ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি ব্যাংকারদের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঋণ ও আমানতের সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। তারা মনে করেন সুদহার বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমেই নির্ধারণ হোক।

এতে আমানতকারী, ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতা সবার জন্য মঙ্গল।

দীর্ঘদিন পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা গর্ভনরের কাছে এ দাবি জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

ব্যাংকার্স সভায় নিয়মিত কার্যবিবরণীর নির্দেশনার আলোকে সব ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক চলুক গর্ভনরের কাছে এমনটা চেয়েছেন এমডিরা। তারা মনে করেন আমানত ও ঋণের সুদহারও বাজার ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সুদহার বেঁধে দেয় তাহলে ব্যাংক পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আমানতে সুদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেয় যে মেয়াদী আমানতের সুদের হার মূল্যস্ফীতির সুদের হারের নিচে হতে পারবে না। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো। অর্থাৎ আমানতের সুদের হারও হবে সাড়ে পাঁচ শতাংশ।

এমডিদের অনুরোধের কারণে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, এ বিষয়ে আরও কাজ করার আছে। সঞ্চয়পত্রের মতো মেয়াদী আমানতের সুদের হারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ করা যায় কিনা সে বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সভায় এ বিষয়ে কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পুর্ব র্নিধারিত আলোচনা শেষে এমডিরা সুদহারের বিষয়ে কথা বলেন।

তারা বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ঋণের সুদহার কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ শতাংশেও ঋণ দিতে হচ্ছে। এটা বাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই হয়েছে।

অন্যদিকে আমানতের সুদহার যদি সাড়ে পাঁচ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয় তাহলে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ব্যাংক চালানোই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। কারণ বেশিরভাগ ব্যাংকেরই ব্যক্তি আমানত ও মেয়াদী আমানত ৩০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে এখন ব্যাংকগুলো মানুষের দোরগোড়ায় যাচ্ছে।

ব্র্যাঞ্চ ব্যাংকিং বা ক্ষুদ্র পর্যায়ে কার্যক্রম চালাতে ব্যাংকের খরচ এখন বেশি হচ্ছে। এজন্য আমানতে যদি সুদ বেশি দেওয়া লাগে তাহলে ব্যাংক লোকসান করবে। এমন পরিস্থিতিতে সুদহার নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন যাতে বাস্তবায়ন না করা লাগে এমন আবদার করেছেন ব্যাংকগুলোর এমডিরা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ আমানতই যখন ব্যক্তি পর্যায়ের তাহলে আমানতে সুদ কম দেওয়া মানে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্পন্সর বা ব্যাংক পরিচালকদের বেশি করে ডিভিডেন্ড দিয়ে তাদের লাভবান করা হচ্ছে। যেখানে পরিচালকরা ৩৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড পাচ্ছে। সেখানে যদি সাধারণ আমানতকারীরা ৩ শতাংশ পায় তাহলে তাদের সঙ্গে বৈষম্য ছাড়া আর কিছু নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি ব্যাংকারদের

আপডেট সময় ০৬:০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঋণ ও আমানতের সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। তারা মনে করেন সুদহার বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমেই নির্ধারণ হোক।

এতে আমানতকারী, ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতা সবার জন্য মঙ্গল।

দীর্ঘদিন পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা গর্ভনরের কাছে এ দাবি জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

ব্যাংকার্স সভায় নিয়মিত কার্যবিবরণীর নির্দেশনার আলোকে সব ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক চলুক গর্ভনরের কাছে এমনটা চেয়েছেন এমডিরা। তারা মনে করেন আমানত ও ঋণের সুদহারও বাজার ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সুদহার বেঁধে দেয় তাহলে ব্যাংক পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আমানতে সুদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেয় যে মেয়াদী আমানতের সুদের হার মূল্যস্ফীতির সুদের হারের নিচে হতে পারবে না। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো। অর্থাৎ আমানতের সুদের হারও হবে সাড়ে পাঁচ শতাংশ।

এমডিদের অনুরোধের কারণে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, এ বিষয়ে আরও কাজ করার আছে। সঞ্চয়পত্রের মতো মেয়াদী আমানতের সুদের হারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ করা যায় কিনা সে বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সভায় এ বিষয়ে কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পুর্ব র্নিধারিত আলোচনা শেষে এমডিরা সুদহারের বিষয়ে কথা বলেন।

তারা বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ঋণের সুদহার কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ শতাংশেও ঋণ দিতে হচ্ছে। এটা বাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই হয়েছে।

অন্যদিকে আমানতের সুদহার যদি সাড়ে পাঁচ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয় তাহলে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ব্যাংক চালানোই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। কারণ বেশিরভাগ ব্যাংকেরই ব্যক্তি আমানত ও মেয়াদী আমানত ৩০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে এখন ব্যাংকগুলো মানুষের দোরগোড়ায় যাচ্ছে।

ব্র্যাঞ্চ ব্যাংকিং বা ক্ষুদ্র পর্যায়ে কার্যক্রম চালাতে ব্যাংকের খরচ এখন বেশি হচ্ছে। এজন্য আমানতে যদি সুদ বেশি দেওয়া লাগে তাহলে ব্যাংক লোকসান করবে। এমন পরিস্থিতিতে সুদহার নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন যাতে বাস্তবায়ন না করা লাগে এমন আবদার করেছেন ব্যাংকগুলোর এমডিরা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ আমানতই যখন ব্যক্তি পর্যায়ের তাহলে আমানতে সুদ কম দেওয়া মানে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্পন্সর বা ব্যাংক পরিচালকদের বেশি করে ডিভিডেন্ড দিয়ে তাদের লাভবান করা হচ্ছে। যেখানে পরিচালকরা ৩৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড পাচ্ছে। সেখানে যদি সাধারণ আমানতকারীরা ৩ শতাংশ পায় তাহলে তাদের সঙ্গে বৈষম্য ছাড়া আর কিছু নয়।