ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প আত্মসাৎ: ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিল জার্মানি তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসমুদ্র ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখনো ওত পেতে আছে : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

রোহিঙ্গা নির্যাতনে মিয়ানমারে পর্যটন খাতে ধস

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের টুরিজ্যম ফেডারেশন বলছে, বিদেশি পত্রপত্রিকায় দেশটির আরাকান বা রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার খবর অনবরত প্রকাশ পাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। অনেক বিদেশি পর্যটক মিয়ানমার সফর বাতিল করছেন। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান উ খিন অং তান বলেছেন, তার দেশে পর্যটক আগমন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। অনেক দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের মিয়ানমার সফরে যেতে বারণ করছে। ব্রিটেন তার নাগরিকদের ইতিমধ্যে মিয়ানমার সফরের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। এর ফলে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটকদের ভিড় কমছে। নাগাপালি সৈকতে বিদেশি পর্যটকও হ্রাস পেয়েছে।

গত ২৫ আগষ্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৪ লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন, লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তা গণহত্যা বলে মিয়ানমারের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটির অং সাং সুচি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারকে দেশটির পর্যটন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান খিন অং তান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাখাইনে সহিংসতা ও মানবিক সাহায্যের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এসব খবর বেশ ফলাও করে প্রকাশ করছে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মিডিয়া সিএনএন ও বিবিসি ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের খবর প্রকাশ করছে যাচাই না করেই। এবং এধরনের সংবাদ মিয়ানমারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

খিন অং তান বলেন, পর্যটকরা জানতে চাচ্ছে মিয়ানমার সফর নিরাপদ কী না। আমরা তাদের বলছি রাখাইন অঞ্চলে মাত্র তিনটি শহর আক্রান্ত হয়েছে এরধরনের সাম্প্রতিক অভিযানে। এছাড়া পুরো মিয়ানমার ভ্রমণ নিরাপদ।

ইয়াঙ্গুনের সেভেন ডেয়েস ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস কোম্পানির সেলস ম্যানেজার উ কং সিতু জার্মানির নাগরিকরা এখনো মিয়ানমার ভ্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। অনেক ট্রাভেল কোম্পানি ভ্রমণ বাতিল করছে। খিরি ট্রাভেলের এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মি স্টিফেন শেরেয়ার জানান, রাখাইন অঞ্চলের সংকট মিয়ানমারের অন্য নিরাপদ অঞ্চলে পর্যটকদের ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাভেল অপারেটররা আশা করছেন পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। তবে তা যদি দীর্ঘায়িত হত, অবশ্যই বিষয়টি পর্যটন খাত ছাড়াও মিয়ানমারের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে জানান খিন অং তান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল

রোহিঙ্গা নির্যাতনে মিয়ানমারে পর্যটন খাতে ধস

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের টুরিজ্যম ফেডারেশন বলছে, বিদেশি পত্রপত্রিকায় দেশটির আরাকান বা রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার খবর অনবরত প্রকাশ পাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। অনেক বিদেশি পর্যটক মিয়ানমার সফর বাতিল করছেন। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান উ খিন অং তান বলেছেন, তার দেশে পর্যটক আগমন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। অনেক দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের মিয়ানমার সফরে যেতে বারণ করছে। ব্রিটেন তার নাগরিকদের ইতিমধ্যে মিয়ানমার সফরের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। এর ফলে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটকদের ভিড় কমছে। নাগাপালি সৈকতে বিদেশি পর্যটকও হ্রাস পেয়েছে।

গত ২৫ আগষ্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৪ লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন, লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তা গণহত্যা বলে মিয়ানমারের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটির অং সাং সুচি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারকে দেশটির পর্যটন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান খিন অং তান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাখাইনে সহিংসতা ও মানবিক সাহায্যের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এসব খবর বেশ ফলাও করে প্রকাশ করছে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মিডিয়া সিএনএন ও বিবিসি ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের খবর প্রকাশ করছে যাচাই না করেই। এবং এধরনের সংবাদ মিয়ানমারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

খিন অং তান বলেন, পর্যটকরা জানতে চাচ্ছে মিয়ানমার সফর নিরাপদ কী না। আমরা তাদের বলছি রাখাইন অঞ্চলে মাত্র তিনটি শহর আক্রান্ত হয়েছে এরধরনের সাম্প্রতিক অভিযানে। এছাড়া পুরো মিয়ানমার ভ্রমণ নিরাপদ।

ইয়াঙ্গুনের সেভেন ডেয়েস ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস কোম্পানির সেলস ম্যানেজার উ কং সিতু জার্মানির নাগরিকরা এখনো মিয়ানমার ভ্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। অনেক ট্রাভেল কোম্পানি ভ্রমণ বাতিল করছে। খিরি ট্রাভেলের এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মি স্টিফেন শেরেয়ার জানান, রাখাইন অঞ্চলের সংকট মিয়ানমারের অন্য নিরাপদ অঞ্চলে পর্যটকদের ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাভেল অপারেটররা আশা করছেন পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। তবে তা যদি দীর্ঘায়িত হত, অবশ্যই বিষয়টি পর্যটন খাত ছাড়াও মিয়ানমারের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে জানান খিন অং তান।