ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩৮২০ কোটি টাকা দেবে এআইআইবি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন।

বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে টেলিকনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রতিশ্রুতি সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

তাই করোনা মোকাবেলায় আরও সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নভেল করোনাভাইরাসে অর্থনীতিতে উদ্ভূত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর জন্য এআইআইবি থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যদি মহামারী মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়ে এখন থেকেই না ভাবা হয়, তাহলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এআইআইবির চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তায় ৭টি প্রকল্প চলমান, যার মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে তিনটি প্রকল্প।

অর্থমন্ত্রী ও এআইআইবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাই-বোনরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। এই ক্রান্তিকালীন সময়ে এআইআইবির সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এআইআইবি থেকে উন্নত প্রকল্প সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পর্যায়ক্রমে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করেন। এই অর্থ কৃষি খাতের অটোমেশন, কৃষিজাত দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের পুনর্বাসনের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করেন।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জানান, বাংলাদেশের উল্লিখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। টেলিকনফারেন্সে আরও যুক্ত হন এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ডি. জে পানডিয়ান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩৮২০ কোটি টাকা দেবে এআইআইবি

আপডেট সময় ১১:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন।

বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে টেলিকনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রতিশ্রুতি সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

তাই করোনা মোকাবেলায় আরও সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নভেল করোনাভাইরাসে অর্থনীতিতে উদ্ভূত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর জন্য এআইআইবি থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যদি মহামারী মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়ে এখন থেকেই না ভাবা হয়, তাহলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এআইআইবির চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তায় ৭টি প্রকল্প চলমান, যার মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে তিনটি প্রকল্প।

অর্থমন্ত্রী ও এআইআইবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাই-বোনরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। এই ক্রান্তিকালীন সময়ে এআইআইবির সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আরও অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এআইআইবি থেকে উন্নত প্রকল্প সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পর্যায়ক্রমে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করেন। এই অর্থ কৃষি খাতের অটোমেশন, কৃষিজাত দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের পুনর্বাসনের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করেন।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জানান, বাংলাদেশের উল্লিখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। টেলিকনফারেন্সে আরও যুক্ত হন এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ডি. জে পানডিয়ান।