ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় উত্তাল আমেরিকা, ১৩ শহরে কারফিউ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিনাপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা আমেরিকা। বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগের একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে মিনাপোলিস, লস এঞ্জেলস, শিকাগো, আটলান্টাসহ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। মিনাপোলিসে টানা পাঁচ রাতের সহিংসতা রুখতে পুলিশকে শনিবার কাঁদানে গ্যাস ও গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। লস এঞ্জেলস, শিকাগোসহ আমেরিকার ১৩টি শহরে রাতের কারফিউ জারি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে বহু শহরে জাতীয় নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।

সিয়াটেল থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ বিক্ষোভকারী নেমে পড়েছেন পথে। পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। শনিবার লস এঞ্জলসে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশও বিক্ষোভকারীদের উপর বেধড়ক লাঠি চালায়। পরে রাবার বুলেটও ছোড়ে পুলিশ। ফিলাডেলফিয়ায় দোকান ভাঙচুর করেন বিক্ষোভকারীরা। শিকাগো ও নিউ ইয়র্কে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও মরিচের গুড়া ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। গত কাল নিউ ইয়র্কের বার্কলেস সেন্টারে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেও ঢুকে পড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। ‘আমার দম আটকে আসছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের দেখা যায় করোনায় লকডাউন হোয়াইট হাউসের বাইরেও। কারফিউ ভেঙেই নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, লাস ভেগাসের রাস্তায় রাস্তায় ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের মামলা দায়েরও হয়েছে। কিন্তু তবুও বিক্ষোভ চলছেই।

‘আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আর পারছি না। মরে যাচ্ছি আমি’— সোমবার ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে এ ভাবেই কাতরাতে দেখা গিয়েছিল জালিয়াতির দায়ে গ্রেপ্তার ৪৬ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে। তার গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে রাখা শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনের আক্রোশ তবু মেটেনি। প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় জর্জ। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ওই ঘটনায় জড়িত চার পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়। তবু প্রতিবাদের আগুন নেভেনি।

অনেকেরই অভিযোগ পরিস্থিতি আজ এতখানি অগ্নিগর্ভ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কারণেই। কার্যত জনতাকে অভিযুক্ত করেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘লুটপাট চললে গুলি তো হবেই’! এরপর আরও ফেটে পড়ে জনতা। শনিবার অবশ্য পরিস্থিতি আঁচ করে খানিকটা সুর নরম করেই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওরা সবাই খুব ভাল মানুষ।’’ তবে এ নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নামে লাগাতার চলতে থাকা বিশৃঙ্খলা যে তিনি সহ্য করবেন না, তা-ও জানান ট্রাম্প।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় উত্তাল আমেরিকা, ১৩ শহরে কারফিউ

আপডেট সময় ০৪:১১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিনাপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা আমেরিকা। বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগের একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে মিনাপোলিস, লস এঞ্জেলস, শিকাগো, আটলান্টাসহ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। মিনাপোলিসে টানা পাঁচ রাতের সহিংসতা রুখতে পুলিশকে শনিবার কাঁদানে গ্যাস ও গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। লস এঞ্জেলস, শিকাগোসহ আমেরিকার ১৩টি শহরে রাতের কারফিউ জারি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে বহু শহরে জাতীয় নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।

সিয়াটেল থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ বিক্ষোভকারী নেমে পড়েছেন পথে। পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। শনিবার লস এঞ্জলসে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশও বিক্ষোভকারীদের উপর বেধড়ক লাঠি চালায়। পরে রাবার বুলেটও ছোড়ে পুলিশ। ফিলাডেলফিয়ায় দোকান ভাঙচুর করেন বিক্ষোভকারীরা। শিকাগো ও নিউ ইয়র্কে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও মরিচের গুড়া ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। গত কাল নিউ ইয়র্কের বার্কলেস সেন্টারে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেও ঢুকে পড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। ‘আমার দম আটকে আসছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের দেখা যায় করোনায় লকডাউন হোয়াইট হাউসের বাইরেও। কারফিউ ভেঙেই নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, লাস ভেগাসের রাস্তায় রাস্তায় ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের মামলা দায়েরও হয়েছে। কিন্তু তবুও বিক্ষোভ চলছেই।

‘আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আর পারছি না। মরে যাচ্ছি আমি’— সোমবার ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে এ ভাবেই কাতরাতে দেখা গিয়েছিল জালিয়াতির দায়ে গ্রেপ্তার ৪৬ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে। তার গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে রাখা শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনের আক্রোশ তবু মেটেনি। প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় জর্জ। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ওই ঘটনায় জড়িত চার পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়। তবু প্রতিবাদের আগুন নেভেনি।

অনেকেরই অভিযোগ পরিস্থিতি আজ এতখানি অগ্নিগর্ভ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কারণেই। কার্যত জনতাকে অভিযুক্ত করেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘লুটপাট চললে গুলি তো হবেই’! এরপর আরও ফেটে পড়ে জনতা। শনিবার অবশ্য পরিস্থিতি আঁচ করে খানিকটা সুর নরম করেই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওরা সবাই খুব ভাল মানুষ।’’ তবে এ নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নামে লাগাতার চলতে থাকা বিশৃঙ্খলা যে তিনি সহ্য করবেন না, তা-ও জানান ট্রাম্প।