আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট-২০২৬ অনুসারে, হেপাটাইটিস বি রোগে মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি বোঝা বহনকারী ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। বিশ্বের হেপাটাইটিস বি রোগে মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ ঘটে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, ঘানা, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভিয়েতনামে।
তবে ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও অতিক্রম করেছে ৮৫টি দেশ। এরপরও এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূল না হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে হুঁশিয়ার করেছে ডব্লিউএইচও। এই পরিস্থিতিতে হেপাটাইটিস নিয়ে ভুল ও ভয় ভাঙাতে এবার ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে– ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে আসে।’
দেশে আক্রান্ত প্রায় এক কোটি:
বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্যমতে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর প্রায় ৮৫ লাখ হেপাটাইটিস বি রোগীর মধ্যে ৫৭ লাখ পুরুষ, ২৮ লাখ নারী এবং প্রায় চার লাখ শিশু। দেশের প্রায় ১৫ লাখ পরিবারে অন্তত একজন হেপাটাইটিস বি রোগী রয়েছেন। সংগঠনটি জানাচ্ছে, দেশে একিউট হেপাটাইটিসের ৩৫ শতাংশ, ক্রনিক হেপাটাইটিসের ৭৫ শতাংশ, লিভার সিরোসিসের ৬০ শতাংশ এবং লিভার ক্যান্সারের ৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ভাইরাস।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় ২৫ লাখ কর্মক্ষম ও চাকরিপ্রার্থী মানুষ হেপাটাইটিস বি রোগে ভুগছেন। শুধু হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তাদের চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।’ তাঁর মতে, এই আচরণ ‘বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়’।
টিকা দিচ্ছে সুফল:
দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে ২০০৩ সালে হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। টিকার পর বর্তমানে এইচবিভি সংক্রমণের হার ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে দেশে এখনও হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর কোনো জাতীয় পরিসংখ্যান নেই।
২০৩০ সাল নাগাদ হেপাটাইটিস নির্মূল:
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘হেপাটাইটিস বি ও সি রোগের আধুনিক চিকিৎসা এখন দেশেই সহজলভ্য। জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক স্ক্রিনিং চালু করে আক্রান্তদের শনাক্ত এবং সংক্রমণমুক্ত ব্যক্তিদের টিকার আওতায় আনা গেলে বাংলাদেশও ২০৩০ সালের আগেই হেপাটাইটিস নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















