আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনির মুক্তি দাবি করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। বারবার রিমান্ডে নিয়ে তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
রবিবার (২২ আগস্ট) বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘পরীমনির জন্য ন্যায়বিচার চাই’ শিরোনামে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বক্তব্য দেন।
ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘পরীমনিকে নিয়ে যেটা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, গণমাধ্যমে কোনো কিছু সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে সাবস্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য, এটা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। একটা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে নারীকে সবসময় খাটো করা হেয় করার একটা মনোবৃত্তি আমরা সবসময় লক্ষ্য করি। পরীমনিকে কেন এত বারবার রিমান্ডে যেতে হবে, আদালত কেন একটা সুয়োমুটো আদেশ জারি করবে না পুলিশের বিরুদ্ধে। একবার রিমান্ড যথেষ্ট, সেজন্য তো এতবার রিমান্ডে নেয়ার দরকার হয় না।’
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘একজন মানুষ যিনি একটা অপরাধের শিকার হয়ে একসময় মামলা করেছে সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নানাভাবে প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং হেনস্থা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাকে হেনস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিজের হাতেই তুলে নিছে। তার জন্য আজকে আমরা দাঁড়িয়েছি আর এটার থেকে দুঃখজনক ও বিব্রতকর কোনো ঘটনা সমাজে হতে পারে না।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘শিশুর বয়সী একজন নারীকে যেভাবে র্যাবের দ্বারা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। র্যাবের মতো একটা এলিট ফোর্স দ্বারা কারো বাড়িতে মাদক আছে কি না এটার দেখার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। অপরাধের সংজ্ঞায় ফেলে সন্তেহজনকভাবে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে এবং হয়তো কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত তার বিচার শুরুই হয়নি কিন্তু অভিযুক্তের ন্যায় প্রতিনিয়তই দোষারোপ করা হচ্ছে, কুৎসা রটানো হচ্ছে এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
লেখক, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট শাশ্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘আজকে যারা পরিমনির বিচার চাচ্ছেন, পরীমনির মুক্তি চাচ্ছেন না, তার প্রতি যে অন্যায় হচ্ছে সেটার প্রতিকার চাচ্ছেন না, আপনাকেও কালকে যদি সামান্য মদ খাওয়ার অভিযোগে আটক করে রাখা হয় সেটা ভালো লাগবে? আমি জানি আজকে যেসব সংবাদপত্রগুলো, যে মানুষেগুলো পরীমনির মদ খাওয়া বিষয়ে তার চরিত্র নিয়ে ট্রল করছেন প্রায় শতভাগকে যদি আজ আমি বিনা পয়সায় মদ খেতে ডাকি তারা ভিখারির মতো এসে মদ খেতে বসে যাবে। পরীমনি যদি তাদের কারো সাথে সাক্ষাতের জন্য ডাকে তবে তারা ভিখারির মতো ছুটে যাবে।’
বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া সোসাইটির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘পরীমনিকে আটক করার জন্য কিছু নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে আর র্যাব সেটাকে সুকৌশলে ডিরেকশন দিয়ে মঞ্চস্থ করিয়েছে। এদেশের একজন নারী ও নাগরিক হিসেবে তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খাঁন আসাদুজ্জামান মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা।
এছাড়াও সমাবেশে সরাসরি বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, চলচ্চিত্র নির্মাতা অপরাজিতা সঙ্গিতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা রশিদ পলাশ, হাবিবুর রহমান হাবিব, মানবাধিকার কর্মী মুঞ্জুনন্নাহার, সংগঠক শতাব্দী ভব, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগাঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























