ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রেজাউল করিম (৩০) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিবর্তে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

রেজাউল করিমের বাবার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বরিশালের আদালত এ ঘটনা পুলিশকে (পিবিআই) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ (বুধবার) হাইকোর্ট বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ পুলিশের পরিবর্তে এখন বিচারিক তদন্ত হবে।

গত বছর ২৯ ডিসেম্বর বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান রেজাউল। পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরে এ অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রেজাউলের বাবা ইউনুস মুন্সী। মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে হামিদ খান সড়কে রেজাউলকে একা পেয়ে বিনা অপরাধে মারধর করেন এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজন। এরপর তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতভর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন তাকে অসুস্থ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ১ জানুয়ারি রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাতে রেজাউল মারা যান।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ওইদিনই মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেন রেজাউলের বাবা। আবেদনে বিচারিক তদন্তের আরজি জানানো হয়।

কোন যুক্তিতে মামলার বাদী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। আর মামলাটির তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তাই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে বাদীর সংশয় তৈরি হয়েছে। যে কারণে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এ আবেদন করেন বাদী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৬:১৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রেজাউল করিম (৩০) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিবর্তে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

রেজাউল করিমের বাবার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বরিশালের আদালত এ ঘটনা পুলিশকে (পিবিআই) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ (বুধবার) হাইকোর্ট বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ পুলিশের পরিবর্তে এখন বিচারিক তদন্ত হবে।

গত বছর ২৯ ডিসেম্বর বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান রেজাউল। পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরে এ অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রেজাউলের বাবা ইউনুস মুন্সী। মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে হামিদ খান সড়কে রেজাউলকে একা পেয়ে বিনা অপরাধে মারধর করেন এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজন। এরপর তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতভর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন তাকে অসুস্থ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ১ জানুয়ারি রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাতে রেজাউল মারা যান।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ওইদিনই মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেন রেজাউলের বাবা। আবেদনে বিচারিক তদন্তের আরজি জানানো হয়।

কোন যুক্তিতে মামলার বাদী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। আর মামলাটির তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তাই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে বাদীর সংশয় তৈরি হয়েছে। যে কারণে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এ আবেদন করেন বাদী।