ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গুমের দায় সরকারকেই নিতে হবে: মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গুম হওয়া পরিবারের অসহায়ত্বের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী দিবস উপলক্ষে বিএনপির মানবাধিকার সেলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ পরিবারগুলোর অসহায়ত্বের দায় কে নেবে? এখানে অনেকে আছেন যে, ৯ বছর ১০ বছর ধরে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, ঢাকার কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আজকে আমাদের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন ৭/৮/৯ বছর ধরে। ইলিয়াস আলীর মেয়ে এখন বড় হয়েছে, সে এখনও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে যে, কখন তার বাবা ফিরে আসবে? বাবা ফিরে আসে না। বাচ্চাদের আহাজারি আপনারা শুনলেন। আপনারা (সরকার) বলেন যে, এগুলো (গুম) হয় না। তাহলে গেল কোথায়? দায়িত্ব তো আপনাদের। তাদের খুঁজে বের করেন। তাদের পরিবারের কাছে একে একে ফেরত দিন। এটা অবশ্যই আপনাদের দিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় আপনাদের তার জবাব দিতে হবে। জনগণের আদালতে আপনাদের বিচার করা হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেগময় আকুতিতে উপস্থিত অনেককে অশ্রুসজল হতে দেখা গেছে। কেউ কেউ তার বাবার ছবি, কেউ তার ভাইয়ের ছবি, কেউ তার সন্তানের ছবি, কেউ তার স্বামীর ছবি হাতে নিয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এমন দেশ এমন রাষ্ট্র আমরা বানালাম যেখানে আমার সন্তানেরা নিখোঁজ হয়ে যাবে, তাদের হদিস কেউ খুঁজে পাবে না এবং সেটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী লোকেরা তাদের তুলে নিয়ে যাবে সরকার তার কোনো জবাব দেবে না। আমরা তো আমাদের চোখের পানি রাখতে পারি না। অসহায়ত্বের বেদনার যন্ত্রণা আমাদের পুড়ে পুড়ে খায়। তোমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, আমরা আর কিছু না করতে পারি, আমরা শুধু তোমাদের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই যে, আমার ভাইকে, আমার বাবাকে, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও।

তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই। আসুন আজকের এদিনে আমরা গুমের যে কালচার সেই কালচারকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সবাই সোচ্চার হই। আমরা জোর গলায় বলে উঠি যে, বন্ধ করো এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দাও।

ফখরুল বলেন, এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আজকে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বেআইনিভাবে অবৈধভাবে গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের সংবিধানকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, গোটা প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমাদের উচিত হবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করে একটা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, গুম হওয়া আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রাইসা, মো. সোহেলের মেয়ে সাবা, মো. কাউসারের মেয়ে মীম, সেলিম রেজার বোন রেহানা আখতার মুন্নী, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আখি ও খালেদ হোসেনের মেয়ে শাম্মী আখতার নিপা বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রুটস ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ডসের চূড়ান্ত তালিকায় ভিয়েতনামের দা নাং বিমানবন্দর

গুমের দায় সরকারকেই নিতে হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গুম হওয়া পরিবারের অসহায়ত্বের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী দিবস উপলক্ষে বিএনপির মানবাধিকার সেলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ পরিবারগুলোর অসহায়ত্বের দায় কে নেবে? এখানে অনেকে আছেন যে, ৯ বছর ১০ বছর ধরে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, ঢাকার কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আজকে আমাদের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন ৭/৮/৯ বছর ধরে। ইলিয়াস আলীর মেয়ে এখন বড় হয়েছে, সে এখনও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে যে, কখন তার বাবা ফিরে আসবে? বাবা ফিরে আসে না। বাচ্চাদের আহাজারি আপনারা শুনলেন। আপনারা (সরকার) বলেন যে, এগুলো (গুম) হয় না। তাহলে গেল কোথায়? দায়িত্ব তো আপনাদের। তাদের খুঁজে বের করেন। তাদের পরিবারের কাছে একে একে ফেরত দিন। এটা অবশ্যই আপনাদের দিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় আপনাদের তার জবাব দিতে হবে। জনগণের আদালতে আপনাদের বিচার করা হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেগময় আকুতিতে উপস্থিত অনেককে অশ্রুসজল হতে দেখা গেছে। কেউ কেউ তার বাবার ছবি, কেউ তার ভাইয়ের ছবি, কেউ তার সন্তানের ছবি, কেউ তার স্বামীর ছবি হাতে নিয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এমন দেশ এমন রাষ্ট্র আমরা বানালাম যেখানে আমার সন্তানেরা নিখোঁজ হয়ে যাবে, তাদের হদিস কেউ খুঁজে পাবে না এবং সেটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী লোকেরা তাদের তুলে নিয়ে যাবে সরকার তার কোনো জবাব দেবে না। আমরা তো আমাদের চোখের পানি রাখতে পারি না। অসহায়ত্বের বেদনার যন্ত্রণা আমাদের পুড়ে পুড়ে খায়। তোমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, আমরা আর কিছু না করতে পারি, আমরা শুধু তোমাদের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই যে, আমার ভাইকে, আমার বাবাকে, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও।

তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই। আসুন আজকের এদিনে আমরা গুমের যে কালচার সেই কালচারকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সবাই সোচ্চার হই। আমরা জোর গলায় বলে উঠি যে, বন্ধ করো এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দাও।

ফখরুল বলেন, এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আজকে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বেআইনিভাবে অবৈধভাবে গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের সংবিধানকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, গোটা প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমাদের উচিত হবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করে একটা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, গুম হওয়া আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রাইসা, মো. সোহেলের মেয়ে সাবা, মো. কাউসারের মেয়ে মীম, সেলিম রেজার বোন রেহানা আখতার মুন্নী, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আখি ও খালেদ হোসেনের মেয়ে শাম্মী আখতার নিপা বক্তব্য রাখেন।