ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু:অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : পর্যটনমন্ত্রী বিএনপি ধর্ম-বর্ণের বিভেদে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বন্যা-জলাবদ্ধতায় আ.লীগ, ইন্টেরিম ও বিএনপি সরকারের আচরণ একই: এবি পার্টি ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎসকি জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি

৮০ লাখেও আপস না করায় জোড়া খুন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম রাব্বি (৩৭) নামে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে ভারতে পালানোর সময় তাকে জেলার কসবা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

কিন্তু তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি পুলিশ প্রকাশ করেনি। রাব্বি জেলা শহরের কাজিপাড়ার মুমিনুল ইসলামের ছেলে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এরশাদুল হক ও তার সহযোগী বাদল সরকারকে গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় এরশাদুলের ছোট ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার আশরাফুল ইসলাম রাব্বি জোড়া খুনের মামলার ১ নম্বর আসামি নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী।

তিনি আরও জানান, রাব্বি জোড়া খুনের ঘটনায় অন্যতম আসামি। ডিবি পুলিশের সহায়তায় কসবা সীমান্তবর্তী এলাকার বিদ্যানগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরও জানান, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল খুন হন এরশাদুল হকের চাচাতো ভাই সাইদুল্লাহ (৩০)। ওই খুনের ঘটনায় বাদী এরশাদুল হক। এতে একই গ্রামের বাসিন্দা আবু নাছির ও তার ছেলে নজরুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়। আবু নাছির ও এরশাদুলের বাড়ি পাশাপাশি। ওই হত্যা মামলা আপস করার কথা বলে আবু নাছিরের দলের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা নেন এরশাদুল হক। ৮০ লাখ টাকা নিয়েও আপস না করে মামলা চালিয়ে যাওয়ায় এরশাদুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবু নাছিরের ছেলে নজরুল। এদিকে নজরুলের বাবা আবু নাছিরকে ওই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠান আদালত।

মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরও জানান, জেলা শহরের কাজিপাড়ার রাব্বির সঙ্গে নজরুলের আগে থেকে পরিচয় ছিল। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে রাব্বি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর গত একমাস ধরে তিনি নজরুলের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। এই সুবাদে তারা এরশাদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন (১৭ ডিসেম্বর) রাতে রাব্বি ও নজরুল পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে এরশাদুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন রাব্বি। এরপর নজরুল তার মোটরসাইকেল থামিয়ে এরশাদুল ও বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এরপর রাব্বি ও নজরুল জেলা শহরে এসে আলাদা হয়ে পালিয়ে যান বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৮০ লাখেও আপস না করায় জোড়া খুন

আপডেট সময় ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম রাব্বি (৩৭) নামে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে ভারতে পালানোর সময় তাকে জেলার কসবা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

কিন্তু তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি পুলিশ প্রকাশ করেনি। রাব্বি জেলা শহরের কাজিপাড়ার মুমিনুল ইসলামের ছেলে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এরশাদুল হক ও তার সহযোগী বাদল সরকারকে গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় এরশাদুলের ছোট ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার আশরাফুল ইসলাম রাব্বি জোড়া খুনের মামলার ১ নম্বর আসামি নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী।

তিনি আরও জানান, রাব্বি জোড়া খুনের ঘটনায় অন্যতম আসামি। ডিবি পুলিশের সহায়তায় কসবা সীমান্তবর্তী এলাকার বিদ্যানগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরও জানান, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল খুন হন এরশাদুল হকের চাচাতো ভাই সাইদুল্লাহ (৩০)। ওই খুনের ঘটনায় বাদী এরশাদুল হক। এতে একই গ্রামের বাসিন্দা আবু নাছির ও তার ছেলে নজরুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়। আবু নাছির ও এরশাদুলের বাড়ি পাশাপাশি। ওই হত্যা মামলা আপস করার কথা বলে আবু নাছিরের দলের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা নেন এরশাদুল হক। ৮০ লাখ টাকা নিয়েও আপস না করে মামলা চালিয়ে যাওয়ায় এরশাদুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবু নাছিরের ছেলে নজরুল। এদিকে নজরুলের বাবা আবু নাছিরকে ওই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠান আদালত।

মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরও জানান, জেলা শহরের কাজিপাড়ার রাব্বির সঙ্গে নজরুলের আগে থেকে পরিচয় ছিল। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে রাব্বি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর গত একমাস ধরে তিনি নজরুলের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। এই সুবাদে তারা এরশাদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন (১৭ ডিসেম্বর) রাতে রাব্বি ও নজরুল পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে এরশাদুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন রাব্বি। এরপর নজরুল তার মোটরসাইকেল থামিয়ে এরশাদুল ও বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এরপর রাব্বি ও নজরুল জেলা শহরে এসে আলাদা হয়ে পালিয়ে যান বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।