ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

মোট আক্রান্তের অর্ধেকই ছুটি শিথিলের পর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলার জন্য গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর ধাপে ধাপে ছুটি শিথিল করা হয়েছে। আর করোনার যে সংক্রমণের চার্ট, সেটা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ছুটি যত শিথিল করা হয়েছে, তত করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ বেড়েছে গত ১১ দিনে। যেদিন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ কলকারখানাগুলো চালু করা হয়েছিল সেদিন থেকে।

২৬ এপ্রিল থেকে সরকার গার্মেন্টস কারখানাগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পর দিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল থেকে কারখানাগুলো কার্যত চালু হয়। ২৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। গত তিনদিন টানা ৭শ’ এর উপর করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এটা থেকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্পষ্টতই পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া এবং ছুটি শিথিল করার ফলে মানুষের অবাধ চলাফেরার সৃষ্টি হয়েছে। আর এটার নেতিবাচক প্রভাব করোনা সংক্রমণের হার দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট সংক্রমিত হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫১২ জনই ছুটি শিথিল করার পর আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের অর্ধেকই হয়েছে গত ১১ দিনে।

আমরা যদি একটু বিশ্লেষণ করি, দেখা যাবে যে, ২৬ এপ্রিল সরকার গার্মেন্টস কারখানাগুলো শর্ত সাপেক্ষে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। আর ২৮ এপ্রিল থেকে আমরা করোনা সংক্রমণের বাড়তি প্রবণতা লক্ষ্য করছি। ২৮ এপ্রিলের আগে যেখানে ৩শ’ এবং ৪শ’ এর ঘরে করোনা সংক্রমণ ছিল, ২৮ এপ্রিল সেটা সাড়ে ৫শ’ এর ঘরে যায়। এরপর আর সেটা কমেনি।

২৮ এপ্রিল করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৪৯ জন। ২৯ এপ্রিল ৬৪১ জন। ৩০ এপ্রিল ৫৬৪ জন। ১ মে ৫৭১ জন। এভাবে বাড়তে থাকে এবং গতকাল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৯০ জন রোগী শনাক্ত হয়। আর আজ শনাক্ত হয় ৭০৬ জন। অর্থাৎ যেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছিল যে, লকডাউন শিথিল করলে পরিণতি ভালো হবে না, তার ব্যবহারিক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে। ছুটি শিথিল করার সাথে সাথেই করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি হচ্ছে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ছুটি শিথিল করার যে নেতিবাচক প্রভাব সেটা এখনও পড়তে শুরু করেনি। সেটা পড়তে আরও ১০, ১২ দিন সময় লাগবে। তারপর সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে। কিন্তু সেটা কখন বাড়বে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এখনও করোনার পিক সময় শুরু হয় নি। তবে বাংলাদেশ পিকের দিকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মে মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ এটা চূড়ান্ত পরিসীমা অতিক্রম করবে। এই সময় আমাদের সামাজিক দূরত্ব এবং ঘরে থাকাটা বেশি জরুরী ছিল। কিন্তু সেই সময়েই আমরা সবকিছু খুলে দিয়েছি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার জন্য গঠিত হয়েছে যে টেকনিকাল কমিটি, সেই কমিটির অধিকাংশ সদস্যই মনে করেন যে, এখন ছুটিটা শিথিল করার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা দাবি করেছেন যে, পরামর্শক কমিটির কোনো রকম সুপারিশ এবং কমিটির সঙ্গে কোনোরকম আলাপ আলোচনা ছাড়াই এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার যেটা বিবেচনা করছে যে, করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এখনও মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের যেহেতু অনেক কম, সেহেতু অর্থনৈতিক গতি প্রবাহকে সচল রাখার জন্য সীমিত আকারে কলকারখানা চালু এবং অফিস আদালত খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর হার এখন কম, তবে করোনার সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, অনেক বেশি সংক্রমিত হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর অসুস্থের সংখ্যা বাড়বে। হাসপাতালের উপর চাপ বাড়বে। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর সেই চাপ গ্রহণ করার মতো সক্ষমতা নেই। তখন মৃত্যুর হার আমাদের হিসেবের বাইরে আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে।

সেরকম একটি আশঙ্কার পরও মনে করা হচ্ছে যে, ছুটি শিথিলের ফলেই এই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে কিনা সেটা এখনও বোধগম্য নয়। সরকারের অনেকেই মনে করছেন যে সেটা বুঝতে গেলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

মোট আক্রান্তের অর্ধেকই ছুটি শিথিলের পর

আপডেট সময় ০৫:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলার জন্য গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর ধাপে ধাপে ছুটি শিথিল করা হয়েছে। আর করোনার যে সংক্রমণের চার্ট, সেটা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ছুটি যত শিথিল করা হয়েছে, তত করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ বেড়েছে গত ১১ দিনে। যেদিন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ কলকারখানাগুলো চালু করা হয়েছিল সেদিন থেকে।

২৬ এপ্রিল থেকে সরকার গার্মেন্টস কারখানাগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পর দিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল থেকে কারখানাগুলো কার্যত চালু হয়। ২৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। গত তিনদিন টানা ৭শ’ এর উপর করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এটা থেকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্পষ্টতই পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া এবং ছুটি শিথিল করার ফলে মানুষের অবাধ চলাফেরার সৃষ্টি হয়েছে। আর এটার নেতিবাচক প্রভাব করোনা সংক্রমণের হার দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট সংক্রমিত হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫১২ জনই ছুটি শিথিল করার পর আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের অর্ধেকই হয়েছে গত ১১ দিনে।

আমরা যদি একটু বিশ্লেষণ করি, দেখা যাবে যে, ২৬ এপ্রিল সরকার গার্মেন্টস কারখানাগুলো শর্ত সাপেক্ষে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। আর ২৮ এপ্রিল থেকে আমরা করোনা সংক্রমণের বাড়তি প্রবণতা লক্ষ্য করছি। ২৮ এপ্রিলের আগে যেখানে ৩শ’ এবং ৪শ’ এর ঘরে করোনা সংক্রমণ ছিল, ২৮ এপ্রিল সেটা সাড়ে ৫শ’ এর ঘরে যায়। এরপর আর সেটা কমেনি।

২৮ এপ্রিল করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৪৯ জন। ২৯ এপ্রিল ৬৪১ জন। ৩০ এপ্রিল ৫৬৪ জন। ১ মে ৫৭১ জন। এভাবে বাড়তে থাকে এবং গতকাল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৯০ জন রোগী শনাক্ত হয়। আর আজ শনাক্ত হয় ৭০৬ জন। অর্থাৎ যেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছিল যে, লকডাউন শিথিল করলে পরিণতি ভালো হবে না, তার ব্যবহারিক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে। ছুটি শিথিল করার সাথে সাথেই করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি হচ্ছে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ছুটি শিথিল করার যে নেতিবাচক প্রভাব সেটা এখনও পড়তে শুরু করেনি। সেটা পড়তে আরও ১০, ১২ দিন সময় লাগবে। তারপর সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে। কিন্তু সেটা কখন বাড়বে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এখনও করোনার পিক সময় শুরু হয় নি। তবে বাংলাদেশ পিকের দিকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মে মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ এটা চূড়ান্ত পরিসীমা অতিক্রম করবে। এই সময় আমাদের সামাজিক দূরত্ব এবং ঘরে থাকাটা বেশি জরুরী ছিল। কিন্তু সেই সময়েই আমরা সবকিছু খুলে দিয়েছি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার জন্য গঠিত হয়েছে যে টেকনিকাল কমিটি, সেই কমিটির অধিকাংশ সদস্যই মনে করেন যে, এখন ছুটিটা শিথিল করার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা দাবি করেছেন যে, পরামর্শক কমিটির কোনো রকম সুপারিশ এবং কমিটির সঙ্গে কোনোরকম আলাপ আলোচনা ছাড়াই এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার যেটা বিবেচনা করছে যে, করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এখনও মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের যেহেতু অনেক কম, সেহেতু অর্থনৈতিক গতি প্রবাহকে সচল রাখার জন্য সীমিত আকারে কলকারখানা চালু এবং অফিস আদালত খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর হার এখন কম, তবে করোনার সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, অনেক বেশি সংক্রমিত হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর অসুস্থের সংখ্যা বাড়বে। হাসপাতালের উপর চাপ বাড়বে। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর সেই চাপ গ্রহণ করার মতো সক্ষমতা নেই। তখন মৃত্যুর হার আমাদের হিসেবের বাইরে আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে।

সেরকম একটি আশঙ্কার পরও মনে করা হচ্ছে যে, ছুটি শিথিলের ফলেই এই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে কিনা সেটা এখনও বোধগম্য নয়। সরকারের অনেকেই মনে করছেন যে সেটা বুঝতে গেলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।