ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী মোবাইল নয়, শিশুদের ফিরতে হবে খেলার মাঠে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীর জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেল ২৪ বছর আগে স্বামীর অক্ষত লাশ জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে বাংলাদেশ কাউকে ছাড় দেবে না: সাদিক কায়েম গণতন্ত্রের পরিবর্তে ফ্যাসিবাদের পথে এগিয়েছে আওয়ামী লীগ : ইশরাক হোসেন মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পাওয়া বস্তু বোমা নয়: ডিএমপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে: মামুনুল হক

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদাবাজি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেনস্টার গ্রুপের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে একটি চক্র। এই চক্রটি বিভিন্ন নিরীহ ব্যবসায়ীদের টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদাবাজি করে আসছে। তারা তিনগ্রুপে বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে।

এদের মধ্যে একটি গ্রুপ ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান, অফিসার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে টেলিফোন ইনডেক্স সংগ্রহ করে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে সরবরাহ করে।

দ্বিতীয় গ্রুপটি সংগ্রহ করা নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চেয়ে থাকে। দ্বিতীয় গ্রুপটি বিভিন্ন হিসাব নম্বরে, বিকাশে এবং নগদের টাকা চেয়ে থাকে। পরে তৃতীয় গ্রুপটি ওই চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি উপ কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, মো. আবদুল হান্নান, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ এবং খোরশেদ আলম। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল, সিমকার্ড ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বেশকিছুদিন আগে কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে টাকা চওয়া হয়। টাকা না দিলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যা-গুম করবে বলে হুমকি দেয়। ওই ব্যবসায়ী ভয় পেয়ে প্রতিমাসে তাদেরকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে থাকেন। এভাবে তাদেরকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। এরপর ওই চক্রটি তার কাছে আরো বড় অংকের টাকা দাবি করলে তিনি ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেন।

ওই ব্যবসায়ী খুলনা, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করতেন। তার অভিযোগ পেয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এডিসি মনিরের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। এরা ৮ থেকে ১০ জনের একটি চক্র। এই চক্রটির প্রথম গ্রুপের সদস্যরা ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান থেকে, বিভিন্ন বই ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সদস্যদের (ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের তালিকা) টেলিফোন গাইড সংগ্রহ করে দ্বিতীয় গ্রুপকে দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেনস্টার গ্রুপের জিসানের নাম করে সেভেনস্টার গ্রুপের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোনে টাকা চেয়ে থাকে। তাদের ফোনে অনেকে ভয় পেয়ে টাকা দিয়ে দেয়। তারা ভিকটিমদের বিকাশ বা নগদের বিভিন্ন হিসাবে টাকা দিতে বলে।

তৃতীয় গ্রুপটি ওই হিসাব থেকে টাকা সংগ্রহ করে। আমরা প্রথমে এই গ্রুপের প্রধান বেলাল খানকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার টুআইসি টুটুল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রুপের আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ডাইরি উদ্ধার করা হলে তার মধ্যে ভিকটিমদের তালিকা পাওয়া যায়।

এরা কিভাবে বিকাশ কিংবা নগদের হিসাব নম্বর খোলে এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালিদ হোসেন বরেন, এরা বিভিন্ন নিরীহ লোকদের ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে হিসাব খোলে।

এই গ্রুপটি মাদারীপুর নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল কেন্দ্রিক কাজ করে। তাদের একটি গ্রুপ ঢাকায় রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদাবাজি

আপডেট সময় ০২:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেনস্টার গ্রুপের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে একটি চক্র। এই চক্রটি বিভিন্ন নিরীহ ব্যবসায়ীদের টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদাবাজি করে আসছে। তারা তিনগ্রুপে বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে।

এদের মধ্যে একটি গ্রুপ ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান, অফিসার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে টেলিফোন ইনডেক্স সংগ্রহ করে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে সরবরাহ করে।

দ্বিতীয় গ্রুপটি সংগ্রহ করা নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চেয়ে থাকে। দ্বিতীয় গ্রুপটি বিভিন্ন হিসাব নম্বরে, বিকাশে এবং নগদের টাকা চেয়ে থাকে। পরে তৃতীয় গ্রুপটি ওই চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি উপ কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, মো. আবদুল হান্নান, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ এবং খোরশেদ আলম। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল, সিমকার্ড ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বেশকিছুদিন আগে কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে টাকা চওয়া হয়। টাকা না দিলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যা-গুম করবে বলে হুমকি দেয়। ওই ব্যবসায়ী ভয় পেয়ে প্রতিমাসে তাদেরকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে থাকেন। এভাবে তাদেরকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। এরপর ওই চক্রটি তার কাছে আরো বড় অংকের টাকা দাবি করলে তিনি ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেন।

ওই ব্যবসায়ী খুলনা, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করতেন। তার অভিযোগ পেয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এডিসি মনিরের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। এরা ৮ থেকে ১০ জনের একটি চক্র। এই চক্রটির প্রথম গ্রুপের সদস্যরা ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান থেকে, বিভিন্ন বই ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সদস্যদের (ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের তালিকা) টেলিফোন গাইড সংগ্রহ করে দ্বিতীয় গ্রুপকে দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেনস্টার গ্রুপের জিসানের নাম করে সেভেনস্টার গ্রুপের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোনে টাকা চেয়ে থাকে। তাদের ফোনে অনেকে ভয় পেয়ে টাকা দিয়ে দেয়। তারা ভিকটিমদের বিকাশ বা নগদের বিভিন্ন হিসাবে টাকা দিতে বলে।

তৃতীয় গ্রুপটি ওই হিসাব থেকে টাকা সংগ্রহ করে। আমরা প্রথমে এই গ্রুপের প্রধান বেলাল খানকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার টুআইসি টুটুল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রুপের আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ডাইরি উদ্ধার করা হলে তার মধ্যে ভিকটিমদের তালিকা পাওয়া যায়।

এরা কিভাবে বিকাশ কিংবা নগদের হিসাব নম্বর খোলে এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালিদ হোসেন বরেন, এরা বিভিন্ন নিরীহ লোকদের ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে হিসাব খোলে।

এই গ্রুপটি মাদারীপুর নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল কেন্দ্রিক কাজ করে। তাদের একটি গ্রুপ ঢাকায় রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে।