ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘পুরোনো সংবিধানের কথা বললে হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় হবে কি না, সিদ্ধান্ত সংসদে: ইসি আনোয়ারুল ভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচলের কারণে যানবাহনের গতি বেড়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা খামেনি হত্যার প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ, ইসরাইলি পতাকায় আগুন বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য জোগাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র’ ইসরায়েলকে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর ১০ মার্চ কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মেট্রোরেল ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন শিক্ষার্থীসহ যারা, জানালেন মন্ত্রী

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে বেশিরভাগ পশ্চিমা শক্তিধর দেশ।

রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে সোমবার রাতে হয় মন্ত্রিপর্যায়ের ওই বৈঠক। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন আয়োজিত বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলও অংশ নেয়। খবর বাসসের

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব এম. শহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অধিকাংশ দেশ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি’র ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে মিয়ানমার নেত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং তুন রোহিঙ্গা নির্যাতনের ওপর বিভিন্ন প্রতিবেদন, ছবি ও তথ্যকে মনগড়া অভিহিত করে অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাকে জানান, তারা ওই অঞ্চলের বাস্তবিক অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন।’

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে ৪ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ এ হত্যাকাণ্ডকে জাতিগত নিমূর্ল হিসেবে অ্যাখা দিয়েছে।। এ ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে সু চি এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাননি।

বৈঠকে রাখাইনে চলমান সহিংসতাকে রোহিঙ্গা নির্মূল হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব। এতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, রাশিয়া, সুইডেন, সুইজাল্যান্ড, চীন, ডেনমার্ক, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীরা রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় ও অন্যান্য সাহায্য করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দ্রুত তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকের উদ্যোক্তা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতাকে মিয়ানমারের জন্য একটি কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এ কর্মকাণ্ড বন্ধে অং সান সু চি ও তার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে জনসন বলেন, ‘যখন মিয়ানমার গত কয়েক বছরে গণতন্ত্রের উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশটির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করল।’

এই সহিংসতা বন্ধ করা মিয়ানমার নেত্রী সু চি ও সরকারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে তিনি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান

আপডেট সময় ১২:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে বেশিরভাগ পশ্চিমা শক্তিধর দেশ।

রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে সোমবার রাতে হয় মন্ত্রিপর্যায়ের ওই বৈঠক। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন আয়োজিত বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলও অংশ নেয়। খবর বাসসের

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব এম. শহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অধিকাংশ দেশ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি’র ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে মিয়ানমার নেত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং তুন রোহিঙ্গা নির্যাতনের ওপর বিভিন্ন প্রতিবেদন, ছবি ও তথ্যকে মনগড়া অভিহিত করে অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাকে জানান, তারা ওই অঞ্চলের বাস্তবিক অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন।’

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে ৪ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ এ হত্যাকাণ্ডকে জাতিগত নিমূর্ল হিসেবে অ্যাখা দিয়েছে।। এ ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে সু চি এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাননি।

বৈঠকে রাখাইনে চলমান সহিংসতাকে রোহিঙ্গা নির্মূল হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব। এতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, রাশিয়া, সুইডেন, সুইজাল্যান্ড, চীন, ডেনমার্ক, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীরা রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় ও অন্যান্য সাহায্য করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দ্রুত তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকের উদ্যোক্তা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতাকে মিয়ানমারের জন্য একটি কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এ কর্মকাণ্ড বন্ধে অং সান সু চি ও তার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে জনসন বলেন, ‘যখন মিয়ানমার গত কয়েক বছরে গণতন্ত্রের উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশটির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করল।’

এই সহিংসতা বন্ধ করা মিয়ানমার নেত্রী সু চি ও সরকারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে তিনি জানান।