ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করব : মির্জা আব্বাস ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা ‘ভারতের চাপে আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানবো না’:আসিফ নজরুল

অভাবীকে সাহায্য করলেই আল্লাহর সাহায্য মিলবে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে। তারা শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিই নয় খাবার সংকটেও পড়েছে। করোনার এ দিনগুলো মানবসেবার শ্রেষ্ঠ সময়। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খেটে খাওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।

ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে সবাই আল্লাহর কাছে সমান। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত। কেউ বিপদে পড়লে আরেকজন তাকে উদ্ধার করবে এটাই ধর্মের শিক্ষা। এমনকি জীবজন্তুর প্রতিও দয়াশীল হতে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করবে কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তার কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন ততক্ষণ, সে তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে যতক্ষণ।’ (মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি।)

মানবসেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমার সেবা করোনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো বিশ্ব পালনকর্তা। কীভাবে আমি আপনার সেবা করব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কী জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি।

যদি তুমি তার সেবা করতে তবে আমাকেই সেবা করা হতো।’ আল্লাহতায়ালা বলবেন ‘হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাওনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি হলেন বিশ্ব পালনকর্তা, আপনাকে আমি কীভাবে খাওয়াব?’ তিনি বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি। যদি তাকে খাবার দিতে তবে আমাকেই খাবার দেয়া হতো।’ (মুসলিম)

আমরা বিভিন্নভাবে মানবসেবা করতে পারি। ডাক্তার তার সেবা দিয়ে, বক্তা তার বক্তৃতার মাধ্যমে, লেখক তার লেখার মাধ্যমে, বিত্তশালীরা তার সম্পদ দিয়ে, বুদ্ধিমান তার বুদ্ধি দিয়ে, জ্ঞানী তার জ্ঞান দিয়ে, স্বাস্থ্যবান তার শক্তি দিয়ে সমাজের সেবা করতে পারে। কারও শরীরের কোনো অঙ্গ যদি আঘাত পায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে তবে সে কী আনন্দ পায়? বরং কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

সমাজের এক অংশ ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, থাকলে অন্যরা তাদের সাহায্যে প্রাণ ঢেলে দিলে তবেই সুষ্ঠু ও সমৃদ্ধ জাতি গড়ে উঠবে। করোনার কারণে ঢাকাসহ সারা দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার বসে আছে, এদের অধিকাংশই দিনমজুর শ্রেণির। দিন আনে দিন খায়। এসব খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই। প্রত্যেকে যদি তার দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকে তবেই সৃষ্টি সেবার মহান এক সংঘ গড়ে উঠবে। অন্যের প্রতি দরদ, সহানুভূতি, উদারতা দেখান এ সময়ে সামর্থ্যবানদের ওপর ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আসুন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী মানবসেবায় ব্রত হই।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও কলাম লেখক

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব জঙ্গলের শাসনে ফিরতে পারে না, চীনের সতর্কতা

অভাবীকে সাহায্য করলেই আল্লাহর সাহায্য মিলবে

আপডেট সময় ১০:১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে। তারা শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিই নয় খাবার সংকটেও পড়েছে। করোনার এ দিনগুলো মানবসেবার শ্রেষ্ঠ সময়। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খেটে খাওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।

ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে সবাই আল্লাহর কাছে সমান। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত। কেউ বিপদে পড়লে আরেকজন তাকে উদ্ধার করবে এটাই ধর্মের শিক্ষা। এমনকি জীবজন্তুর প্রতিও দয়াশীল হতে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করবে কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তার কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন ততক্ষণ, সে তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে যতক্ষণ।’ (মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি।)

মানবসেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমার সেবা করোনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো বিশ্ব পালনকর্তা। কীভাবে আমি আপনার সেবা করব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কী জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি।

যদি তুমি তার সেবা করতে তবে আমাকেই সেবা করা হতো।’ আল্লাহতায়ালা বলবেন ‘হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাওনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি হলেন বিশ্ব পালনকর্তা, আপনাকে আমি কীভাবে খাওয়াব?’ তিনি বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি। যদি তাকে খাবার দিতে তবে আমাকেই খাবার দেয়া হতো।’ (মুসলিম)

আমরা বিভিন্নভাবে মানবসেবা করতে পারি। ডাক্তার তার সেবা দিয়ে, বক্তা তার বক্তৃতার মাধ্যমে, লেখক তার লেখার মাধ্যমে, বিত্তশালীরা তার সম্পদ দিয়ে, বুদ্ধিমান তার বুদ্ধি দিয়ে, জ্ঞানী তার জ্ঞান দিয়ে, স্বাস্থ্যবান তার শক্তি দিয়ে সমাজের সেবা করতে পারে। কারও শরীরের কোনো অঙ্গ যদি আঘাত পায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে তবে সে কী আনন্দ পায়? বরং কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

সমাজের এক অংশ ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, থাকলে অন্যরা তাদের সাহায্যে প্রাণ ঢেলে দিলে তবেই সুষ্ঠু ও সমৃদ্ধ জাতি গড়ে উঠবে। করোনার কারণে ঢাকাসহ সারা দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার বসে আছে, এদের অধিকাংশই দিনমজুর শ্রেণির। দিন আনে দিন খায়। এসব খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই। প্রত্যেকে যদি তার দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকে তবেই সৃষ্টি সেবার মহান এক সংঘ গড়ে উঠবে। অন্যের প্রতি দরদ, সহানুভূতি, উদারতা দেখান এ সময়ে সামর্থ্যবানদের ওপর ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আসুন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী মানবসেবায় ব্রত হই।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও কলাম লেখক