ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় ‌‘ফেসবুক প্রেমিকের’ যাবজ্জীবন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালে ২০১৬ সালে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার আসামি সায়েম আলম মিমুকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে চুরির দায়ে মিমুকে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বরিশাল নগরীর চকবাজারের আবাসিক হোটেল ফেয়ার স্টারের ৩০৯ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয় ঢাকার ওয়ারীর ৬০/১ যুগীনগর এলাকার মো. সেলিম আলমের ছেলে সায়েম আলম মিমু এবং তার ফেসবুক প্রেমিকা নাঈমা ইবাহিম ইশি। পরে ওই কক্ষে ইশিকে ধর্ষণ করেন মিমু। ধর্ষণের ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হোটেল কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মাহত্যা করে ইশি। তখন তার মুঠোফোন ও স্বণালংকার নিয়ে সায়েম আলম পালিয়ে যান। পুলিশ ওইদিনই হোটেল কক্ষ থেকে ইশির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় ইশির বাবা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে ওই দিনই কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে হোটেলের মালিক আব্দুল বিশ্বাস ও ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইশির ফেসবুক প্রেমিক সায়েম আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০১৭ সালের ৩১ মার্চ হোটেল মালিক আব্দুল বিশ্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক সায়েম আলম ও হোটেল ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনের বিরুদ্ধে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

ট্রাইব্যুনালে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ইশিকে ধর্ষণের দায়ে আজ আসামি সায়েম আলমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চুরির কারণে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। একই সাথে ওই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় হোটেল ম্যানেজার মজিবুর রহমানকে বেকসুর খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার পরপরই আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইশির বাবা ইব্রাহিম খলিল। এর মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা কমবে, আশা তাদের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় ‌‘ফেসবুক প্রেমিকের’ যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৭:৪৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালে ২০১৬ সালে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার আসামি সায়েম আলম মিমুকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে চুরির দায়ে মিমুকে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বরিশাল নগরীর চকবাজারের আবাসিক হোটেল ফেয়ার স্টারের ৩০৯ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয় ঢাকার ওয়ারীর ৬০/১ যুগীনগর এলাকার মো. সেলিম আলমের ছেলে সায়েম আলম মিমু এবং তার ফেসবুক প্রেমিকা নাঈমা ইবাহিম ইশি। পরে ওই কক্ষে ইশিকে ধর্ষণ করেন মিমু। ধর্ষণের ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হোটেল কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মাহত্যা করে ইশি। তখন তার মুঠোফোন ও স্বণালংকার নিয়ে সায়েম আলম পালিয়ে যান। পুলিশ ওইদিনই হোটেল কক্ষ থেকে ইশির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় ইশির বাবা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে ওই দিনই কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে হোটেলের মালিক আব্দুল বিশ্বাস ও ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইশির ফেসবুক প্রেমিক সায়েম আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০১৭ সালের ৩১ মার্চ হোটেল মালিক আব্দুল বিশ্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক সায়েম আলম ও হোটেল ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনের বিরুদ্ধে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

ট্রাইব্যুনালে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ইশিকে ধর্ষণের দায়ে আজ আসামি সায়েম আলমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চুরির কারণে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। একই সাথে ওই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় হোটেল ম্যানেজার মজিবুর রহমানকে বেকসুর খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার পরপরই আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইশির বাবা ইব্রাহিম খলিল। এর মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা কমবে, আশা তাদের।