ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে ‘বড় হামলা’ এখনো শুরুই হয়নি: ট্রাম্প হামলা ও সংঘাতের ঘটনা বিশ্ব সভ্যতার জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের বিরুদ্ধে রায় এলে সংসদ বাতিল হয়ে যাবে: আসিফ সরকারকে বলব, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন: নাহিদ ইসলাম শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ছয় মাসে কী করবো জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবার বাহরাইনে বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি দূতাবাসের মোহাম্মদপুরে সার্ভিসিং সেন্টারে প্রাইভেটকারে আগুন, দগ্ধ ৮

গাজীপুরে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় চোর সন্দেহে এক শিশুকে (৯) খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইনকিনি এলাকায় গত ৫ থেকে ৬ মাস ধরে ওই শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকে।

সে তার গ্রামের বাড়ির একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা কালিয়াকৈরের একটি কারখানায় এবং মা পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটির বাবা-মা তাদের কর্মস্থলে যান। পরে ওই শিশুটি চন্দ্রা এলাকায় ঘুরতে যায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু চন্দ্রা এলাকায় রঞ্জিত মেডিক্যাল হল নামে একটি ওষুধের ফার্মেসিতে ঢুকে। তখন ওষুধের ফার্মেসির মালিক মিছির কুমার ফার্মেসির বাইরে পানি আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় পাশের ভাই ভাই হার্ডওয়্যার দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন চোর সন্দেহে শিশুকে আটক করেন। পরে আনোয়ার ও মিছির মিলে তাকে রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এলোপাথারি মারধর করেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির মাকে খবর দিয়ে তার কাছে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু চুরি না করলেও চোর সন্দেহে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শিশুকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

শিশুটির মা বলেন, পুলিশের খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। তখন পুলিশ বলে, ছেলেকে নিয়ে যান। আমার ছেলে কি করেছে জানতে চাইলে আর কিছু বলেনি পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাকে বলেছে, ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে বেঁধে রেখে মারধর করেছে।

শিশু নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, না বলে সে দোকানে ঢুকেছিল। সুযোগ পেলে সে চুরি করতো।

অভিযুক্ত রঞ্জিত মেডিক্যাল হলের মালিক মিছির কুমার বলেন, আমি পানি আনতে ফার্মেসির বাইরে গিয়েছিলাম। এসে শুনি ফার্মেসিতে ঢুকে ওই শিশুটি আমার ক্যাশ বক্সে হাত দিয়েছে। কিন্তু টাকা চুরি করতে পারেনি। বিষয়টি টের পেয়ে পাশের দোকানদার তাকে আটক করে বেঁধে রাখেন। তাকে কয়েকটি থাপ্পড়ও দেওয়া হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বাঁধা পায়নি বা মারধর করতেও দেখা যায়নি। শিশুটির সঙ্গে অন্যায়ভাবে কিছু হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় চোর সন্দেহে এক শিশুকে (৯) খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইনকিনি এলাকায় গত ৫ থেকে ৬ মাস ধরে ওই শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকে।

সে তার গ্রামের বাড়ির একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা কালিয়াকৈরের একটি কারখানায় এবং মা পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটির বাবা-মা তাদের কর্মস্থলে যান। পরে ওই শিশুটি চন্দ্রা এলাকায় ঘুরতে যায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু চন্দ্রা এলাকায় রঞ্জিত মেডিক্যাল হল নামে একটি ওষুধের ফার্মেসিতে ঢুকে। তখন ওষুধের ফার্মেসির মালিক মিছির কুমার ফার্মেসির বাইরে পানি আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় পাশের ভাই ভাই হার্ডওয়্যার দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন চোর সন্দেহে শিশুকে আটক করেন। পরে আনোয়ার ও মিছির মিলে তাকে রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এলোপাথারি মারধর করেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির মাকে খবর দিয়ে তার কাছে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু চুরি না করলেও চোর সন্দেহে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শিশুকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

শিশুটির মা বলেন, পুলিশের খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। তখন পুলিশ বলে, ছেলেকে নিয়ে যান। আমার ছেলে কি করেছে জানতে চাইলে আর কিছু বলেনি পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাকে বলেছে, ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে বেঁধে রেখে মারধর করেছে।

শিশু নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, না বলে সে দোকানে ঢুকেছিল। সুযোগ পেলে সে চুরি করতো।

অভিযুক্ত রঞ্জিত মেডিক্যাল হলের মালিক মিছির কুমার বলেন, আমি পানি আনতে ফার্মেসির বাইরে গিয়েছিলাম। এসে শুনি ফার্মেসিতে ঢুকে ওই শিশুটি আমার ক্যাশ বক্সে হাত দিয়েছে। কিন্তু টাকা চুরি করতে পারেনি। বিষয়টি টের পেয়ে পাশের দোকানদার তাকে আটক করে বেঁধে রাখেন। তাকে কয়েকটি থাপ্পড়ও দেওয়া হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বাঁধা পায়নি বা মারধর করতেও দেখা যায়নি। শিশুটির সঙ্গে অন্যায়ভাবে কিছু হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।