ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী পূর্বাচলে হবে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র : আইজিপি এবছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলায় ৩ জন নিহত, শিক্ষার্থীসহ নিখোঁজ ৩৭

গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রেজাউল করিম (৩০) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিবর্তে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

রেজাউল করিমের বাবার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বরিশালের আদালত এ ঘটনা পুলিশকে (পিবিআই) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ (বুধবার) হাইকোর্ট বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ পুলিশের পরিবর্তে এখন বিচারিক তদন্ত হবে।

গত বছর ২৯ ডিসেম্বর বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান রেজাউল। পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরে এ অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রেজাউলের বাবা ইউনুস মুন্সী। মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে হামিদ খান সড়কে রেজাউলকে একা পেয়ে বিনা অপরাধে মারধর করেন এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজন। এরপর তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতভর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন তাকে অসুস্থ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ১ জানুয়ারি রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাতে রেজাউল মারা যান।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ওইদিনই মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেন রেজাউলের বাবা। আবেদনে বিচারিক তদন্তের আরজি জানানো হয়।

কোন যুক্তিতে মামলার বাদী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। আর মামলাটির তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তাই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে বাদীর সংশয় তৈরি হয়েছে। যে কারণে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এ আবেদন করেন বাদী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৬:১৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রেজাউল করিম (৩০) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিবর্তে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

রেজাউল করিমের বাবার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বরিশালের আদালত এ ঘটনা পুলিশকে (পিবিআই) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ (বুধবার) হাইকোর্ট বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ পুলিশের পরিবর্তে এখন বিচারিক তদন্ত হবে।

গত বছর ২৯ ডিসেম্বর বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান রেজাউল। পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরে এ অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রেজাউলের বাবা ইউনুস মুন্সী। মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে হামিদ খান সড়কে রেজাউলকে একা পেয়ে বিনা অপরাধে মারধর করেন এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজন। এরপর তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতভর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন তাকে অসুস্থ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ১ জানুয়ারি রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাতে রেজাউল মারা যান।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ওইদিনই মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেন রেজাউলের বাবা। আবেদনে বিচারিক তদন্তের আরজি জানানো হয়।

কোন যুক্তিতে মামলার বাদী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। আর মামলাটির তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তাই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে বাদীর সংশয় তৈরি হয়েছে। যে কারণে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এ আবেদন করেন বাদী।