ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন

বিএনপির এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না, তাদের জয় একদিন হবেই বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

আওয়ামী লীগ ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ মুজিব রহমানকে আওয়ামী লীগই ছোট করছে। আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ বিএনপি সেখানে সফল।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্যমন্ত্রী সব মিথ্যে বলেন। তিনি সম্ভবত হিটলারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মীরা বারবার মিথ্যে বলতে বলতে একবার সত্য বলে ফেলে। তাদের মুখ দিয়ে সত্যটা বেরিয়ে আসে।’

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আশাহত না হয়ে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান, ইনশাল্লাহ জয় আমাদের আসবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তারা সেদিন থেকে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। আমরা শুরু থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অনেকের বয়স এখন সত্তরের উপরে, অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমাদের আন্দোলন করা সম্ভব হয় না। আজীবন দেশের ইতিহাসে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের যুবকরা বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর সমস্ত অন্যায় ও আওয়ামীবিরোধী আন্দোলন যুবকদের শুরু করতে হবে। আন্দোলন শুরু হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, এরপর সে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে যায়।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জেগে উঠতে হবে, জাগাতে হবে। যুবকরা কোথায়? অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি সবসময় সোচ্চার আছে। এখনও জেল জুলুম ও নির্যাতিত হচ্ছে। আমার নামেও অনেক মামলা রয়েছে, হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার করে আসছে। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াকে আওয়ামী লীগ খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করছে। আমি বলতে চাই, মেজর জিয়াউর রহমান এ দেশের রাষ্ট্রনায়ক। তিনি যদি সেদিন স্বাধীনতার হাল না ধরতেন তাহলে এ দেশে কখনো স্বাধীন হতো না। কাজেই জিয়াউর রহমানের সমালোচনা থেকে আওয়ামী লীগের দূরে থাকা উচিত।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, ‘৭২ সালের সংবিধানকে আজ কেটে-ছিঁড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ধ্বংস করছে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় বহাল করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিদেশে টাকা প্রচার ঠেকানো যাচ্ছে না। তারা বিভিন্নভাবে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ না করলে পরিণতি ভালো হবে না।’ পদ-পদবির জন্য নেতাকর্মীদের রাজনীতি না করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

খাবারের মান নিয়ে সমালোচনার জবাবে ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের স্পষ্টীকরণ

বিএনপির এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না: ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:৩২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না, তাদের জয় একদিন হবেই বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

আওয়ামী লীগ ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ মুজিব রহমানকে আওয়ামী লীগই ছোট করছে। আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ বিএনপি সেখানে সফল।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্যমন্ত্রী সব মিথ্যে বলেন। তিনি সম্ভবত হিটলারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মীরা বারবার মিথ্যে বলতে বলতে একবার সত্য বলে ফেলে। তাদের মুখ দিয়ে সত্যটা বেরিয়ে আসে।’

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আশাহত না হয়ে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান, ইনশাল্লাহ জয় আমাদের আসবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তারা সেদিন থেকে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। আমরা শুরু থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অনেকের বয়স এখন সত্তরের উপরে, অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমাদের আন্দোলন করা সম্ভব হয় না। আজীবন দেশের ইতিহাসে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের যুবকরা বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর সমস্ত অন্যায় ও আওয়ামীবিরোধী আন্দোলন যুবকদের শুরু করতে হবে। আন্দোলন শুরু হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, এরপর সে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে যায়।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জেগে উঠতে হবে, জাগাতে হবে। যুবকরা কোথায়? অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি সবসময় সোচ্চার আছে। এখনও জেল জুলুম ও নির্যাতিত হচ্ছে। আমার নামেও অনেক মামলা রয়েছে, হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার করে আসছে। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াকে আওয়ামী লীগ খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করছে। আমি বলতে চাই, মেজর জিয়াউর রহমান এ দেশের রাষ্ট্রনায়ক। তিনি যদি সেদিন স্বাধীনতার হাল না ধরতেন তাহলে এ দেশে কখনো স্বাধীন হতো না। কাজেই জিয়াউর রহমানের সমালোচনা থেকে আওয়ামী লীগের দূরে থাকা উচিত।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, ‘৭২ সালের সংবিধানকে আজ কেটে-ছিঁড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ধ্বংস করছে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় বহাল করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিদেশে টাকা প্রচার ঠেকানো যাচ্ছে না। তারা বিভিন্নভাবে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ না করলে পরিণতি ভালো হবে না।’ পদ-পদবির জন্য নেতাকর্মীদের রাজনীতি না করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।