ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

বিএনপিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘তুই চোর, তুই ডাকাত’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গতকাল দীর্ঘদিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। বরং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে অন্যকে দোষারোপ এবং গালাগালের মাধ্যমে বৈঠক শেষ হয়। পরে বৈঠকের পর দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যে, তারা স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বৈঠকের মূল বিষয় ছিল সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করা।

কিন্তু এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হতে না হতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে অন্যকে দোষারোপ করতে শুরু করেন এবং গালাগালি করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা দলের মহাসচিবকে তুই ‘তুই চোর তুই চোর’ বলে সম্বোধন করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি ওই নেতাকে তুই ডাকাত বলে সম্বোধন করেন। এই চোর-ডাকাতের বাহাস শেষে স্থায়ী কমিটির মিটিং ভণ্ডুল হয়ে যায় বলেই বিএনপির একাধিক নেতা দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি`র স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, মূলত বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে। সরকারবিরোধী আন্দোলন কিভাবে বেগবান করা যায় সেটি নিয়ে। ওই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরে সমস্ত বিষয় নিয়ে বিএনপির করণীয় কি এবং কী কর্মসূচি হওয়া উচিত তা নিয়েও স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। একই সাথে  ঢাকা ১৮ অর্থাৎ উত্তরার নির্বাচন নিয়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করার কথা ছিল।

কিন্তু বৈঠকের শুরুতেই গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের একটি বক্তব্যর ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। তিনি বলেন যে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দায়িত্ববান নেতা হওয়ার পরও তিনি কি করে বিএনপিকে খণ্ড-বিখণ্ড করেন? খণ্ড-বিখণ্ড হলেও তিনি কোন পক্ষের? এসময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উত্তর দেন, তিনি বিএনপির ত্যাগী পরীক্ষিতদের পক্ষে। যারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে না তাদের পক্ষে। এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এই সময়ে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য না করার জন্য অনুরোধ জানান। তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন যে, আপনার মুখে এসমস্ত কথা শোভা পায় না কারণ, আপনি আন্দোলনের নামে নাটক করছেন। সরকারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে যান, তিনি বলেন আপনি কি বলছেন আপনি জানেন? ভেবেচিন্তে কথা বলেন, যা মুখে আসে তা বলবেন না এটা স্থায়ী কমিটির সভা। ওই স্থায়ী কমিটির সদস্য এ সময় বিএনপির মহাসচিব কে বলেন, তোর সঙ্গে কি কথা বলব? তুই তো একটা চোর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন আমি চোর হলে তুইতো একটা ডাকাত। অন্যান্য আরো দুজন নেতা তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কে সরকারের সঙ্গে কতটা আঁতাত করেছে, কে সরকারের কাছ থেকে কি অর্থ নিয়েছে, কেন বিএনপির আন্দোলন করতে পারছেন না। আন্দোলনের আগে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন দরকার, এ সমস্ত ঝগড়া-বিবাদ সময় কেটে যায় । একটা সময়ে  বিনপির একজন স্থায়ী কমিটির প্র্রবীণ সদস্য বলেন যে, আপাতত এ বৈঠকটি মুলতবি করে পরবর্তী বৈঠকে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা যায়। এই সময় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন যে সামনে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তী। বিএনপির একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে অবশ্যই করণীয় আছে। এসময় বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত বিএনপি সংবাদ কিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রচার করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

বিএনপিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘তুই চোর, তুই ডাকাত’

আপডেট সময় ০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গতকাল দীর্ঘদিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। বরং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে অন্যকে দোষারোপ এবং গালাগালের মাধ্যমে বৈঠক শেষ হয়। পরে বৈঠকের পর দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যে, তারা স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বৈঠকের মূল বিষয় ছিল সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করা।

কিন্তু এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হতে না হতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে অন্যকে দোষারোপ করতে শুরু করেন এবং গালাগালি করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা দলের মহাসচিবকে তুই ‘তুই চোর তুই চোর’ বলে সম্বোধন করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি ওই নেতাকে তুই ডাকাত বলে সম্বোধন করেন। এই চোর-ডাকাতের বাহাস শেষে স্থায়ী কমিটির মিটিং ভণ্ডুল হয়ে যায় বলেই বিএনপির একাধিক নেতা দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি`র স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, মূলত বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে। সরকারবিরোধী আন্দোলন কিভাবে বেগবান করা যায় সেটি নিয়ে। ওই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরে সমস্ত বিষয় নিয়ে বিএনপির করণীয় কি এবং কী কর্মসূচি হওয়া উচিত তা নিয়েও স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। একই সাথে  ঢাকা ১৮ অর্থাৎ উত্তরার নির্বাচন নিয়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করার কথা ছিল।

কিন্তু বৈঠকের শুরুতেই গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের একটি বক্তব্যর ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। তিনি বলেন যে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দায়িত্ববান নেতা হওয়ার পরও তিনি কি করে বিএনপিকে খণ্ড-বিখণ্ড করেন? খণ্ড-বিখণ্ড হলেও তিনি কোন পক্ষের? এসময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উত্তর দেন, তিনি বিএনপির ত্যাগী পরীক্ষিতদের পক্ষে। যারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে না তাদের পক্ষে। এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এই সময়ে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য না করার জন্য অনুরোধ জানান। তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন যে, আপনার মুখে এসমস্ত কথা শোভা পায় না কারণ, আপনি আন্দোলনের নামে নাটক করছেন। সরকারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে যান, তিনি বলেন আপনি কি বলছেন আপনি জানেন? ভেবেচিন্তে কথা বলেন, যা মুখে আসে তা বলবেন না এটা স্থায়ী কমিটির সভা। ওই স্থায়ী কমিটির সদস্য এ সময় বিএনপির মহাসচিব কে বলেন, তোর সঙ্গে কি কথা বলব? তুই তো একটা চোর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন আমি চোর হলে তুইতো একটা ডাকাত। অন্যান্য আরো দুজন নেতা তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কে সরকারের সঙ্গে কতটা আঁতাত করেছে, কে সরকারের কাছ থেকে কি অর্থ নিয়েছে, কেন বিএনপির আন্দোলন করতে পারছেন না। আন্দোলনের আগে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন দরকার, এ সমস্ত ঝগড়া-বিবাদ সময় কেটে যায় । একটা সময়ে  বিনপির একজন স্থায়ী কমিটির প্র্রবীণ সদস্য বলেন যে, আপাতত এ বৈঠকটি মুলতবি করে পরবর্তী বৈঠকে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা যায়। এই সময় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন যে সামনে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তী। বিএনপির একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে অবশ্যই করণীয় আছে। এসময় বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত বিএনপি সংবাদ কিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রচার করেন।