ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট

যতক্ষণ ৫৭ ধারা আছে ততক্ষণ মামলা: আইনমন্ত্রী

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ যদি এই ধারায় কোনো অপরাধ হয়, তাহলে মামলা হবেই। আজ রোববার সচিবালয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া নিয়ে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনমন্ত্রী বলেছেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝিতে এ নিয়ে আরেকটি সভা হবে। সেখানে ৫৭ ধারা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলা হওয়াই তো শেষ কথা নয়। মামলা হওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে তদন্ত হয়। সেই তদন্ত অন্তত সুষ্ঠু হবে। এটা আপনাদের আশ্বস্ত করছি।’ মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলে আসছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি হলে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা থাকবে না। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’-এর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং (যাচাই-বাছাই) পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে আইনমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা থাকছে না। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ আইনে ৫৭ ধারার বিষয়ে পরিষ্কার করা হবে।

২০০৬ সালে আইসিটি আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। এই আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কার্য হবে একটি অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অনধিক ১৪ বছর ও অন্যূন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ড দেওয়া যাবে।

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ২০টির বেশি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিক রয়েছেন। গত কয়েক দিনে সমকাল পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তৌফিকুল ইসলাম, যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাজমুল হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলা হয়েছে।

২০১৫ সালে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের ও তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ধারাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি ওঠে। এখন এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে সরকার ৫৭ ধারা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার

যতক্ষণ ৫৭ ধারা আছে ততক্ষণ মামলা: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ যদি এই ধারায় কোনো অপরাধ হয়, তাহলে মামলা হবেই। আজ রোববার সচিবালয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া নিয়ে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনমন্ত্রী বলেছেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝিতে এ নিয়ে আরেকটি সভা হবে। সেখানে ৫৭ ধারা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলা হওয়াই তো শেষ কথা নয়। মামলা হওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে তদন্ত হয়। সেই তদন্ত অন্তত সুষ্ঠু হবে। এটা আপনাদের আশ্বস্ত করছি।’ মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলে আসছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি হলে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা থাকবে না। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’-এর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং (যাচাই-বাছাই) পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে আইনমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা থাকছে না। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ আইনে ৫৭ ধারার বিষয়ে পরিষ্কার করা হবে।

২০০৬ সালে আইসিটি আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। এই আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কার্য হবে একটি অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অনধিক ১৪ বছর ও অন্যূন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ড দেওয়া যাবে।

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ২০টির বেশি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিক রয়েছেন। গত কয়েক দিনে সমকাল পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তৌফিকুল ইসলাম, যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাজমুল হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলা হয়েছে।

২০১৫ সালে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের ও তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ধারাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি ওঠে। এখন এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে সরকার ৫৭ ধারা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়।