ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

করোনা মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে মহাদুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবিলা সময়ের দাবি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, অন্যথায় এর পরিণতির জন্য এককভাবে বর্তমান সরকারকেই দায়ভার বহন করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সুষ্ঠুভাবে করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য সম্পদশালী রাষ্ট্র হওয়াটা জরুরি নয়। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় ভিয়েতনাম, নেপাল, ভুটান এমনকি ভারতের কেরালা রাজ্যে আন্তরিকতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরাসরি আর্থিক-গ্রান্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে আমরা একটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছি। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলো এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারত দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে সমন্বিতভাবে বর্তমানে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশেও আমরা সব রাজনৈতিক দল, এমন জাতীয় সন্ধিক্ষণে ১৯৭১ সালের ন্যায় সম্মিলিতভাবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতেও ঐক্যের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সরকার একদলীয় ভিত্তিতে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে সবকিছু লেজেগোবরে করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতির দায় এককভাবে বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।

সরকারকে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি, এখনও সময় আছে। এ সময়ে এসেও সরকার যদি মনে করে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়াবে। তাহলে কিছু পদক্ষেপ এখনও জরুরিভাবে তারা নিতে পারে। যদিও এরই মধ্যে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গত ৪ এপ্রিল বিএনপির দেওয়ার আর্থিক প্যাকেজে প্রস্তাবনায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ আছে।

ফখরুল বলেন, এ মুহূর্তে জরুরি আবশ্যকীয় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দিন আনে দিন খাওয়া শ্রেণির মানুষের মাসিক ৫ হাজার টাকা হারে প্রাথমিকভাবে তিন মাসে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা নগদ সাহায্য-সহায়তা সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই হবে। এ শ্রেণির মানুষের কাছে নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দিলে আয়ের অপরিহার্য যুক্তিতে তারা ঘরের বাইরে আসার প্রয়োজন অনুভব করবে না। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বা সহনীয় পর্যায়ে আনয়ন করা সম্ভব হবে।

করোনা মহামারির এমন পরিস্থিতিতেও ত্রাণ চুরি এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ফখরুল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

করোনা মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে মহাদুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবিলা সময়ের দাবি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, অন্যথায় এর পরিণতির জন্য এককভাবে বর্তমান সরকারকেই দায়ভার বহন করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সুষ্ঠুভাবে করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য সম্পদশালী রাষ্ট্র হওয়াটা জরুরি নয়। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় ভিয়েতনাম, নেপাল, ভুটান এমনকি ভারতের কেরালা রাজ্যে আন্তরিকতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরাসরি আর্থিক-গ্রান্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে আমরা একটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছি। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলো এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারত দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে সমন্বিতভাবে বর্তমানে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশেও আমরা সব রাজনৈতিক দল, এমন জাতীয় সন্ধিক্ষণে ১৯৭১ সালের ন্যায় সম্মিলিতভাবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতেও ঐক্যের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সরকার একদলীয় ভিত্তিতে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে সবকিছু লেজেগোবরে করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতির দায় এককভাবে বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।

সরকারকে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি, এখনও সময় আছে। এ সময়ে এসেও সরকার যদি মনে করে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়াবে। তাহলে কিছু পদক্ষেপ এখনও জরুরিভাবে তারা নিতে পারে। যদিও এরই মধ্যে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গত ৪ এপ্রিল বিএনপির দেওয়ার আর্থিক প্যাকেজে প্রস্তাবনায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ আছে।

ফখরুল বলেন, এ মুহূর্তে জরুরি আবশ্যকীয় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দিন আনে দিন খাওয়া শ্রেণির মানুষের মাসিক ৫ হাজার টাকা হারে প্রাথমিকভাবে তিন মাসে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা নগদ সাহায্য-সহায়তা সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই হবে। এ শ্রেণির মানুষের কাছে নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দিলে আয়ের অপরিহার্য যুক্তিতে তারা ঘরের বাইরে আসার প্রয়োজন অনুভব করবে না। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বা সহনীয় পর্যায়ে আনয়ন করা সম্ভব হবে।

করোনা মহামারির এমন পরিস্থিতিতেও ত্রাণ চুরি এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ফখরুল।