ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না: তথ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না, সেজন্যই তারা সবকিছু বন্ধ করে দেয়ার মতো কথা বলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, আমাদের দেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ, এখানে কোটি কোটি মানুষ তাদের প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে, তাদের কথা মাথায় রেখেই সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে।

রোববার (৩১ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে ‘লকডাউন’ খোলার বিরুদ্ধে বিএনপি’র বক্তব্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিন নানা কথা বলছেন। বিএনপি’র বক্তব্যে মনে হয়, তাদের চিন্তাধারা একপেশে। দেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের কথা তারা মোটেও চিন্তা করে না। প্রতিদিনের আয়ের ওপরই যে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চলে, তাদের মুখে আহার ওঠে, সেই কথাটা মোটেই তারা চিন্তা করে না। সেজন্যই তারা সবকিছু একেবারে বন্ধ করে দেয়ার মতো কথা বলতে পারে, কারফিউ দেয়ার কথাও মাঝেমধ্যে তারা বলে।’

জীবনরক্ষার জন্য জীবিকাকেও রক্ষা করতে হয় এবং সরকারকে জীবন ও জীবিকা দু’টিই রক্ষার জন্য কাজ করতে হয় উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “সেকারণেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুহার ১৪ শতাংশের বেশি, সেখানে বেশ আগেই সমস্ত কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। বেলজিয়ামে মৃত্যুর হার ১৬ শতাংশের বেশি, সেখানে গত সপ্তাহে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। ইতালি, স্পেনে কি বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল! সেখানেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে বেশ ক’দিন আগে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। ভারতে দু’সপ্তাহের বেশি সময় আগে ট্রেনসহ নানা গণপরিবহন চালু করা হয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। আর আমাদের দেশে সরকারের সঠিক পদক্ষেপের ফলে মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ যা ভারত, পাকিস্তান ও ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কম।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশেও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্যই প্রধানমন্ত্রী ২৬ মার্চ থেকে ঘোষিত সাধারণ ছুটি আজকের পর আর প্রলম্বিত করেননি। কারণ আমাদের দেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এখানে মাসের পর মাস সবকিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। যেখানে ইউরোপের উন্নত দেশগুলো পারেনি, সেখানে প্রতিদিন এখনও বহুমানুষের মৃত্যু হচ্ছে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তারপরও তারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘তবে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা কিংবা ছুটি প্রলম্বিত না করার মানে এই নয় যে, আমরা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে যেভাবে চলতাম, সেভাবে চলবো। এখন অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, সব ধরনের শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক মেলামেশা পরিহার করতে হবে। শুধুমাত্র প্রয়োজনেই আমরা ঘর থেকে বের হবো ও কাজ করবো, অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু করবো না, তাহলেই আমরা আমাদেরকে সুরক্ষা দিতে পারবো।’

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না, সেজন্যই তারা সবকিছু বন্ধ করে দেয়ার মতো কথা বলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, আমাদের দেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ, এখানে কোটি কোটি মানুষ তাদের প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে, তাদের কথা মাথায় রেখেই সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে।

রোববার (৩১ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে ‘লকডাউন’ খোলার বিরুদ্ধে বিএনপি’র বক্তব্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিন নানা কথা বলছেন। বিএনপি’র বক্তব্যে মনে হয়, তাদের চিন্তাধারা একপেশে। দেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের কথা তারা মোটেও চিন্তা করে না। প্রতিদিনের আয়ের ওপরই যে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চলে, তাদের মুখে আহার ওঠে, সেই কথাটা মোটেই তারা চিন্তা করে না। সেজন্যই তারা সবকিছু একেবারে বন্ধ করে দেয়ার মতো কথা বলতে পারে, কারফিউ দেয়ার কথাও মাঝেমধ্যে তারা বলে।’

জীবনরক্ষার জন্য জীবিকাকেও রক্ষা করতে হয় এবং সরকারকে জীবন ও জীবিকা দু’টিই রক্ষার জন্য কাজ করতে হয় উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “সেকারণেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুহার ১৪ শতাংশের বেশি, সেখানে বেশ আগেই সমস্ত কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। বেলজিয়ামে মৃত্যুর হার ১৬ শতাংশের বেশি, সেখানে গত সপ্তাহে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। ইতালি, স্পেনে কি বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল! সেখানেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে বেশ ক’দিন আগে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। ভারতে দু’সপ্তাহের বেশি সময় আগে ট্রেনসহ নানা গণপরিবহন চালু করা হয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। আর আমাদের দেশে সরকারের সঠিক পদক্ষেপের ফলে মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ যা ভারত, পাকিস্তান ও ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কম।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশেও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্যই প্রধানমন্ত্রী ২৬ মার্চ থেকে ঘোষিত সাধারণ ছুটি আজকের পর আর প্রলম্বিত করেননি। কারণ আমাদের দেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এখানে মাসের পর মাস সবকিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। যেখানে ইউরোপের উন্নত দেশগুলো পারেনি, সেখানে প্রতিদিন এখনও বহুমানুষের মৃত্যু হচ্ছে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তারপরও তারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘তবে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা কিংবা ছুটি প্রলম্বিত না করার মানে এই নয় যে, আমরা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে যেভাবে চলতাম, সেভাবে চলবো। এখন অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, সব ধরনের শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক মেলামেশা পরিহার করতে হবে। শুধুমাত্র প্রয়োজনেই আমরা ঘর থেকে বের হবো ও কাজ করবো, অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু করবো না, তাহলেই আমরা আমাদেরকে সুরক্ষা দিতে পারবো।’