ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান ‘একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে’ বিএনপি সরকার কোনো সময় হারিয়ে যায় না: তথ্যমন্ত্রী সাবেক ডিসি সারওয়ারকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে চিঠি অতীতের সরকার ভোট চুরি করত, এই সরকার ফল চুরি করেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ওয়াসার সব খাল ডিএনসিসিকে হস্তান্তরের প্রস্তাব মেয়রের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকা উত্তরের সকল খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেল ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

শনিবার (২৭ জুন) আশকোনা হজক্যাম্প থেকে সিভিল অ্যাভিয়েশন অফিসার্স কোয়ার্টার হয়ে বনরূপা হাউজিং পর্যন্ত খনন খালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কাছে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘খালগুলো জেলা প্রশাসনের অধীনে, পানি নির্গমণসহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওয়াসার। কিন্তু জনগণের দুর্ভোগের কথা শুনতে হয় সিটি করপোরেশনকে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়র ও কাউন্সিলরদেরকে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু ওয়াসাকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। এ অবস্থায়, নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে, ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের বিদ্যমান জনবল, যান-যন্ত্রপাতি, আনুষঙ্গিক সকল উপকরণসহ খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তাব দিচ্ছি’।

মেয়র বলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আমরা আশকোনা হজক্যাম্প সংলগ্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করি। উত্তরা ৪নং সেক্টরের একাংশ, কসাইবাড়ি, আশকোনা, কাওলা এলাকার তীব্র জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আশকোনা হজক্যাম্প হতে বনরূপা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত খালটির বিভিন্ন জায়গায় খননের জন্য ঢাকা ওয়াসা ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় উভয় সংস্থা অপরাগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে এই এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ে কাজটি করার জন্য প্রায় ১.৯০ কিমি দীর্ঘ খালটি খননের জন্য যৌথভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়’।

মেয়র জানান, ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩০ মে ২০২০ থেকে খাল খনন শুরু করে এবং ২৭ জুন ২০২০ খনন সম্পন্ন করে। ডিএনসিসি তার সীমিত জনবল এবং যান-যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ০.১৭ কিমি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১.৭৩ কিমি সর্বমোট ১.৯০ কিমি খাল খনন করে। খালটি খননের ফলে উত্তরা ৪নং সেক্টরের একাংশ, কসাইবাড়ি, আশকোনা, কাওলাসহ আশেপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে।

উল্লেখ্য, খাল খননের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বমোট এক কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে ৫০শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, ‘আমরা কথায় নয় কাজে বিশ্বাস করি, তার প্রমাণ আজকের এই খাল উদ্বোধন। গত ৩০ মে উদ্বোধনের সময় আমরা বলেছিলাম ২১ দিন সময় প্রয়োজন, বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত সাত দিন সময় লেগেছে’।

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘চলতি বছরে ডিএনসিসি কর্তৃক ৪.৭৫ কিলোমিটার সুপরিসর আরসিসি পাইপ-নর্দমা নির্মাণের মাধ্যমে উত্তরা ৪ এবং ৬নং সেক্টরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতাও অনেকাংশে দূর করা হচ্ছে। এছাড়া বনানী মেইন রোডে মাছরাঙ্গা টিভির সামনে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিমানবন্দর সড়কে বনানী ওভারপাস হতে কাকলী পর্যন্ত রিটেনশন পণ্ড পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চলমান পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে এ এলাকার জলাবদ্ধতাও অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে’।

মেয়র বলেন, ‘মেট্রোরেল প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের ফলে ফার্মগেট থেকে পরিকল্পনা কমিশন পর্যন্ত ডিএনসিসির বিদ্যমান প্রায় ২.২ কি.মি. ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ ও অকার্যকর হওয়ায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ হতে অনেক দেরিতে সম্প্রতি ড্রেনেজ-লাইন পুনর্বাসন ব্যয় পাওয়া গেছে। কাজটি আগামী দু’মাসের মধ্যে ডিএনসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেবে। এছাড়া মগবাজার প্রধান সড়কের রেলগেট হতে মধুবাগ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার অনেক পুরানো, প্রায় অকার্যকর এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপরিসর পাইপ-নর্দমাটি পুনঃনির্মাণে ঢাকা ওয়াসা অপারগতা প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষিতে ডিএনসিসি ১৯ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২.৬৭ কিলোমিটার সুপরিসর আরসিসি পাইপ-নর্দমা নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করে। যার বাস্তবায়ন কাজ শিগগির শুরু হবে’।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল। এছাড়াও ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর জাকিয়া সুলতানা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান

ওয়াসার সব খাল ডিএনসিসিকে হস্তান্তরের প্রস্তাব মেয়রের

আপডেট সময় ১২:১২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকা উত্তরের সকল খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেল ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

শনিবার (২৭ জুন) আশকোনা হজক্যাম্প থেকে সিভিল অ্যাভিয়েশন অফিসার্স কোয়ার্টার হয়ে বনরূপা হাউজিং পর্যন্ত খনন খালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কাছে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘খালগুলো জেলা প্রশাসনের অধীনে, পানি নির্গমণসহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওয়াসার। কিন্তু জনগণের দুর্ভোগের কথা শুনতে হয় সিটি করপোরেশনকে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়র ও কাউন্সিলরদেরকে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু ওয়াসাকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। এ অবস্থায়, নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে, ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের বিদ্যমান জনবল, যান-যন্ত্রপাতি, আনুষঙ্গিক সকল উপকরণসহ খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তাব দিচ্ছি’।

মেয়র বলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আমরা আশকোনা হজক্যাম্প সংলগ্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করি। উত্তরা ৪নং সেক্টরের একাংশ, কসাইবাড়ি, আশকোনা, কাওলা এলাকার তীব্র জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আশকোনা হজক্যাম্প হতে বনরূপা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত খালটির বিভিন্ন জায়গায় খননের জন্য ঢাকা ওয়াসা ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় উভয় সংস্থা অপরাগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে এই এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ে কাজটি করার জন্য প্রায় ১.৯০ কিমি দীর্ঘ খালটি খননের জন্য যৌথভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়’।

মেয়র জানান, ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩০ মে ২০২০ থেকে খাল খনন শুরু করে এবং ২৭ জুন ২০২০ খনন সম্পন্ন করে। ডিএনসিসি তার সীমিত জনবল এবং যান-যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ০.১৭ কিমি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১.৭৩ কিমি সর্বমোট ১.৯০ কিমি খাল খনন করে। খালটি খননের ফলে উত্তরা ৪নং সেক্টরের একাংশ, কসাইবাড়ি, আশকোনা, কাওলাসহ আশেপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে।

উল্লেখ্য, খাল খননের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বমোট এক কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে ৫০শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, ‘আমরা কথায় নয় কাজে বিশ্বাস করি, তার প্রমাণ আজকের এই খাল উদ্বোধন। গত ৩০ মে উদ্বোধনের সময় আমরা বলেছিলাম ২১ দিন সময় প্রয়োজন, বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত সাত দিন সময় লেগেছে’।

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘চলতি বছরে ডিএনসিসি কর্তৃক ৪.৭৫ কিলোমিটার সুপরিসর আরসিসি পাইপ-নর্দমা নির্মাণের মাধ্যমে উত্তরা ৪ এবং ৬নং সেক্টরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতাও অনেকাংশে দূর করা হচ্ছে। এছাড়া বনানী মেইন রোডে মাছরাঙ্গা টিভির সামনে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিমানবন্দর সড়কে বনানী ওভারপাস হতে কাকলী পর্যন্ত রিটেনশন পণ্ড পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চলমান পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে এ এলাকার জলাবদ্ধতাও অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে’।

মেয়র বলেন, ‘মেট্রোরেল প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের ফলে ফার্মগেট থেকে পরিকল্পনা কমিশন পর্যন্ত ডিএনসিসির বিদ্যমান প্রায় ২.২ কি.মি. ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ ও অকার্যকর হওয়ায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ হতে অনেক দেরিতে সম্প্রতি ড্রেনেজ-লাইন পুনর্বাসন ব্যয় পাওয়া গেছে। কাজটি আগামী দু’মাসের মধ্যে ডিএনসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেবে। এছাড়া মগবাজার প্রধান সড়কের রেলগেট হতে মধুবাগ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার অনেক পুরানো, প্রায় অকার্যকর এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপরিসর পাইপ-নর্দমাটি পুনঃনির্মাণে ঢাকা ওয়াসা অপারগতা প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষিতে ডিএনসিসি ১৯ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২.৬৭ কিলোমিটার সুপরিসর আরসিসি পাইপ-নর্দমা নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করে। যার বাস্তবায়ন কাজ শিগগির শুরু হবে’।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল। এছাড়াও ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর জাকিয়া সুলতানা।