনপি মহাসচিব পে স্কেল বাস্তবায়ন পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে :অর্থ উপদেষ্টা প্রবাসীদের সুসংবাদ দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সৌদি আরবে হারুন অর রশিদ (৪১) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মরে গেছেন না বেঁচে আছেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

গত ১৯ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া তার মৃত্যু নিয়ে একেকরকম তথ্য পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা।

হারুন অর রশিদ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারের চালক তিনি।

জীবিত বা মৃত যে অবস্থায়ই হোক হারুন অর রশিদের সন্ধান পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে পরিবার।

মঙ্গলবার সরেজমিন হারুন অর রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন। এ সময় তার ছেলে পারভেজ ব্যাপারী জানান, তার বাবা দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় চাকরি করছেন। সেখানে আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারচালক তিনি।

তিনি জানান, গত ২৬ আগস্ট তার বাবার সহকর্মী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আল আমিন মোবাইলে তাকে জানান, আগের দিন আফকিক এলাকায় বুলডোজার চালানোর সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাবা দগ্ধ হয়েছেন। পরে একই কোম্পানিতে কর্মরত বড়াইগ্রামের মেরিগাছা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকও জানান তার বাবা মারা গেছেন এবং লাশ সেখানেই দাফন করা হয়েছে। তিনি ওয়ারিশ সনদ পাঠাতে বলেন। ওয়ারিশ সনদ পাঠানোর পর থেকেই তাকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর ওই কোম্পানির সুপারভাইজার ভারতীয় নাগরিক সৈয়দ সাব্বির হায়দার রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি লাশ মরচুয়ারিতে (শবঘর) সংরক্ষিত আছে। এখনো কবর দেওয়া হয়নি। সৌদিতে পরিচিত কেউ থাকলে তিনি গিয়ে লাশটি হারুন অর রশিদের কিনা শনাক্ত করতে পারেন।

হারুন অর রশিদের বড়ভাই আমিনুল ইসলাম ব্যাপারী জানান, সে আগুনে পুড়ে মরলে মোবাইলটাও তো পুড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মোবাইলে কল দিলে কখনো ঢুকছে, কখনো বন্ধ পাচ্ছি। একবার কল রিসিভ হলেও ভাষাগত কারণে কী বলে কিছু বুঝতে পারছি না। প্রকৃতই সে মারা গেছে, না বেঁচে আছে, নাকি কেউ তাকে জিম্মি করে রেখেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।

প্রবাসী হারুন অর রশিদের স্ত্রী পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বাবার সন্ধান পেতে আবেদন করেছে। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আকুতি জানাই।

বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, তার জীবিত থাকা না থাকা কোনোটাই নিশ্চিত হতে না পেরে স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক তার সন্ধান পেলে স্বজনরা সান্ত্বনা পেতেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

আপডেট সময় ১১:৫৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সৌদি আরবে হারুন অর রশিদ (৪১) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মরে গেছেন না বেঁচে আছেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

গত ১৯ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া তার মৃত্যু নিয়ে একেকরকম তথ্য পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা।

হারুন অর রশিদ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারের চালক তিনি।

জীবিত বা মৃত যে অবস্থায়ই হোক হারুন অর রশিদের সন্ধান পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে পরিবার।

মঙ্গলবার সরেজমিন হারুন অর রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন। এ সময় তার ছেলে পারভেজ ব্যাপারী জানান, তার বাবা দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় চাকরি করছেন। সেখানে আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারচালক তিনি।

তিনি জানান, গত ২৬ আগস্ট তার বাবার সহকর্মী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আল আমিন মোবাইলে তাকে জানান, আগের দিন আফকিক এলাকায় বুলডোজার চালানোর সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাবা দগ্ধ হয়েছেন। পরে একই কোম্পানিতে কর্মরত বড়াইগ্রামের মেরিগাছা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকও জানান তার বাবা মারা গেছেন এবং লাশ সেখানেই দাফন করা হয়েছে। তিনি ওয়ারিশ সনদ পাঠাতে বলেন। ওয়ারিশ সনদ পাঠানোর পর থেকেই তাকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর ওই কোম্পানির সুপারভাইজার ভারতীয় নাগরিক সৈয়দ সাব্বির হায়দার রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি লাশ মরচুয়ারিতে (শবঘর) সংরক্ষিত আছে। এখনো কবর দেওয়া হয়নি। সৌদিতে পরিচিত কেউ থাকলে তিনি গিয়ে লাশটি হারুন অর রশিদের কিনা শনাক্ত করতে পারেন।

হারুন অর রশিদের বড়ভাই আমিনুল ইসলাম ব্যাপারী জানান, সে আগুনে পুড়ে মরলে মোবাইলটাও তো পুড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মোবাইলে কল দিলে কখনো ঢুকছে, কখনো বন্ধ পাচ্ছি। একবার কল রিসিভ হলেও ভাষাগত কারণে কী বলে কিছু বুঝতে পারছি না। প্রকৃতই সে মারা গেছে, না বেঁচে আছে, নাকি কেউ তাকে জিম্মি করে রেখেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।

প্রবাসী হারুন অর রশিদের স্ত্রী পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বাবার সন্ধান পেতে আবেদন করেছে। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আকুতি জানাই।

বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, তার জীবিত থাকা না থাকা কোনোটাই নিশ্চিত হতে না পেরে স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক তার সন্ধান পেলে স্বজনরা সান্ত্বনা পেতেন।