আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যাগুলো দূর করা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, দেশে অনেক অসংক্রামক ব্যাধি বা নন কমিউনিকেবল ডিজিস আছে, যে অসুখগুলো দীর্ঘমেয়াদী। যেমন- স্ট্রোক, লিভার, কিডনি, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি। এই রোগীদেরকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে হয়। এরা অনেকেই বয়ঃপ্রবীন। কিন্তু করোনা সঙ্কটের পর আমরা দেখেছি যে, এরা অনেকেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এরা অনেকে মারা যাচ্ছেন। এই অবস্থাটা কাম্য নয় এবং এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিৎ বলে ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন।
ডা. আব্দুল্লাহ বলেন যে, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখনও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সংকট রয়েছে। এক সময় আমরা দেখতাম যে হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি, মানুষ গিজগিজ করেছে। এখন সেই অবস্থা নেই। কেন? তার মানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা।
তিনি বলেন, করোনার চিকিৎসা যেমন করা দরকার। তেমনি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাও জরুরী। সেটা যদি আমরা না করতে পারি তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধি অনেক বেশি। এ সমস্ত ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার মানুষও কম নয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি লক্ষ্য করছি, এ ধরনের মানষরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন। তারা প্রায় ক্ষেত্রেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং চিকিৎসা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন। অনেক হৃদয়বিদারক কাহিনী গণমাধ্যমে আসছে।
ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন যে, প্রত্যেকটি হাসপাতালে কোভিড এবং নন কোভিড দুটোর চিকিৎসাই দেওয়া উচিৎ। দুটোকে আলাদা করে এই চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ। এমন যেন না হয় যে, করোনা চিকিৎসা করতে গিয়ে বা করোনার ভয়ে অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা হচ্ছে না। তাহলে আমাদের সেটা আমাদের জন্য হবে দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই ধরনের কিছু ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, কিছু চিকিৎসা আছে, যেগুলো লাইফ সেভিং। যেমন- ক্যানসারের একজন রোগীকে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিতেই হবে। একজন কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিস করতেই হবে। হার্টের রোগীকে হাসপাতালে যেতেই হবে। কিন্তু এখন হাসপাতালগুলোতে যদি এই সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় বা এই সেবা যদি সীমিত করা হয়, তাহলে এই রোগীদেরকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। একটি মানবিক রাষ্ট্রের জন্য কখনো এটা কাম্য নয়।
ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন যে, চিকিৎসক এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো রোগী যেন বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে ফিরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















