আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী গণজমায়েত থেকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, ‘দেশের শাসন ব্যবস্থা, ধর্ষণ প্রতিহত ও ধর্ষণের বিচার করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। দেশের এমন মন্ত্রণালয়ে আমরা ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাই না।
’তারা বলছেন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কোনো দেশ নাই যেখানে ধর্ষণ হয় না। তার যদি লজ্জা থাকতো, তবে নাকে খদ দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তিনি বের হয়ে যেতেন। ’
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে ‘ধর্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ধর্ষণবিরোধী গণজমায়েতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে এ কথা বলেন কবি সৈকত আমিন।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো লজ্জা নেই। আর লজ্জা থাকবে কীভাবে, দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই তার। কিন্তু তাকে চোখে আঙুল দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। যার টাকায় আপনি গলাবাজি করেন, তারাই এদেশে বার বার ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। যার টাকায় আপনি রাস্তায় প্রটোকল নিয়ে ঘোরেন, তাকে আপনি বলেন, কোনো দেশ নাই যেখানে ধর্ষণ হয় না।
‘এমন কথা বলার জন্য আপনার ওইখানে (মন্ত্রণালয়) বসে থাকার কোনো অধিকার নেই। তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এমন অনধিকার চর্চা থেকে অপসারণ করতে হবে। ’
তিনি বলেন, আমাদের দাবি পূরণ করার লক্ষ্যেই আমাদের কালো পতাকা মিছিল, আমাদের ধিক্কার মিছিল। ধর্ষকদের রাষ্ট্রীয় কারখানা উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন, যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে ‘ধর্ষণ সব জায়গায় হয়’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য প্রমাণ করে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। আমরা এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আর দেখতে চাই না।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জহর লাল রায় বলেন, ধর্ষকরা দেখে ক্ষমতাধর। তারা ধর্ষণ করছে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভিডিও ছেড়ে দিচ্ছে। আর ধর্ষণের ঘটনা ভাইরাল হলে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়, প্রশাসন লোক দেখানো গ্রেফতার করে। কিন্তু ধর্ষণের শিকাররা বিচার পান না। এর বিচার কার্যক্রম চলে বছরের পর বছর। এই সুযোগে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ধর্ষকরা জেল থেকে বেরিয়ে যায়। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমরা এমন ঘটনা বার বার দেখতে চাই না। আর বার বার ঘটার মানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরোপুরি ব্যর্থ।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে তাদের গণজমায়েত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরিতে ধর্ষণবিরোধী গণজমায়েত শুরু হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জহর লাল রায় বলেন, বৃষ্টির কারণে আমাদের কর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। আমরা জমায়েত শুরু করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করব।
এর আগে সোমবার (০৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সেখান থেকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ‘পৃথিবীর সব জায়গায় ধর্ষণ হয়’ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। এর পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান।
এরপর সন্ধ্যায় তারা মঙ্গলবার আবার গণজমায়েত হওয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















