ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

ফাঁসি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারের উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। তাহলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় স্মরণ মঞ্চের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গলের স্মরণে এক নাগরিক শোক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের সহসভাপতি লায়ন আলামীনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কবি আবদুল হাই শিকদার, উলফাত আজিজ, সাদেক খান, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, এস এম নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম প্রমুখ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন ধরে আমরা যা দেখছি ধর্ষণ, নারী নির্যাতন হঠাৎ করে মানুষ খারাপ হয়ে গেল। দেশে

অনাচার থাকলে, দুর্নীতি থাকলে, সুশাসনের অভাব থাকলে এমনটাই হয়। এখন সরকার দ্রæত একটি আইন করে ফেললো। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি। এটা কোন উত্তর হতে পারে না। এটা শুধুমাত্র ড্রাইভেশন, এটা পথকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া। আসলে এর প্রতিকার হল ন্যায়বিচার। আর এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভুল কাজ করছেন। ফাঁসি অত্যন্ত একটি ভুল কাজ। এরচেয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। ন্যায়বিচার কোনো কঠিন কাজ না। দ্রুত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করলে ১৫ দিন বা ৭ দিনের মধ্যেই যারা ধর্ষক তাদের ৮০ পার্সেন্ট ধরা পড়ে যাবে। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করে বিচার করেন। আর যারা ধরা পরবে না তাদের জন্য আলাদা মামলা করেন। তাহলে দেখবেন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ২০১৮ সালে দিনের নির্বাচন রাত্রে হয়েছিল। সেই নির্বাচনের পরে বিএনপির ৭০ জন প্রার্থী মামলা করেছিল। সেই মামলার জন্য একদিনও কোর্ট বসেনি। বিচারপতিরা তাদের বিবেকের কাছে এর কি জবাব দেবেন? কিন্তু তাদের কাজ হলো অপরাধীদের মুক্তি দিয়ে দেওয়া। আর যারা নির্দোষ, তাদেরকে আটক করে রাখা। কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘোরানো।

ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু খারাপ কাজ করেছে তা নয়। তিনি ভালো কাজও করেছেন। তাহলে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে দেখেন না। আর জনগণের কাছে গিয়ে বলবেন, আমি ফাঁসি এনেছি। এই ফাঁসির পক্ষে জনগণ যদি আপনাকে ভোট দেয় তাহলে মনে করব আমরা ভুল ছিলাম। তিনিই সঠিক ছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা জানেন, আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে ক্ষমতা হারাবেন। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। জনগন যদি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে দেশ কল্যাণ কর হবে। যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বটিয়াঘাটায় গুলির ঘটনার পর বিতর্কের মুখে ওসি প্রত্যাহার

ফাঁসি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আপডেট সময় ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারের উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। তাহলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় স্মরণ মঞ্চের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গলের স্মরণে এক নাগরিক শোক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের সহসভাপতি লায়ন আলামীনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কবি আবদুল হাই শিকদার, উলফাত আজিজ, সাদেক খান, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, এস এম নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম প্রমুখ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন ধরে আমরা যা দেখছি ধর্ষণ, নারী নির্যাতন হঠাৎ করে মানুষ খারাপ হয়ে গেল। দেশে

অনাচার থাকলে, দুর্নীতি থাকলে, সুশাসনের অভাব থাকলে এমনটাই হয়। এখন সরকার দ্রæত একটি আইন করে ফেললো। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি। এটা কোন উত্তর হতে পারে না। এটা শুধুমাত্র ড্রাইভেশন, এটা পথকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া। আসলে এর প্রতিকার হল ন্যায়বিচার। আর এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভুল কাজ করছেন। ফাঁসি অত্যন্ত একটি ভুল কাজ। এরচেয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। ন্যায়বিচার কোনো কঠিন কাজ না। দ্রুত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করলে ১৫ দিন বা ৭ দিনের মধ্যেই যারা ধর্ষক তাদের ৮০ পার্সেন্ট ধরা পড়ে যাবে। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করে বিচার করেন। আর যারা ধরা পরবে না তাদের জন্য আলাদা মামলা করেন। তাহলে দেখবেন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ২০১৮ সালে দিনের নির্বাচন রাত্রে হয়েছিল। সেই নির্বাচনের পরে বিএনপির ৭০ জন প্রার্থী মামলা করেছিল। সেই মামলার জন্য একদিনও কোর্ট বসেনি। বিচারপতিরা তাদের বিবেকের কাছে এর কি জবাব দেবেন? কিন্তু তাদের কাজ হলো অপরাধীদের মুক্তি দিয়ে দেওয়া। আর যারা নির্দোষ, তাদেরকে আটক করে রাখা। কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘোরানো।

ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু খারাপ কাজ করেছে তা নয়। তিনি ভালো কাজও করেছেন। তাহলে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে দেখেন না। আর জনগণের কাছে গিয়ে বলবেন, আমি ফাঁসি এনেছি। এই ফাঁসির পক্ষে জনগণ যদি আপনাকে ভোট দেয় তাহলে মনে করব আমরা ভুল ছিলাম। তিনিই সঠিক ছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা জানেন, আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে ক্ষমতা হারাবেন। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। জনগন যদি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে দেশ কল্যাণ কর হবে। যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।