ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ডলারের পতন প্রক্রিয়া ঠেকিয়ে রাখার আর কোনও উপায় নেই: রুশ স্পিকার

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্ববাজারে ডলারের যে পতন প্রকিয়া শুরু হয়েছে তা ঠেকিয়ে রাখার আর কোনও উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ দুমার স্পিকার ভোজিস্লাভ ভোলোদিন।

মঙ্গলবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি বলেন, বিশ্ববাজার থেকে ডলারকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার আর কোনও উপায় নেই।

তিনি রাশিয়ার পক্ষ থেকে ডলারে লেনদেন বন্ধ করার কারণ উল্লেখ করে বলেন, যে পরিমাণ ডলার ছাপিয়ে বিশ্ববাজারে ছেড়ে দেওয়া হয় তার বিপরীতে তেমন কোনও সম্পদ থাকে না।

মার্কিন সরকার বিশ্বব্যাপী তার সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য চরিতার্থ করার জন্য ওয়াশিংটনের ‘অবাধ্য’ দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া বিভিন্ন দেশকে বাগে আনতে আমেরিকার প্রধান হাতিয়ার থাকে ডলার। এসব দেশে ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সেসব দেশের সরকারগুলোকে আমেরিকার কথামতো চলতে বাধ্য করা হয়।

এ সম্পর্কে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২১ সালে এক বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, মার্কিন সরকার তার মুদ্রা ডলারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে আন্তর্জাতিক রিজার্ভ হিসেবে এই মুদ্রা তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। এরপর প্রেসিডেন্ট পুতিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনৈতিক লেনদেনে ডলারকে বাদ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

দুমার স্পিকার ভোজিস্লাভ ভোলোদিন আরও বলেন, আমেরিকার ডলার ছাপানোর কারখানাগুলো এখন আর কোনও চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি মেনে চলে না; আর এ কারণেই আমেরিকা বড় ধরনের বৈদেশিক ঋণে জড়িয়ে পড়েছে এবং দেশটিতে নজিরবিহীন মন্দা দেখা দিয়েছে।

দুমার স্পিকার বলেন, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা, লেনদেনে ডলার পরিশোধে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং কোনও কোনও দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ আটকে দেওয়ার মতো ঘটনায় অন্যান্য দেশ এখন আর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না যে, তাদের সঙ্গেও আমেরিকা একই আচরণ করবে না।

তিনি ডলার দুর্বল হওয়ার আরেকটি কারণ উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বে এক মেরুকেন্দ্রিক যে বিশ্বব্যবস্থা ছিল তা ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। এখন বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের যুগ শুরু হচ্ছে। এ কারণে ডলার তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।

ভোলোদিন আরও বলেন, যেকোনও বৈদেশিক মুদ্রা সর্বোচ্চ ১০০ বছর বিশ্বের ওপর রাজত্ব করে। ডলার সেই সময়টা পার করে ফেলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডলারের পতন প্রক্রিয়া ঠেকিয়ে রাখার আর কোনও উপায় নেই: রুশ স্পিকার

আপডেট সময় ০১:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্ববাজারে ডলারের যে পতন প্রকিয়া শুরু হয়েছে তা ঠেকিয়ে রাখার আর কোনও উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ দুমার স্পিকার ভোজিস্লাভ ভোলোদিন।

মঙ্গলবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি বলেন, বিশ্ববাজার থেকে ডলারকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার আর কোনও উপায় নেই।

তিনি রাশিয়ার পক্ষ থেকে ডলারে লেনদেন বন্ধ করার কারণ উল্লেখ করে বলেন, যে পরিমাণ ডলার ছাপিয়ে বিশ্ববাজারে ছেড়ে দেওয়া হয় তার বিপরীতে তেমন কোনও সম্পদ থাকে না।

মার্কিন সরকার বিশ্বব্যাপী তার সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য চরিতার্থ করার জন্য ওয়াশিংটনের ‘অবাধ্য’ দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া বিভিন্ন দেশকে বাগে আনতে আমেরিকার প্রধান হাতিয়ার থাকে ডলার। এসব দেশে ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সেসব দেশের সরকারগুলোকে আমেরিকার কথামতো চলতে বাধ্য করা হয়।

এ সম্পর্কে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২১ সালে এক বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, মার্কিন সরকার তার মুদ্রা ডলারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে আন্তর্জাতিক রিজার্ভ হিসেবে এই মুদ্রা তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। এরপর প্রেসিডেন্ট পুতিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনৈতিক লেনদেনে ডলারকে বাদ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

দুমার স্পিকার ভোজিস্লাভ ভোলোদিন আরও বলেন, আমেরিকার ডলার ছাপানোর কারখানাগুলো এখন আর কোনও চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি মেনে চলে না; আর এ কারণেই আমেরিকা বড় ধরনের বৈদেশিক ঋণে জড়িয়ে পড়েছে এবং দেশটিতে নজিরবিহীন মন্দা দেখা দিয়েছে।

দুমার স্পিকার বলেন, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা, লেনদেনে ডলার পরিশোধে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং কোনও কোনও দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ আটকে দেওয়ার মতো ঘটনায় অন্যান্য দেশ এখন আর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না যে, তাদের সঙ্গেও আমেরিকা একই আচরণ করবে না।

তিনি ডলার দুর্বল হওয়ার আরেকটি কারণ উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বে এক মেরুকেন্দ্রিক যে বিশ্বব্যবস্থা ছিল তা ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। এখন বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের যুগ শুরু হচ্ছে। এ কারণে ডলার তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।

ভোলোদিন আরও বলেন, যেকোনও বৈদেশিক মুদ্রা সর্বোচ্চ ১০০ বছর বিশ্বের ওপর রাজত্ব করে। ডলার সেই সময়টা পার করে ফেলেছে।