আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দুর্নীতির কারণে সরকার করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোনো ইস্যু না পেয়ে সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য জিয়াউর রহমানকে ইস্যু বানাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ‘প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে টিকা নেই। তারা টিকা সংগ্রহে দুর্নীতির কারণে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মাথায় সবসময় থাকে কোনটাতে কমিশন পাবো, কোনটাতে বেশি পাবো। এর ফলে চীন-রাশিয়া যখন এলো তখন তারা বিদায় করে দিয়েছে। পরে ভারতের সঙ্গে তিন কোটি টিকার জন্য অগ্রিম পেমেন্ট করেছে। কিন্তু ৭০ লাখের বেশি টিকা পেল না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোতিষবিদ হলে ভালো হতো। তিনি প্রতিদিন বলছেন, এই পাঁচ লাখ টিকা আসছে, ১০ লাখ ডিসেম্বরে আসবে। এসব তিনি জ্যোতিষির মতো কথা বলছেন। প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে টিকা নেই। তারা টিকা সংগ্রহে দুর্নীতির কারণে ব্যর্থ হয়েছেন।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেন জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা বলছে, মুক্তিযুদ্ধে যোগদান নিয়ে কথা বলছে। কারণ তাদের আর কিছু নেই। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেজন্যই তারা এ সমস্ত ইস্যু নিয়ে আসছে। অথচ ইস্যু হচ্ছে টিকা। মানুষকে বাঁচাতে হলে টিকা দরকার। এপর্যন্ত ৪ শতাংশ মানুষকেও টিকা দিতে পারেনি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্নীতি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে এই সমস্ত ইস্যু তৈরি করে। গণতন্ত্র আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ কোনোদিন গণতন্ত্র বিশ্বাস করেনি বলে আজকে দেশের এই অবস্থা। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করেছে।’
ফখরুল বলেন, ‘মানুষের দৃষ্টি সবসময় অন্যদিকে নিতে চায় আসল বিষয় থেকে। যেটা ইস্যু না, যেমন কোথাকার কোন পরীমনি তাকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।’
আজকের এই সংকট সমগ্র জাতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকটের ফলে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে সে সংকট আর বিপন্ন হবে। আওয়ামী লীগ আমাদের সব কিছুকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে কয়েক বছর হয়ে গেছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে। অথচ একটা রোহিঙ্গাও ফেরত পাঠাতে পারলো না সরকার। কারণ তাদের নতজানু কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি। যে দুইটি দেশ মূল ভূমিকা পালন করে চীন ও ভারত। তাদের কাছে কথা বলার সাহস নেই সরকারের।’
ফখরুল বলেন, ‘কেউ এসে আমাদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা করে দিয়ে যাবে না। আমরা কোন জায়গায় পৌঁছেছি যে, গণতন্ত্রের জন্য যিনি আপসহীন সংগ্রাম করলেন তিনি গৃহে অন্তরীণ হয়ে আছেন। এখন পর্যন্ত তাকে মুক্ত করতে পারিনি। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের দেশের মানুষের ব্যার্থতা, এটা স্বীকার করতে কোনো আপত্তি নেই।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাজী জাফর নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি সারাজীবন রাজনীতি করে গেছেন। তিনি স্থির থাকেননি, তবে লক্ষ্য ছিল একটা কীভাবে জনগণের কল্যাণ করা যায়। একই সঙ্গে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। জাফর ভাইয়ের স্মৃতি অম্লান থাককু, তার বেহেশত কামনা করছি।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















