অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
টেস্টের নাসির হোসেন ভুলে যাওয়া এক স্মৃতির নাম হয়ে যাচ্ছিলেন প্রায়। ২০১৫-এর জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলার পর দুই বছরেরও বেশি বিরতি। এরপর টেস্টে ফিরলেন এই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে।
কিন্তু নাসির কি এখন পর্যন্ত পেরেছেন ‘টেস্টের নাসিরে’র স্মৃতিটা ফিরিয়ে আনতে? কিছুটা হলেও পারতেন যদি কাল আর পাঁচ-ছয়টি রান করে ফিফটির মাইলফলকটি অতিক্রম করতেন। টেস্টে ৫০-৬০ করা বড় কিছু নয়। কিন্তু প্রত্যাবর্তন সিরিজে সেটাও কম কি! ৪৫ রানে আউট হয়ে সেই সুযোগ কাল হাতছাড়া নাসিরের।
আফসোস তাঁরই সবচেয়ে বেশি এবং দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে সেটি ভালোভাবেই থাকল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমি চাচ্ছিলাম শেষ পর্যন্ত খেলতে। সবচেয়ে বড় কথা, মিরাজের সঙ্গে জুটিটা দারুণ হচ্ছিল। যত বেশি সম্ভব রান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা হয়নি।’
টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুর সেই নাসিরের নবজন্মটা তাই কাল হতে হতেও হলো না। টেস্টের ছয় ফিফটি ও এক সেঞ্চুরির সবই করেছেন প্রথম দশ ম্যাচে। ফিফটিগুলোর দুটি আবার নব্বইয়ের ওপরে। সেই নাসিরই কিনা পরের নয় টেস্টে দেখা পাননি একটিও ফিফটির! অথচ কালকের ৪৫সহ ৪০-এর ঘরে আউট হয়েছেন তিনবার।
মুশফিকুর রহিম ফিরে যাওয়ার পর নাসিরও ফিরেছেন দলের রান ৩০০ হওয়ার আগে। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডও তাই প্রত্যাশামতো চেহারা পায়নি। নাসিরের মনে হচ্ছে, ‘যে রকম উইকেট, তাতে আমরা ১০০ থেকে ১৫০ রান কম করে ফেলেছি। আমাদের অন্তত ৪০০ থেকে ৪৫০ রান করা উচিত ছিল।’ দিন শেষে হাসিটা তবু আরও চওড়া হতে পারত ডেভিড ওয়ার্নারকে কালই ফেরানো গেলে। ব্যক্তিগত ৫২ ও ৭৩ রানে দুবার আউটের সুযোগ দিয়েও বেঁচে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। শর্ট লেগে ক্যাচ ফেলেছেন মুমিনুল, স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিক। নাসিরের চোখে অবশ্য দুটোই খুব ‘কঠিন’ কাজ ছিল, ‘ক্যাচটা কিন্তু ফিফটি-ফিফটি ছিল। এসব ক্যাচ ধরা কঠিন। আর স্টাম্পিংয়ের কথা বলব, বলটা খুব নিচু ছিল।’
একইভাবে পেসার মোস্তাফিজের পাশেও দাঁড়িয়েছেন নাসির। উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কিছুই নেই। তবু অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্স বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মনে যে রকম ভয় ধরিয়ে গেছেন, সেটা মোস্তাফিজ পারছেন কই! ম্যাথু রেনশর উইকেটটা নিলেও তাতে মোস্তাফিজের যতটা না অবদান, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব উইকেটকিপার মুশফিকের ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচের।
দেশের বাইরে সাফল্য না পাওয়ায় বলা হচ্ছিল ঘরের মাঠে ফিরলেই আবারও দেখা যাবে আগের মোস্তাফিজকে। বাংলাদেশের উইকেটেই যে তাঁর কাটারটা বেশি ভালো হয়! কিন্তু হতাশার কথা হলো, সেই মোস্তাফিজকে এই সিরিজে এখনো দেখা যায়নি। নাসির যুক্তি দিতে চাইলেন, ‘এটা ফ্ল্যাট উইকেট। বোলিং করা কঠিন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ। মোস্তাফিজ যখন বোলিং করেছে, তখন সেট হওয়া ব্যাটসম্যান ছিল। নতুন ব্যাটসম্যান পেলে হয়তো ভালো হতো।’
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ৮০ রানে। নাসির এটাকে নিজেদের ‘ব্যাকফুটে থাকা’ ধরে নিয়েও আশাবাদী, ‘যেকোনো মুহূর্তে খেলা বদলে যেতে পারে।’ আর টেস্টের চিত্রনাট্যও যে পরতে পরতে বদলাতে পারে, সেটা তো মিরপুরেই দেখা গেছে। ওয়ার্নারের এখনো আগ্রাসী না হয়ে ওঠা আশাবাদী হওয়ার আরেকটা কারণ, ‘ওয়ার্নার এত ধীরে ব্যাটিং করে না। কিন্তু আজ (গতকাল) করেছে। তার মানে আমরা বোলিং ভালো করেছি। শুধু উইকেট পড়েনি।’
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার লিড যেন এক শর বেশি না হয়, সেটাই আজ লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশ দলের। ফলাফল তাতে যেদিকেই গড়াক, চট্টগ্রাম টেস্ট যে পাঁচ দিনে যাচ্ছে সেটি দ্বিতীয় দিন শেষেই বলে দিতে পারছেন নাসির, ‘খেলা পাঁচ দিনে যাবে। আমরা অবশ্য ফলাফল নিয়ে চিন্তা করছি না। যেটুকু আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে, আমরা তা নিয়েই ভাবছি।’
নাসির ভাবতে পারেন দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং নিয়েও। টেস্টের নাসিরকে ফিরিয়ে আনার প্রকল্প হাতে নিয়ে সাফল্য পেলে সেটা কাজে লাগবে দলেরও।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























