ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

ছয়-দফা শহীদ স্মরণে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে ডাক বিভাগ।

ডাক অধিদপ্তর ‘ছয়-দফা শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট ও ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার রোববার (৭ জুন) ঢাকায় ডাক অধিদপ্তর আয়োজিত ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমু্‌ক্ত করেন। তিনি রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে জুম ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. আজিজুল ইসলাম এবং শাহাদাৎ হোসেন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ ভিডিওতে সংযুক্ত ছিলেন। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এস ভদ্র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৬৬ সালের ছয়-দফা আমাদের মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে। দেশের নামটি প্রস্তাবনা ছাড়া স্বাধীনতা ঘোষণার সব কিছুই নিহিত ছিলো এই ছয় দফায়। ছয় দফা মানেই স্বাধীনতার ঘোষণা। এর পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর আপসহীন সংগ্রামের কঠিন পথ বেয়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় বাঙালি জাতি।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৬৬ সালের এদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয়-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ আন্দোলনের সূচনা হয়। এ দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ অনেক বাঙালি শহীদ হন।

ছয়-দফার মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিলো উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা জব্বার বলেন, মানুষ আগে থেকে তৈরি না থাকলে যুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির জন্মের পর থেকেই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে মহান নেতা শেখ মুজিব বাঙালির জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের যাত্রা শুরু করেছিলেন। অভাবনীয় ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করে ১৯৬৬, ৬৮, ৬৯ সালে তিনি মহানায়কে পরিণত হন। এরই ধারাবাহিকতায় সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আকাশচুম্বি বিজয় এবং একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয়-দফা উত্থাপন করেন যাতে পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে বিষয়টি স্হান পায়। কিন্তু আয়োজক পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয়-দফা উত্থাপন করেন।

‘ছয়-দফার মূল বক্তব্য ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমাতে এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌ-সদর দপ্তর স্থাপন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

ছয়-দফা শহীদ স্মরণে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে ডাক বিভাগ।

ডাক অধিদপ্তর ‘ছয়-দফা শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট ও ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার রোববার (৭ জুন) ঢাকায় ডাক অধিদপ্তর আয়োজিত ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমু্‌ক্ত করেন। তিনি রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে জুম ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. আজিজুল ইসলাম এবং শাহাদাৎ হোসেন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ ভিডিওতে সংযুক্ত ছিলেন। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এস ভদ্র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৬৬ সালের ছয়-দফা আমাদের মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে। দেশের নামটি প্রস্তাবনা ছাড়া স্বাধীনতা ঘোষণার সব কিছুই নিহিত ছিলো এই ছয় দফায়। ছয় দফা মানেই স্বাধীনতার ঘোষণা। এর পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর আপসহীন সংগ্রামের কঠিন পথ বেয়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় বাঙালি জাতি।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৬৬ সালের এদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয়-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ আন্দোলনের সূচনা হয়। এ দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ অনেক বাঙালি শহীদ হন।

ছয়-দফার মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিলো উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা জব্বার বলেন, মানুষ আগে থেকে তৈরি না থাকলে যুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির জন্মের পর থেকেই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে মহান নেতা শেখ মুজিব বাঙালির জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের যাত্রা শুরু করেছিলেন। অভাবনীয় ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করে ১৯৬৬, ৬৮, ৬৯ সালে তিনি মহানায়কে পরিণত হন। এরই ধারাবাহিকতায় সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আকাশচুম্বি বিজয় এবং একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয়-দফা উত্থাপন করেন যাতে পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে বিষয়টি স্হান পায়। কিন্তু আয়োজক পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয়-দফা উত্থাপন করেন।

‘ছয়-দফার মূল বক্তব্য ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমাতে এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌ-সদর দপ্তর স্থাপন।’