ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় প্রস্তুত, তবে ইরান আন্তরিক নয়: রুবিও জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা ধরা খেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের নাটক সাজাবেন, সেটা কেমন চরিত্র আর হেকমত?’ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পেল যুক্তরাষ্ট্র জুলাই সনদ অসাংবিধানিক হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: সারজিস আলম বিএনপি শুধু গণভোট নয়, নিজেদের ৩১ দফার অঙ্গীকার থেকেও সরে এসেছে: আখতার হোসেন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩৮২০ কোটি টাকা দেবে এআইআইবি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন।

বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে টেলিকনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রতিশ্রুতি সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

তাই করোনা মোকাবেলায় আরও সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নভেল করোনাভাইরাসে অর্থনীতিতে উদ্ভূত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর জন্য এআইআইবি থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যদি মহামারী মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়ে এখন থেকেই না ভাবা হয়, তাহলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এআইআইবির চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তায় ৭টি প্রকল্প চলমান, যার মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে তিনটি প্রকল্প।

অর্থমন্ত্রী ও এআইআইবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাই-বোনরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। এই ক্রান্তিকালীন সময়ে এআইআইবির সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এআইআইবি থেকে উন্নত প্রকল্প সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পর্যায়ক্রমে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করেন। এই অর্থ কৃষি খাতের অটোমেশন, কৃষিজাত দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের পুনর্বাসনের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করেন।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জানান, বাংলাদেশের উল্লিখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। টেলিকনফারেন্সে আরও যুক্ত হন এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ডি. জে পানডিয়ান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় প্রস্তুত, তবে ইরান আন্তরিক নয়: রুবিও

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩৮২০ কোটি টাকা দেবে এআইআইবি

আপডেট সময় ১১:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন।

বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে টেলিকনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রতিশ্রুতি সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

তাই করোনা মোকাবেলায় আরও সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নভেল করোনাভাইরাসে অর্থনীতিতে উদ্ভূত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর জন্য এআইআইবি থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যদি মহামারী মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়ে এখন থেকেই না ভাবা হয়, তাহলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এআইআইবির চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তায় ৭টি প্রকল্প চলমান, যার মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে তিনটি প্রকল্প।

অর্থমন্ত্রী ও এআইআইবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাই-বোনরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। এই ক্রান্তিকালীন সময়ে এআইআইবির সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এআইআইবি থেকে উন্নত প্রকল্প সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পর্যায়ক্রমে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করেন। এই অর্থ কৃষি খাতের অটোমেশন, কৃষিজাত দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের পুনর্বাসনের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করেন।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জানান, বাংলাদেশের উল্লিখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। টেলিকনফারেন্সে আরও যুক্ত হন এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ডি. জে পানডিয়ান।