ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার রাজধানীর তিন পয়েন্ট অবরোধের ঘোষণা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশের কাছে হেরেই ২০২২ বিশ্বকাপ?

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

ফুটবলে কাতারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ! হোক না অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে, প্রতিপক্ষ কাতার তো! পেট্রো-ডলারের ঝনঝনানি যে দেশের ফুটবলের সর্বত্র। জাপান-কোরিয়া-ইরানের মতো না হলেও এশীয় ফুটবলে যে দেশের অবস্থানটা ওপরের দিকেই। সবচেয়ে বড় কথা যে দেশটি ২০২২ সালে স্বাগতিক হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের।
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯৬। কাতার ৮৫। নিজেদের চেয়ে ১১১ ধাপ এগিয়ে থাকা এই দলটির বিপক্ষে জিতেও বাংলাদেশ যেন পুরোপুরি তৃপ্ত নয়। পুরো ম্যাচে কাতারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেও ২-০ স্কোরলাইনটা কমই মনে হচ্ছে মোস্তফা আনোয়ার পারভেজের শিষ্যদের কাছে। আফসোস তো হচ্ছেই, আর একটা গোল বেশি হলেই যে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাতে পারত বাংলাদেশ।

চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাতে পারলে একটা বিষয় অন্তত নিশ্চিত হতো ফাহিম-দীপকদের। দলটির খেলোয়াড়েরা সুযোগ পেত দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে। অন্তত ২০১৮ পর্যন্ত তো এই অনুশীলন চলতই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যে মতিগতি, তাতে কাতার থেকে ফেরার পর অসম্ভব প্রতিভাবান এই দলটিকে তারা একসঙ্গে রাখবে কি না, সেটি নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠে গেছে ইতিমধ্যেই। প্রতিভা নষ্ট করে ফেলতে এ দেশের ফুটবল প্রশাসকদের যে জুড়ি মেলা ভার।

অনূর্ধ্ব-১৬ দলের আফসোসটা ঠিক এই জায়গাতেই। কাতারের যে দলটিকে বাংলাদেশ কাল হারাল, সে দলটিকে কাতার ফুটবল ফেডারেশন নাকি তৈরিই করছে ২০২২ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে কাতার যে খেলার সুযোগ পাচ্ছে সে বিশ্বকাপে। একবার ভাবুন তো, কাতারকে হারানো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সামনে যেখানে ‘ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ বলতে কিছুই নেই, সেখানে কাতারের এই খেলোয়াড়েরাই স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপ খেলার। এসব দেখে-শুনে আফসোস তো হতেই পারে।

সারা পৃথিবীর ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে যুব পরিকল্পনা দিয়ে। কাতারও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০২২ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়তে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলকে নিয়ে তারা করেছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যুব ফুটবলকে রীতিমতো ঢেলে সাজিয়েছে তারা। বাংলাদেশের কাছে হারা দলটি সে পরিকল্পনার অংশই। এএফসি বাছাইপর্বের আগে কাতার যেখানে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে, সেখানে বাংলাদেশের ঝুলিতে ছিল জুলাইয়ে নেপালের মাটিতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশের দুটি যুব দলের (অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৮) গত কয়েক দিনের পারফরম্যান্সে একটা জিনিস কিন্তু প্রমাণ হয়েই গেছে—এ দেশের ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। প্রয়োজন কেবল সুষ্ঠু পরিকল্পনা আর প্রতিভার পরিচর্যা। কাতারে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে ‘কর্মকর্তার আধিক্য’ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। এই ‘কর্মকর্তা’রা দেশে এসে এই দলটিকে ধরে রাখার ব্যাপারে বাফুফেকে কী পরামর্শ দেন, দেখার বিষয় সেটিই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় মামলা তুলে না নেওয়ায় সাক্ষীকে হত্যা

বাংলাদেশের কাছে হেরেই ২০২২ বিশ্বকাপ?

আপডেট সময় ১২:০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

ফুটবলে কাতারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ! হোক না অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে, প্রতিপক্ষ কাতার তো! পেট্রো-ডলারের ঝনঝনানি যে দেশের ফুটবলের সর্বত্র। জাপান-কোরিয়া-ইরানের মতো না হলেও এশীয় ফুটবলে যে দেশের অবস্থানটা ওপরের দিকেই। সবচেয়ে বড় কথা যে দেশটি ২০২২ সালে স্বাগতিক হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের।
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯৬। কাতার ৮৫। নিজেদের চেয়ে ১১১ ধাপ এগিয়ে থাকা এই দলটির বিপক্ষে জিতেও বাংলাদেশ যেন পুরোপুরি তৃপ্ত নয়। পুরো ম্যাচে কাতারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেও ২-০ স্কোরলাইনটা কমই মনে হচ্ছে মোস্তফা আনোয়ার পারভেজের শিষ্যদের কাছে। আফসোস তো হচ্ছেই, আর একটা গোল বেশি হলেই যে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাতে পারত বাংলাদেশ।

চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাতে পারলে একটা বিষয় অন্তত নিশ্চিত হতো ফাহিম-দীপকদের। দলটির খেলোয়াড়েরা সুযোগ পেত দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে। অন্তত ২০১৮ পর্যন্ত তো এই অনুশীলন চলতই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যে মতিগতি, তাতে কাতার থেকে ফেরার পর অসম্ভব প্রতিভাবান এই দলটিকে তারা একসঙ্গে রাখবে কি না, সেটি নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠে গেছে ইতিমধ্যেই। প্রতিভা নষ্ট করে ফেলতে এ দেশের ফুটবল প্রশাসকদের যে জুড়ি মেলা ভার।

অনূর্ধ্ব-১৬ দলের আফসোসটা ঠিক এই জায়গাতেই। কাতারের যে দলটিকে বাংলাদেশ কাল হারাল, সে দলটিকে কাতার ফুটবল ফেডারেশন নাকি তৈরিই করছে ২০২২ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে কাতার যে খেলার সুযোগ পাচ্ছে সে বিশ্বকাপে। একবার ভাবুন তো, কাতারকে হারানো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সামনে যেখানে ‘ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ বলতে কিছুই নেই, সেখানে কাতারের এই খেলোয়াড়েরাই স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপ খেলার। এসব দেখে-শুনে আফসোস তো হতেই পারে।

সারা পৃথিবীর ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে যুব পরিকল্পনা দিয়ে। কাতারও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০২২ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়তে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলকে নিয়ে তারা করেছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যুব ফুটবলকে রীতিমতো ঢেলে সাজিয়েছে তারা। বাংলাদেশের কাছে হারা দলটি সে পরিকল্পনার অংশই। এএফসি বাছাইপর্বের আগে কাতার যেখানে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে, সেখানে বাংলাদেশের ঝুলিতে ছিল জুলাইয়ে নেপালের মাটিতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশের দুটি যুব দলের (অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৮) গত কয়েক দিনের পারফরম্যান্সে একটা জিনিস কিন্তু প্রমাণ হয়েই গেছে—এ দেশের ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। প্রয়োজন কেবল সুষ্ঠু পরিকল্পনা আর প্রতিভার পরিচর্যা। কাতারে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে ‘কর্মকর্তার আধিক্য’ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। এই ‘কর্মকর্তা’রা দেশে এসে এই দলটিকে ধরে রাখার ব্যাপারে বাফুফেকে কী পরামর্শ দেন, দেখার বিষয় সেটিই।