ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইফতার মাহফিলের দাওয়াত দিল জামায়াত বিএন‌পির দলীয় প‌রিচয় থাকায় অনেক জুলাইযোদ্ধা বঞ্চিত হয়েছেন: ইশরাক হোসেন শত্রুরা বুঝে গেছে পারমাণবিক হামলা হলে পরিণতি কী হবে: পুতিন ওয়াশিংটনে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ৪ জনের পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙতেই ৫৭ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়: মির্জা ফখরুল সাবেক যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড চট্টগ্রামে গ্যাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ফ্ল্যাট মালিক সাখাওয়াত পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

১ বছরেই ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা: এনআইডি ডিজি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গত বছরে দুই লাখ ৭ হাজার ৬৩৫ জন ব্যক্তি দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানান এনআইডি মহাপরিচালক।

সার্ভারে অনেকের দুইটি এনআইডি সচল আছে। ১২ বছর হয়ে গেলো ইসির সার্ভারের বয়স। এত বছরেও কেন সার্ভারটি ত্রুটিমুক্ত করা সম্ভব হলো না? এমন প্রশ্নের জবাবে এনআইডি ডিজি বলেন, ১১ কোটি লোকের সার্ভার এটা। আমরা গতবার যখন হালনাগাদ পরিচালনা করি, তখন ২ লাখ ৭ হাজার ৬৩৫ জন ব্যক্তি যারা দ্বৈত ভোটার হতে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চেষ্টা করেছিল তাদের আমরাই বের করেছি। সুতরাং আমরা যে পারছি না, তা নয়। তবে একটি জিনিসকে ম্যাচিউরড পর্যায়ে আসতে সময় ও রিসোর্স প্রয়োজন।

মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পে কর্মরতদের যদি অন্যায় বা অনিয়ম পাই, যদি সে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হলে তাদেরকে আমরা চাকরিচ্যুত করতাম। কিন্তু কয়েকটা কেসে দেখা গেছে, তারা অনেক এক্সপার্ট। তারা চাকরিচ্যুত হওয়ার পর বাইরে গিয়ে একটি চক্র তৈরি করছে। চক্রের মাধ্যমে তারা অনিয়ম-দুর্নীতির চেষ্টা, অপচেষ্টা বা দুর্নীতি চালাচ্ছে। এর জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এনআইডি জালিয়াতি বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সহযোগিতা করে তাহলে শুধু চাকরিচ্যুত নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে। তারই অংশ হিসেবে লালমনিরহাটের এই দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো আমরা মামলা পরিচালনা করছি। ১২ অক্টোবর ইসি জানিয়েছে, অবৈধভাবে ভোটার করার প্রচেষ্টার অভিযোগে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ও সদর উপজেলার দুইজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

‘এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের মাধ্যমে ভোটার করায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা থানা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জুয়েল বাবু এবং সদর থানা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এস এম আজম শাহীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এনআইডির জালিয়াতি, আমি বলবো একটা পুরো সিস্টেম, যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের জালিয়াতি। এনআইডি পর্যন্ত আসার আগেই যে জালিয়াতি হচ্ছে, সেগুলোও তো রোধ করতে হবে। মূল শেকড় যদি উঠাতে না পারি, তাহলে কিন্তু এই জালিয়াতি ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন। মূল শেকড়টা কারা সেটা তো আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারছেন। প্রথম প্রশ্ন জন্ম নিবন্ধন কে দিচ্ছেন? জন্ম নিবন্ধন যদি দেয়, অনলাইনে যদি আমরা নিবন্ধন সঠিক পাই, তাহলে কিন্তু আইনিভাবে আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে বাধ্য। যদি জন্ম নিবন্ধন সঠিক পাই, যদি নাগরিকত্ব সঠিক পাই, যদি শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক পাই, যদি ওয়ারিশন সনদ সঠিক পাই এসব সঠিক পেলে এনআইডি উইংয়ের পক্ষে এনআইডি না দেওয়া কঠিন আইনগতভাবে। এটা একটা সমন্বিত প্রায়স। এটা শুধু নির্বাচন কমিশন ও এনআইডি উইংয়ের একার পক্ষে এ ধরনের দুর্নীতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। এজন্য আমরা পরিকল্পনা করছি এ মাসের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ এনআইডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। সেখানে বিষয়গুলো তুলে ধরবো আমরা। যাতে করে এনআইডি কর্তৃপক্ষের কাছে আসার আগেই বিষয়গুলো ধরা পড়ে যায় বা জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার জালিয়াতি না করতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইফতার মাহফিলের দাওয়াত দিল জামায়াত

১ বছরেই ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা: এনআইডি ডিজি

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গত বছরে দুই লাখ ৭ হাজার ৬৩৫ জন ব্যক্তি দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানান এনআইডি মহাপরিচালক।

সার্ভারে অনেকের দুইটি এনআইডি সচল আছে। ১২ বছর হয়ে গেলো ইসির সার্ভারের বয়স। এত বছরেও কেন সার্ভারটি ত্রুটিমুক্ত করা সম্ভব হলো না? এমন প্রশ্নের জবাবে এনআইডি ডিজি বলেন, ১১ কোটি লোকের সার্ভার এটা। আমরা গতবার যখন হালনাগাদ পরিচালনা করি, তখন ২ লাখ ৭ হাজার ৬৩৫ জন ব্যক্তি যারা দ্বৈত ভোটার হতে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চেষ্টা করেছিল তাদের আমরাই বের করেছি। সুতরাং আমরা যে পারছি না, তা নয়। তবে একটি জিনিসকে ম্যাচিউরড পর্যায়ে আসতে সময় ও রিসোর্স প্রয়োজন।

মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পে কর্মরতদের যদি অন্যায় বা অনিয়ম পাই, যদি সে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হলে তাদেরকে আমরা চাকরিচ্যুত করতাম। কিন্তু কয়েকটা কেসে দেখা গেছে, তারা অনেক এক্সপার্ট। তারা চাকরিচ্যুত হওয়ার পর বাইরে গিয়ে একটি চক্র তৈরি করছে। চক্রের মাধ্যমে তারা অনিয়ম-দুর্নীতির চেষ্টা, অপচেষ্টা বা দুর্নীতি চালাচ্ছে। এর জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এনআইডি জালিয়াতি বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সহযোগিতা করে তাহলে শুধু চাকরিচ্যুত নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে। তারই অংশ হিসেবে লালমনিরহাটের এই দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো আমরা মামলা পরিচালনা করছি। ১২ অক্টোবর ইসি জানিয়েছে, অবৈধভাবে ভোটার করার প্রচেষ্টার অভিযোগে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ও সদর উপজেলার দুইজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

‘এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের মাধ্যমে ভোটার করায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা থানা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জুয়েল বাবু এবং সদর থানা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এস এম আজম শাহীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এনআইডির জালিয়াতি, আমি বলবো একটা পুরো সিস্টেম, যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের জালিয়াতি। এনআইডি পর্যন্ত আসার আগেই যে জালিয়াতি হচ্ছে, সেগুলোও তো রোধ করতে হবে। মূল শেকড় যদি উঠাতে না পারি, তাহলে কিন্তু এই জালিয়াতি ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন। মূল শেকড়টা কারা সেটা তো আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারছেন। প্রথম প্রশ্ন জন্ম নিবন্ধন কে দিচ্ছেন? জন্ম নিবন্ধন যদি দেয়, অনলাইনে যদি আমরা নিবন্ধন সঠিক পাই, তাহলে কিন্তু আইনিভাবে আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে বাধ্য। যদি জন্ম নিবন্ধন সঠিক পাই, যদি নাগরিকত্ব সঠিক পাই, যদি শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক পাই, যদি ওয়ারিশন সনদ সঠিক পাই এসব সঠিক পেলে এনআইডি উইংয়ের পক্ষে এনআইডি না দেওয়া কঠিন আইনগতভাবে। এটা একটা সমন্বিত প্রায়স। এটা শুধু নির্বাচন কমিশন ও এনআইডি উইংয়ের একার পক্ষে এ ধরনের দুর্নীতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। এজন্য আমরা পরিকল্পনা করছি এ মাসের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ এনআইডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। সেখানে বিষয়গুলো তুলে ধরবো আমরা। যাতে করে এনআইডি কর্তৃপক্ষের কাছে আসার আগেই বিষয়গুলো ধরা পড়ে যায় বা জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার জালিয়াতি না করতে পারে।