ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

করোনায় মারা না গেলেও মুসলিম মরদেহ পুড়িয়ে ফেলছে শ্রীলঙ্কা!

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মারা না গেলেও শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলিমদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন একটি ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে বিচার দাবি করেছে নিহতে পরিবার। খবর আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়, দেশটিতে ৪৪ বছর বয়সী জুবাইর ফাতিমা রিনোসা নামের এক সংখ্যালঘু মুসলিম নারীর শবদাহ সম্পন্ন হওয়ার দু’দিন পর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ফলে এমন নির্মম ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন শোকগ্রস্ত পরিবার।

চার সন্তানের জননী রিনোসা। ওই চার সন্তানের একজন মোহাম্মদ সাজিদ। তিনি বলেন বলেছেন, করোনা রোগীর মরদেহ পোড়ানোর বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিতর্কিত বিধান অনুযায়ী গত ৫ মে দাফনের জন্য ইসলামিক ঐতিহ্য উপেক্ষা করে তার মায়ের শবদাহ সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, মর দেহ শবদাহ করার জন্য তার শোকাহত ভাইয়ের থেকে কর্তৃপক্ষ একটি ফরমে স্বাক্ষর নেয়। এর দুইদিন পর পরীক্ষার ফলে দেখা যায় রিনোসা করোনায় মারা যাননি।

মোহাম্মদ সাজিদ বলেন, ৭ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমার মায়ের প্রাথমিক করোনা পরীক্ষায় সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোভিড-১৯ এ মারা যাননি। এটা জানার পর আমার মায়ের ভুল শেষকৃত্য নিয়ে শোকগ্রস্ত বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

সাজিদ জানায়, কাঁদতে কাঁদতে তার বাবা বলেন-সে চলে গেছে আমি এটা মেনে নিতে পারি। কিন্তু তার শবদাহ মেনে নিতে পারছি না।

শ্রীলঙ্কায় করোনায় যে ৯ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজন মুসলিম। তাদের সবারই শবদাহ করা হয়েছে; যা মৃত ব্যক্তির ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী দাফনের বিরুদ্ধে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ দেশে মৃত মুসলিমদের দাফনের বিধান রয়েছে। কিন্তু গত ১১ এপ্রিল দেশটির সরকার করোনা রোগীর মরদেহ পোড়ানো বাধ্যতামূলক করে নীতিমালা সংশোধন করে। শ্রীলঙ্কার সরকারের এই বিধান মুসলিমদের মৌলিক ধর্মীয় অধিকারের লঙ্ঘন বলে দেশটির মুসলিম নেতারা অভিযোগ করেছেন।

দেশটির রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা মুসলিম কংগ্রেসের নেতা ও পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য আলী জহির মাওলানা বলেন, পরিবারটি শোক পালন করছে। তারা শুধুমাত্র তাকেই হারায়নি বরং দাফনের মৌলিক ধর্মীয় মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে খুবই রূঢ় আচরণ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

করোনায় মারা না গেলেও মুসলিম মরদেহ পুড়িয়ে ফেলছে শ্রীলঙ্কা!

আপডেট সময় ১১:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মারা না গেলেও শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলিমদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন একটি ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে বিচার দাবি করেছে নিহতে পরিবার। খবর আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়, দেশটিতে ৪৪ বছর বয়সী জুবাইর ফাতিমা রিনোসা নামের এক সংখ্যালঘু মুসলিম নারীর শবদাহ সম্পন্ন হওয়ার দু’দিন পর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ফলে এমন নির্মম ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন শোকগ্রস্ত পরিবার।

চার সন্তানের জননী রিনোসা। ওই চার সন্তানের একজন মোহাম্মদ সাজিদ। তিনি বলেন বলেছেন, করোনা রোগীর মরদেহ পোড়ানোর বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিতর্কিত বিধান অনুযায়ী গত ৫ মে দাফনের জন্য ইসলামিক ঐতিহ্য উপেক্ষা করে তার মায়ের শবদাহ সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, মর দেহ শবদাহ করার জন্য তার শোকাহত ভাইয়ের থেকে কর্তৃপক্ষ একটি ফরমে স্বাক্ষর নেয়। এর দুইদিন পর পরীক্ষার ফলে দেখা যায় রিনোসা করোনায় মারা যাননি।

মোহাম্মদ সাজিদ বলেন, ৭ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমার মায়ের প্রাথমিক করোনা পরীক্ষায় সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোভিড-১৯ এ মারা যাননি। এটা জানার পর আমার মায়ের ভুল শেষকৃত্য নিয়ে শোকগ্রস্ত বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

সাজিদ জানায়, কাঁদতে কাঁদতে তার বাবা বলেন-সে চলে গেছে আমি এটা মেনে নিতে পারি। কিন্তু তার শবদাহ মেনে নিতে পারছি না।

শ্রীলঙ্কায় করোনায় যে ৯ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজন মুসলিম। তাদের সবারই শবদাহ করা হয়েছে; যা মৃত ব্যক্তির ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী দাফনের বিরুদ্ধে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ দেশে মৃত মুসলিমদের দাফনের বিধান রয়েছে। কিন্তু গত ১১ এপ্রিল দেশটির সরকার করোনা রোগীর মরদেহ পোড়ানো বাধ্যতামূলক করে নীতিমালা সংশোধন করে। শ্রীলঙ্কার সরকারের এই বিধান মুসলিমদের মৌলিক ধর্মীয় অধিকারের লঙ্ঘন বলে দেশটির মুসলিম নেতারা অভিযোগ করেছেন।

দেশটির রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা মুসলিম কংগ্রেসের নেতা ও পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য আলী জহির মাওলানা বলেন, পরিবারটি শোক পালন করছে। তারা শুধুমাত্র তাকেই হারায়নি বরং দাফনের মৌলিক ধর্মীয় মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে খুবই রূঢ় আচরণ করেছে।