ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন হাসনাত আব্দুল্লাহ উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে: ডেপুটি স্পিকার দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব সংস্কৃতিচর্চায় শিক্ষার্থীদের উগ্র চিন্তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায় : ববি হাজ্জাজ সংকট না থাকলে রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিমি লম্বা লাইন কেন, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, আর দেশে বাড়ছে: জামায়াত আমির অতীতে কেউ ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন: নাহিদ সোমবার থেকে সারা দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু

শাহরাস্তিতে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের দহশ্রী গ্রামের মৃত আ. হাকিমের ছেলে আজাদ হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রবিবার একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে ওই ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বিনামূল্যের চাল বিতরণকালে ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে সাত-আট কেজি করে চাল বিতরণ করে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে চাল কম দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি চাল কম পেয়েছেন, তাই কম বিতরণ করছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে আজাদকে ঘাড় ধাক্কা দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনির চৌধুরী এবং এ বিষয়ে কথা বললে কল্লা (মাথা) কেটে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মনির চৌধুরী তার এলাকায় ভিজিডির কার্ড নিজের কাছে জমা রেখে সাধারণ মানুষের চাল আত্মসাত করে আসছেন।

সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে চাল ওজনে কম দেয়ার বিষয়ে খোঁজ নিলে সরকারি সহায়তা পাওয়া লোকজন সাংবাদিকদের কাছে চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ আনেন।

মিয়াজী বাড়ির আ. মান্নানের ছেলে ইমান হোসেন সোহেল জানান, তিনি সাত কেজি ২০০ গ্রাম চাল পেয়েছেন। গাজী বাড়ির হারুন রশিদের ছেলে রিপন পেয়েছেন আট কেজি ৩০০ গ্রাম, নতুন বাড়ির হুমায়ূন কবিরের স্ত্রী সুফিয়া বেগম পেয়েছেন সাত কেজি ৭৫০ গ্রাম।

আতাকরা গ্রামে গেলে ইউনিয়ন ত্রাণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রব জানান, ওই গ্রামের আ. সাত্তার, নজরুল ইসলাম ও সাফিয়া বেগমকে চাল ওজনে ১০ কেজির চেয়ে কম দেয়া হয়েছে। হাজী বাড়ির আম্বর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাকে সাড়ে সাত কেজি চাল দেয়া হয়েছে।

৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আসলাম ভুঁইয়া জানান, প্রত্যেককে সাড়ে সাত কেজি থেকে আট কেজি ৩০০ গ্রাম করে চাল দেয়া হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মমিনুল হক খোকন বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা মিলে অসহায় লোকদের ত্রাণের চাল কম দিচ্ছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ায় আওয়ামী লীগের লোকদের মূল্যায়ন করেন না বলেও অভিযোগ তোলেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রতন চৌধুরী বলেন, ইতোপূর্বে যতবার চাল বিতরণ করা হয়েছে তাতে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমি চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে জানান, গুদাম থেকেই চাল কম দেয়া হচ্ছে। আমার বিশ্বাস না হলে গ্রামপুলিশ সঙ্গে নিয়ে গুদাম থেকে চাল মেপে আনতে বলেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সেলিম পাটোয়ারী লিটন বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রতন চৌধুরীকে ৩০ জন লোকের জন্য ১০ বস্তা চাল বুঝিয়ে দিয়েছি। ওই ওয়ার্ডের সভাপতি ও গ্রামপুলিশ মিলে চাল বিতরণ করেছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, বিতরণ শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করা ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মনির চৌধুরীকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে লাথি মেরে লাঞ্ছিত করেন আজাদ মুন্সী। এ সময় অন্যান্য ইউপি সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। গোডাউন থেকে চাল আসার পর আনলোড করে সঙ্গে সঙ্গে লোকের সংখ্যা অনুপাতে মেম্বারদের মাঝে বস্তা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। চাল বিতরনকালে ট্যাগ অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের

শাহরাস্তিতে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের দহশ্রী গ্রামের মৃত আ. হাকিমের ছেলে আজাদ হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রবিবার একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে ওই ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বিনামূল্যের চাল বিতরণকালে ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে সাত-আট কেজি করে চাল বিতরণ করে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে চাল কম দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি চাল কম পেয়েছেন, তাই কম বিতরণ করছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে আজাদকে ঘাড় ধাক্কা দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনির চৌধুরী এবং এ বিষয়ে কথা বললে কল্লা (মাথা) কেটে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মনির চৌধুরী তার এলাকায় ভিজিডির কার্ড নিজের কাছে জমা রেখে সাধারণ মানুষের চাল আত্মসাত করে আসছেন।

সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে চাল ওজনে কম দেয়ার বিষয়ে খোঁজ নিলে সরকারি সহায়তা পাওয়া লোকজন সাংবাদিকদের কাছে চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ আনেন।

মিয়াজী বাড়ির আ. মান্নানের ছেলে ইমান হোসেন সোহেল জানান, তিনি সাত কেজি ২০০ গ্রাম চাল পেয়েছেন। গাজী বাড়ির হারুন রশিদের ছেলে রিপন পেয়েছেন আট কেজি ৩০০ গ্রাম, নতুন বাড়ির হুমায়ূন কবিরের স্ত্রী সুফিয়া বেগম পেয়েছেন সাত কেজি ৭৫০ গ্রাম।

আতাকরা গ্রামে গেলে ইউনিয়ন ত্রাণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রব জানান, ওই গ্রামের আ. সাত্তার, নজরুল ইসলাম ও সাফিয়া বেগমকে চাল ওজনে ১০ কেজির চেয়ে কম দেয়া হয়েছে। হাজী বাড়ির আম্বর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাকে সাড়ে সাত কেজি চাল দেয়া হয়েছে।

৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আসলাম ভুঁইয়া জানান, প্রত্যেককে সাড়ে সাত কেজি থেকে আট কেজি ৩০০ গ্রাম করে চাল দেয়া হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মমিনুল হক খোকন বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা মিলে অসহায় লোকদের ত্রাণের চাল কম দিচ্ছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ায় আওয়ামী লীগের লোকদের মূল্যায়ন করেন না বলেও অভিযোগ তোলেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রতন চৌধুরী বলেন, ইতোপূর্বে যতবার চাল বিতরণ করা হয়েছে তাতে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমি চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে জানান, গুদাম থেকেই চাল কম দেয়া হচ্ছে। আমার বিশ্বাস না হলে গ্রামপুলিশ সঙ্গে নিয়ে গুদাম থেকে চাল মেপে আনতে বলেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সেলিম পাটোয়ারী লিটন বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রতন চৌধুরীকে ৩০ জন লোকের জন্য ১০ বস্তা চাল বুঝিয়ে দিয়েছি। ওই ওয়ার্ডের সভাপতি ও গ্রামপুলিশ মিলে চাল বিতরণ করেছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, বিতরণ শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করা ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মনির চৌধুরীকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে লাথি মেরে লাঞ্ছিত করেন আজাদ মুন্সী। এ সময় অন্যান্য ইউপি সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। গোডাউন থেকে চাল আসার পর আনলোড করে সঙ্গে সঙ্গে লোকের সংখ্যা অনুপাতে মেম্বারদের মাঝে বস্তা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। চাল বিতরনকালে ট্যাগ অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।