ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

‘আগামীতে খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে এখন থেকেই যুদ্ধ করতে হবে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিতকরতে এখন থেকেই যুদ্ধ শুরু করতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার করোনা মোকাবিলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা ও মাড়াই, সরকারিভাবে ধান, চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী।

সাধন চন্দ্র বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো আমাদের দেশও করোনা মহামারির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরবর্তী খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে, ভালো আচরণ করার মাধ্যমে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিত্য-নতুন উদ্যোগ নিয়ে চলমান বোরো সংগ্রহ শতভাগ সফল করতে হবে।

‘করোনা পরবর্তী দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক আবাদযোগ্য জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমিই অনাবাদি ফেলে রাখা যাবে না। চলতি বোরো মৌসুমে সারা দেশে বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে নতুন ফসল ঘরে তুলতে পারলে খাদ্যের সমস্যা হবে না।’

রংপুর বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে ধানকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। আর তা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

‘খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করোনা মোকাবিলা করে এই খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। খাদ্যশস্য সংগ্রহে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সে জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা ও করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলতে হবে।’

কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা প্রসঙ্গে সাধন চন্দ্র আরও বলেন, লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের নির্বাচন করা হবে। যদি কোনো কৃষক তার স্লিপ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করেন, তাহলে সেই কৃষকের কার্ড বাতিল করা হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো কৃষক যেন খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফেরত না যান এবং কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। পাশাপাশি গুদামের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খামালের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লটারি করার পরপরই কৃষকদের ওয়েটিং লিস্ট তৈরি করাসহ আরও বেশকিছু দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন খাদ্যমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম বলেন, কোনোভাবেই পুরান চাল নেওয়া যাবে না। চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংগ্রহকৃত চাল এবারের বোরো মৌসুমে ফলানো ধানের চাল। পাশাপাশি বস্তার গায়ে স্টেনসিল ব্যবহার করার নির্দেশও দেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরাও বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আইজিপির ক্রসফায়ার বিষয়ক মন্তব্যে সরকারের অস্বস্তি

‘আগামীতে খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে এখন থেকেই যুদ্ধ করতে হবে’

আপডেট সময় ০৮:০২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিতকরতে এখন থেকেই যুদ্ধ শুরু করতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার করোনা মোকাবিলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা ও মাড়াই, সরকারিভাবে ধান, চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী।

সাধন চন্দ্র বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো আমাদের দেশও করোনা মহামারির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরবর্তী খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে, ভালো আচরণ করার মাধ্যমে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিত্য-নতুন উদ্যোগ নিয়ে চলমান বোরো সংগ্রহ শতভাগ সফল করতে হবে।

‘করোনা পরবর্তী দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক আবাদযোগ্য জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমিই অনাবাদি ফেলে রাখা যাবে না। চলতি বোরো মৌসুমে সারা দেশে বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে নতুন ফসল ঘরে তুলতে পারলে খাদ্যের সমস্যা হবে না।’

রংপুর বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে ধানকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। আর তা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

‘খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করোনা মোকাবিলা করে এই খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। খাদ্যশস্য সংগ্রহে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সে জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা ও করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলতে হবে।’

কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা প্রসঙ্গে সাধন চন্দ্র আরও বলেন, লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের নির্বাচন করা হবে। যদি কোনো কৃষক তার স্লিপ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করেন, তাহলে সেই কৃষকের কার্ড বাতিল করা হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো কৃষক যেন খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফেরত না যান এবং কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। পাশাপাশি গুদামের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খামালের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লটারি করার পরপরই কৃষকদের ওয়েটিং লিস্ট তৈরি করাসহ আরও বেশকিছু দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন খাদ্যমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম বলেন, কোনোভাবেই পুরান চাল নেওয়া যাবে না। চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংগ্রহকৃত চাল এবারের বোরো মৌসুমে ফলানো ধানের চাল। পাশাপাশি বস্তার গায়ে স্টেনসিল ব্যবহার করার নির্দেশও দেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরাও বক্তব্য রাখেন।