ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন

মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেয়া অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসসহ দলের চারজনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ (আমলি আদালত বোয়ালিয়া) এ মামলাটি করা হয়।

সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী মোসাব্বিরুল ইসলাম মামলার বাদী। তার আইনজীবী হিসেবে মামলাটি আদালতে দাখিল করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্পাদক আইনজীবী আসলাম সরকার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম মামলার বাদীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন।

তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেয়া হবে। মামলা দায়ের করার সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা আদালতে যান।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। কটাক্ষ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও। এর প্রতিবাদ করে মহানগর আওয়ামী লীগ মিনুকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। ক্ষমা না চাইলে মামলা করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মিনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।

আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর মিনু গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় গত ৯ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক সেটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে পুলিশ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক মামলার আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দিয়ে আবেদনটি আবার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্রসহ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় বলা হয়, গত ২ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপির এই চার নেতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’

এতে আরও বলা হয়, মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। দলটির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উত্থাতের প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ করেছেন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিপদজনক ও হুমকিস্বরূপ। তাই এই মামলা করা হলো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে টানাপোড়েন: কমেছে কর্মী গমন

মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

আপডেট সময় ০১:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেয়া অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসসহ দলের চারজনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ (আমলি আদালত বোয়ালিয়া) এ মামলাটি করা হয়।

সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী মোসাব্বিরুল ইসলাম মামলার বাদী। তার আইনজীবী হিসেবে মামলাটি আদালতে দাখিল করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্পাদক আইনজীবী আসলাম সরকার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম মামলার বাদীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন।

তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেয়া হবে। মামলা দায়ের করার সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা আদালতে যান।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। কটাক্ষ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও। এর প্রতিবাদ করে মহানগর আওয়ামী লীগ মিনুকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। ক্ষমা না চাইলে মামলা করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মিনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।

আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর মিনু গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় গত ৯ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক সেটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে পুলিশ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক মামলার আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দিয়ে আবেদনটি আবার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্রসহ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় বলা হয়, গত ২ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপির এই চার নেতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’

এতে আরও বলা হয়, মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। দলটির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উত্থাতের প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ করেছেন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিপদজনক ও হুমকিস্বরূপ। তাই এই মামলা করা হলো।