ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুম্বাইয়ে বিরিয়ানি ও তরমুজ খেয়ে স্বামী-স্ত্রী ও দুই মেয়ের মৃত্যু মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ৮টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমে আসবে : বিদ্যুৎমন্ত্রী জলাবদ্ধতা নিরসন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার: সংসদে মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের রিট বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই : চিফ হুইপ

গাজীপুরে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় চোর সন্দেহে এক শিশুকে (৯) খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইনকিনি এলাকায় গত ৫ থেকে ৬ মাস ধরে ওই শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকে।

সে তার গ্রামের বাড়ির একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা কালিয়াকৈরের একটি কারখানায় এবং মা পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটির বাবা-মা তাদের কর্মস্থলে যান। পরে ওই শিশুটি চন্দ্রা এলাকায় ঘুরতে যায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু চন্দ্রা এলাকায় রঞ্জিত মেডিক্যাল হল নামে একটি ওষুধের ফার্মেসিতে ঢুকে। তখন ওষুধের ফার্মেসির মালিক মিছির কুমার ফার্মেসির বাইরে পানি আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় পাশের ভাই ভাই হার্ডওয়্যার দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন চোর সন্দেহে শিশুকে আটক করেন। পরে আনোয়ার ও মিছির মিলে তাকে রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এলোপাথারি মারধর করেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির মাকে খবর দিয়ে তার কাছে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু চুরি না করলেও চোর সন্দেহে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শিশুকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

শিশুটির মা বলেন, পুলিশের খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। তখন পুলিশ বলে, ছেলেকে নিয়ে যান। আমার ছেলে কি করেছে জানতে চাইলে আর কিছু বলেনি পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাকে বলেছে, ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে বেঁধে রেখে মারধর করেছে।

শিশু নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, না বলে সে দোকানে ঢুকেছিল। সুযোগ পেলে সে চুরি করতো।

অভিযুক্ত রঞ্জিত মেডিক্যাল হলের মালিক মিছির কুমার বলেন, আমি পানি আনতে ফার্মেসির বাইরে গিয়েছিলাম। এসে শুনি ফার্মেসিতে ঢুকে ওই শিশুটি আমার ক্যাশ বক্সে হাত দিয়েছে। কিন্তু টাকা চুরি করতে পারেনি। বিষয়টি টের পেয়ে পাশের দোকানদার তাকে আটক করে বেঁধে রাখেন। তাকে কয়েকটি থাপ্পড়ও দেওয়া হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বাঁধা পায়নি বা মারধর করতেও দেখা যায়নি। শিশুটির সঙ্গে অন্যায়ভাবে কিছু হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ছিনতাই শেষে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেওয়া হয় বুলেটকে

গাজীপুরে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় চোর সন্দেহে এক শিশুকে (৯) খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইনকিনি এলাকায় গত ৫ থেকে ৬ মাস ধরে ওই শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকে।

সে তার গ্রামের বাড়ির একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা কালিয়াকৈরের একটি কারখানায় এবং মা পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটির বাবা-মা তাদের কর্মস্থলে যান। পরে ওই শিশুটি চন্দ্রা এলাকায় ঘুরতে যায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু চন্দ্রা এলাকায় রঞ্জিত মেডিক্যাল হল নামে একটি ওষুধের ফার্মেসিতে ঢুকে। তখন ওষুধের ফার্মেসির মালিক মিছির কুমার ফার্মেসির বাইরে পানি আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় পাশের ভাই ভাই হার্ডওয়্যার দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন চোর সন্দেহে শিশুকে আটক করেন। পরে আনোয়ার ও মিছির মিলে তাকে রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এলোপাথারি মারধর করেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির মাকে খবর দিয়ে তার কাছে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু চুরি না করলেও চোর সন্দেহে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শিশুকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

শিশুটির মা বলেন, পুলিশের খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। তখন পুলিশ বলে, ছেলেকে নিয়ে যান। আমার ছেলে কি করেছে জানতে চাইলে আর কিছু বলেনি পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাকে বলেছে, ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে বেঁধে রেখে মারধর করেছে।

শিশু নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, না বলে সে দোকানে ঢুকেছিল। সুযোগ পেলে সে চুরি করতো।

অভিযুক্ত রঞ্জিত মেডিক্যাল হলের মালিক মিছির কুমার বলেন, আমি পানি আনতে ফার্মেসির বাইরে গিয়েছিলাম। এসে শুনি ফার্মেসিতে ঢুকে ওই শিশুটি আমার ক্যাশ বক্সে হাত দিয়েছে। কিন্তু টাকা চুরি করতে পারেনি। বিষয়টি টের পেয়ে পাশের দোকানদার তাকে আটক করে বেঁধে রাখেন। তাকে কয়েকটি থাপ্পড়ও দেওয়া হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বাঁধা পায়নি বা মারধর করতেও দেখা যায়নি। শিশুটির সঙ্গে অন্যায়ভাবে কিছু হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।