ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিমানবন্দরে ডাকাত দলের টার্গেটে বিদেশ ফেরতরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চালক সেজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিতেন ডাকাত দলের সদস্যরা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের টার্গেট করে গন্তব্যে পৌঁছানোর নামে গাড়িতে তোলে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হতো।

আবার অনেক সময় প্রবাসীদের বহনকারী গাড়ি টার্গেট করে এগোতে থাকেন ডাকাত দলের সদস্যরা। নির্জন কোনো স্থানে গাড়ি পৌঁছানোর পর প্রবাসীর গাড়ি ঘিরে ধরে লুট করে নেওয়া হতো টাকা পয়সা-স্বর্ণলঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীসহ মাদারীপুর ও ফরিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতাররা হলেন- তৈয়ব আলী, মো. মিলন সরদার, মোছা. রীমা আক্তার হ্যাপি, মো. মনির হোসেন ও বিপুল দেবনাথ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়্যারলেস, একটি হ্যান্ডকাফ, নগদ ২৩ হাজার টাকা ও লুণ্ঠিত এক কেজি ৩৬৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ কারা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, প্রবাসী রাসেল ও সাইফুল গাবতলী যাওয়ার উদ্দেশে কাওলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিযোগে মিরপুর বেড়িবাঁধ যাওয়ার পথে আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ রোডে একটি গাড়ি তাদের সিএনজির গতিরোধ করে থামিয়ে দেয়। পরে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে সবকিছু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সেই মামলার তদন্তের সূত্রে ডাকাত দলের সদস্যদের নাম পাওয়া যায়। পরে রাজধানীসহ মাদারীপুর ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানার অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ডাকাত দলের সদস্যদের টার্গেটই থাকতো ভোর রাতে যারা এয়ারপোর্ট থেকে বিভিন্ন এলাকায় যান তাদের। তারা বিভিন্ন সময় সিএনজি বা অন্য কোনো গাড়ির চালক সেজে প্রবাসীদের নিজেদের গাড়িতে তুলতো। আবার অনেক সময় প্রবাসীদের ভাড়া করা গাড়িকে টার্গেট করে নিজেরা গাড়ি নিয়ে পিছু নিতো।

চালক পরিচয়ে প্রবাসীদের গাড়িতে ওঠানোর পর নির্জন স্থানে বা ফাঁকা রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হতো। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা আরেকটি গাড়ি নিয়ে প্রবাসীর গাড়িটিকে থামিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা-পয়সাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যেতো।

আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসী ঠিক করা কোনো সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো প্রাইভেট গাড়িকে টার্গেট করে তার পেছনে পেছনে অন্য একটি গাড়িতে করে ডাকাত দলের সদস্যরা যেতো। পরে একইভাবে গাড়িটি ফাঁকা রাস্তা বা নির্জন স্থানে গেলে সেই গাড়িটিকে থামিয়ে সবকিছু লুট করে নেওয়া হতো।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ওই ঘটনায় এয়ারপোর্টের কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রেফতাররা জানায়, তারা নাকি প্রবাসীদের চলাফেরা বা আকার-ইঙ্গিতে বুঝতে পারে কাদের কাছে মূল্যবান জিনিস রয়েছে।

এমন ধরনের ঘটনায় অনেকেই থানায় জানান না। এজন্য আমরা বিস্তারিত জানতে পারি না। আমরা মনে করি এ ধরনের ডাকাতির ক্ষেত্রে থানায় বিস্তারিত জানানো উচিত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিমানবন্দরে ডাকাত দলের টার্গেটে বিদেশ ফেরতরা

আপডেট সময় ০৩:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চালক সেজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিতেন ডাকাত দলের সদস্যরা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের টার্গেট করে গন্তব্যে পৌঁছানোর নামে গাড়িতে তোলে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হতো।

আবার অনেক সময় প্রবাসীদের বহনকারী গাড়ি টার্গেট করে এগোতে থাকেন ডাকাত দলের সদস্যরা। নির্জন কোনো স্থানে গাড়ি পৌঁছানোর পর প্রবাসীর গাড়ি ঘিরে ধরে লুট করে নেওয়া হতো টাকা পয়সা-স্বর্ণলঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীসহ মাদারীপুর ও ফরিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতাররা হলেন- তৈয়ব আলী, মো. মিলন সরদার, মোছা. রীমা আক্তার হ্যাপি, মো. মনির হোসেন ও বিপুল দেবনাথ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়্যারলেস, একটি হ্যান্ডকাফ, নগদ ২৩ হাজার টাকা ও লুণ্ঠিত এক কেজি ৩৬৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ কারা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, প্রবাসী রাসেল ও সাইফুল গাবতলী যাওয়ার উদ্দেশে কাওলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিযোগে মিরপুর বেড়িবাঁধ যাওয়ার পথে আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ রোডে একটি গাড়ি তাদের সিএনজির গতিরোধ করে থামিয়ে দেয়। পরে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে সবকিছু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সেই মামলার তদন্তের সূত্রে ডাকাত দলের সদস্যদের নাম পাওয়া যায়। পরে রাজধানীসহ মাদারীপুর ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানার অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ডাকাত দলের সদস্যদের টার্গেটই থাকতো ভোর রাতে যারা এয়ারপোর্ট থেকে বিভিন্ন এলাকায় যান তাদের। তারা বিভিন্ন সময় সিএনজি বা অন্য কোনো গাড়ির চালক সেজে প্রবাসীদের নিজেদের গাড়িতে তুলতো। আবার অনেক সময় প্রবাসীদের ভাড়া করা গাড়িকে টার্গেট করে নিজেরা গাড়ি নিয়ে পিছু নিতো।

চালক পরিচয়ে প্রবাসীদের গাড়িতে ওঠানোর পর নির্জন স্থানে বা ফাঁকা রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হতো। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা আরেকটি গাড়ি নিয়ে প্রবাসীর গাড়িটিকে থামিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা-পয়সাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যেতো।

আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসী ঠিক করা কোনো সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো প্রাইভেট গাড়িকে টার্গেট করে তার পেছনে পেছনে অন্য একটি গাড়িতে করে ডাকাত দলের সদস্যরা যেতো। পরে একইভাবে গাড়িটি ফাঁকা রাস্তা বা নির্জন স্থানে গেলে সেই গাড়িটিকে থামিয়ে সবকিছু লুট করে নেওয়া হতো।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ওই ঘটনায় এয়ারপোর্টের কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রেফতাররা জানায়, তারা নাকি প্রবাসীদের চলাফেরা বা আকার-ইঙ্গিতে বুঝতে পারে কাদের কাছে মূল্যবান জিনিস রয়েছে।

এমন ধরনের ঘটনায় অনেকেই থানায় জানান না। এজন্য আমরা বিস্তারিত জানতে পারি না। আমরা মনে করি এ ধরনের ডাকাতির ক্ষেত্রে থানায় বিস্তারিত জানানো উচিত।