আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনা সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম-নারায়ণগঞ্জ বা গাজীপুর হচ্ছে সবথেকে বেশি সংক্রমিত এলাকা। কিন্তু প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে, সেই হিসেব পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে, ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি এমন খারাপ হতে থাকলে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সবথেকে দূর্বল দিক হলো, চিকিৎসা কাঠামো পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। আর যেকারণে দেখা যাচ্ছে যে, করোনা সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে মৃত্যুহারে চট্টগ্রাম ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং সামনে যদি দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে অপ্রতুল স্বাস্থ্য কাঠামো নিয়ে করোনা মোকাবেলা করা ঐ সমস্ত জেলাগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে জেলাগুলোতে বেশি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন-
১. পরীক্ষা সীমিত
বাংলাদেশে মোট পরীক্ষা হচ্ছে ৫০ টি ল্যাবে। ৫০ টি ল্যাবে পরীক্ষা হলেও মূলত সারাদেশে মোট যে পরীক্ষা হচ্ছে তাঁর অর্ধেকই হচ্ছে ঢাকাতে। ঢাকার বাইরে পরীক্ষা হচ্ছে খুবই সীমিত। সীমিত পরীক্ষার কারণে ঢাকার বাইরে যারা সংক্রমিত হচ্ছে তাঁরা অনেকেই উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পরীক্ষা না করার কারণে অন্যদের সংক্রমিত করার হার বাড়ছে। দ্রুত ঢাকার বাইরে সংক্রমণ ব্যাপক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২. হাসপাতালে অপ্রতুল শয্যা সংখ্যা
আমাদের বাংলাদেশের যে চিকিৎসা কাঠামো, সেই চিকিৎসা কাঠামোর পুরোটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকা বাদে বিভাগীয় শহরগুলোতে কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসা কাঠামো খুবই ভঙ্গুর। এই অবস্থাতে যদি ঢাকার বাইরে রোগী বাড়ে এবং সেখানে যদি মুমূর্ষু রোগীর সংখ্যা বাড়ে তাহলে তাঁদেরকে চিকিৎসা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং করোনা সংক্রমণ একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে পারে।
৩. উপসর্গ গোপন
ঢাকার বাইরে একটি বড় প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে, উপসর্গ গোপন করা। কারণ করোনা নিয়ে সেখানে মানুষের নানারকম নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে, করোনা হলেই বাড়িকে একঘরে করা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এজন্য মফস্বল এলাকাগুলোতে খুব বড় ধরণের সংক্রমণ না হলে উপসর্গ গোপন করে তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি উপসর্গ তাঁরা গোপন করে, ফলে মফস্বল এলাকাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৪. সামাজিক দুরত্বের বালাই নেই
ঢাকায় যেমন সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু মফস্বলগুলোতে সামাজিক দুরত্বের কোন বালাই নেই, সেখানে চায়ের দোকান বা বাজারে মানুষ অবাধে মেলামেশা করছে এবং যখন ঢাকা থেকে লোকজন মফস্বলে গিয়েছে- সেই বাস্তবতায় এখন মফস্বলগুলোতে সামাজিক দুরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দিকে নজর দেওয়া দরকার। কিন্তু সেরকম কোন নজরদারি এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
৫. প্রশাসনের নজরদারি নেই
করোনা মোকাবেলায় ঢাকায় যেমন পুলিশ-প্রশাসন তৎপর এবং কারো উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্রই হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঢাকার বাইরের অধিকাংশ এলাকাতে প্রশাসনের নজরদারি খুবই কম এবং প্রশাসন খাদ্য সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ ইত্যাদি কাজে নিজেদেরকে বেশি ব্যস্ত রেখেছে। ঢাকার বাইরের চিকিৎসকরাও নানারকম আতঙ্কের কারণে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না, এর ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর করোনার সংক্রমণ যদি খারাপের দিকে যেতে থাকে তাহলে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা এবং ঢাকায় করোনায় পরিস্থিতি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল দিয়ে সামলে নেওয়া গেলেও ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা করছেন অনেকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















