আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার ঋণ খেলাপি হওয়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির জন্য একটি অধ্যাদেশের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে বলা হয়, রাষ্ট্রের সম্পদ বিক্রির জন্য অনুমোদন পাওয়া অধ্যাদেশের নাম ‘ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমার্শিয়াল ট্রানজেকশনস অর্ডিন্যান্স ২০২২’। এই অধ্যাদেশ অনুসারে জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রাদেশিক সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ দিতে পারবে। আর সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবে প্রাদেশিক সরকার।
দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অধ্যাদেশটির অনুমোদন দিলেও প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি এখনো অধ্যাদেশে সই করেননি।
বর্তমানে পাকিস্তান সরকার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির মুদ্রার মান কমেছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরের পর পাকিস্তানের মুদ্রার মান কখনো এতটা কমেনি। এ ছাড়া, শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির।
নতুন অধ্যাদেশটি করতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্য আরও ছয়টি আইন পাস কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যেসব প্রক্রিয়া মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা যাতে মানতে না হয় সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুসারে সরকারি সংস্থার সম্পদ ও শেয়ার বিদেশে বিক্রির বিরুদ্ধে কোনো আবেদন গ্রহণ না করতে সরকার দেশের আদালতকেও নিষেধ করেছে।
মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের শেয়ার বিক্রি করে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে চায় শাহবাজের সরকার। এর মাধ্যমে সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে তারা।
যদিও গত মে মাসে আরব আমিরাত থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আগের ঋণ শোধ করতে না পারার কারণে নতুনভাবে পাকিস্তানকে ঋণ দিতে সম্মত হয়নি আরব আমিরাত।
তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ মারি গ্যাস কোম্পানি, অয়েল গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ও পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের শেয়ার প্রকৃত মূল্যে বিক্রি করা যাবে না। কারণ বর্তমানে এসব কোম্পানির মূল্য অনেক কমেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















