ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

মিলল না মুক্তি, বাবার সাথে শেষ দেখা হলো না বেরোবির সেই শিক্ষিকার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আটক থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজাম মুনিরাকে গত বুধবার (৫ আগস্ট) জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী রবিবার হাজত থেকে বের হওয়ার কথা ছিল তার। বের হয়েই হয়তো জেলগেটে সামনে বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেতেন তিনি। জিজ্ঞাসা করতেন, ‘বাবা কেমন আছেন?’ কিন্তু তা আর হলো না। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তার বাবা আব্দুল আজিজ।

এদিকে বাবাকে শেষ বারের মত দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আবেদন কারাগারে এসে পৌঁছেনি। জেলার জানিয়েছেন, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় এখন আর মুক্তির আশা নেই।

জানা গেছে, প্রভাষক সিরাজাম মুনিরার পিতা মো. আব্দুল আজিজ শুক্রবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল আজিজ পেশায় শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। দুই মেয়ে এক ছেলে সন্তানের জনক তিনি। সন্তানদের মধ্যে সিরাজাম মুনিরা সর্বকনিষ্ঠ। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামে।

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রেজা ইসলাম জানান, প্যারোলে মুক্তির কোনো কাগজ আমরা পাইনি। তাই তাকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা সিরাজাম মুনিরা ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছেন এমন অভিযোগে গত ১৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। সেদিন রাতেই সিরাজাম মুনিরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিরাজাম মুনিরাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিলল না মুক্তি, বাবার সাথে শেষ দেখা হলো না বেরোবির সেই শিক্ষিকার

আপডেট সময় ০৮:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আটক থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজাম মুনিরাকে গত বুধবার (৫ আগস্ট) জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী রবিবার হাজত থেকে বের হওয়ার কথা ছিল তার। বের হয়েই হয়তো জেলগেটে সামনে বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেতেন তিনি। জিজ্ঞাসা করতেন, ‘বাবা কেমন আছেন?’ কিন্তু তা আর হলো না। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তার বাবা আব্দুল আজিজ।

এদিকে বাবাকে শেষ বারের মত দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আবেদন কারাগারে এসে পৌঁছেনি। জেলার জানিয়েছেন, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় এখন আর মুক্তির আশা নেই।

জানা গেছে, প্রভাষক সিরাজাম মুনিরার পিতা মো. আব্দুল আজিজ শুক্রবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল আজিজ পেশায় শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। দুই মেয়ে এক ছেলে সন্তানের জনক তিনি। সন্তানদের মধ্যে সিরাজাম মুনিরা সর্বকনিষ্ঠ। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামে।

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রেজা ইসলাম জানান, প্যারোলে মুক্তির কোনো কাগজ আমরা পাইনি। তাই তাকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা সিরাজাম মুনিরা ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছেন এমন অভিযোগে গত ১৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। সেদিন রাতেই সিরাজাম মুনিরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিরাজাম মুনিরাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।