ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয় মানবকল্যাণ চাই । এটাই হোক আমাদের সকলের লক্ষ্য । জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর পৌনে ৬টায় ভাষণ শুরু করেন তিনি।

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক প্রথম ভাষণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো এখানে ভাষণ দেয়ার সময় এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তার অঙ্গীকারের কথা বলে গেছেন।

তিনি বলেন, সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন: ‘এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি উৎসর্গীকৃত, যে ব্যবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে। এবং আমি জানি আমাদের এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মধ্যে আমাদের লাখ লাখ শহীদের বিদেহী আত্মার স্মৃতি নিহীত রয়েছে।’

শান্তির প্রতি তার অঙ্গীকার পূণর্ব্যাক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই আমরা শান্তি-কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে চলেছি। এ উপলব্ধি থেকেই সাধারণ পরিষদে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ‘শান্তির সংস্কৃতি’ (কালচার অব পিস) শীর্ষক প্রস্তাব পেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর আহবান পূণর্ব্যাক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং ভ্রাতৃপ্রতীম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য এবং শত্রুতা নিরসনের জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, শান্তিবিনির্মাণে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে ‘অব্যাহত শান্তি’র জন্য অর্থায়ন বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছ থেকে আমরা সাহসী এবং উদ্ভাবনমূলক প্রস্তাব প্রত্যাশা করছি।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ তহবিলে’ ১ লাখ মার্কিন ডলার প্রতীকী অনুদান প্রদানের ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনসমূহের কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সমুন্নত রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমরা আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বজায় রেখে চলছি। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অঙ্গীকার প্রদান, শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং অধিক সংখ্যায় নারী শান্তিরক্ষী মোতায়েনে আমরা সদা প্রস্তুত রয়েছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০২:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয় মানবকল্যাণ চাই । এটাই হোক আমাদের সকলের লক্ষ্য । জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর পৌনে ৬টায় ভাষণ শুরু করেন তিনি।

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক প্রথম ভাষণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো এখানে ভাষণ দেয়ার সময় এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তার অঙ্গীকারের কথা বলে গেছেন।

তিনি বলেন, সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন: ‘এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি উৎসর্গীকৃত, যে ব্যবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে। এবং আমি জানি আমাদের এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মধ্যে আমাদের লাখ লাখ শহীদের বিদেহী আত্মার স্মৃতি নিহীত রয়েছে।’

শান্তির প্রতি তার অঙ্গীকার পূণর্ব্যাক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই আমরা শান্তি-কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে চলেছি। এ উপলব্ধি থেকেই সাধারণ পরিষদে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ‘শান্তির সংস্কৃতি’ (কালচার অব পিস) শীর্ষক প্রস্তাব পেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর আহবান পূণর্ব্যাক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং ভ্রাতৃপ্রতীম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য এবং শত্রুতা নিরসনের জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, শান্তিবিনির্মাণে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে ‘অব্যাহত শান্তি’র জন্য অর্থায়ন বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছ থেকে আমরা সাহসী এবং উদ্ভাবনমূলক প্রস্তাব প্রত্যাশা করছি।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ তহবিলে’ ১ লাখ মার্কিন ডলার প্রতীকী অনুদান প্রদানের ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনসমূহের কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সমুন্নত রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমরা আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বজায় রেখে চলছি। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অঙ্গীকার প্রদান, শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং অধিক সংখ্যায় নারী শান্তিরক্ষী মোতায়েনে আমরা সদা প্রস্তুত রয়েছি।