ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেবে না সরকার সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার ‘লাইলাতুল গুজব’ শেষে বিসিবিতেই দেখা গেল বুলবুলকে ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ বিএনপি সব সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে : রিজভী জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই

‘বস্তিতে ত্রাণ দেয়, আমাগোরে কিছু দেয় না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবে রাজধানীতে চলছে অঘোষিত ‘লকডাউন’। তিন দফায় বাড়িয়ে সরকারি ছুটি করা হয়েছে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বন্দি জীবন পার করছেন কোটি মানুষ। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবেতর জীবনযাপন করছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

রাজধানীর নিম্ন আয়ের বস্তির মানুষদের মিলছে না ত্রাণ-সাহায্য। না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানুষ। এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বস্তি ঘুরে।

নিম্ন আয়ের সাড়ে তিন হাজার পরিবারের বাস ওয়ার্ডটিতে। এখানকার দরিদ্র মানুষের দাবি, গত ১৯ দিনে তাদের খবর নিতে কেউ আসেনি। ৮ দিন আগে এখানকার মোতাহারের বস্তিটি ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। সে বস্তিতে কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে মাত্র দু’বার দেওয়া হয়েছে ত্রাণ। তবে আশেপাশের বস্তিগুলোতে কোন ত্রাণ দেওয়া হয়নি। এমনটাই অভিযোগ বস্তিবাসীদের।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে আগারগাঁওয়ের কাসেমের বস্তি, ময়মনসিংহ বস্তি, সমবায় ও মোতাহারের বস্তি ঘুরে জানা যায়, তিন থেকে চারবার এখানকার বস্তিবাসীদের নাম, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যাওয়া হয়েছে; কিন্তু কোন প্রকার ত্রাণ-সাহায্য কারো কাছ থেকে তারা পায়নি। নাম লিখে নেওয়া হয় থানা, এনজিও এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বস্তি। বস্তির বাসিন্দা রিকশা চালক মানিক পাটোয়ারী বলেন, ‘গেছে মাসের ২৬ (২৬ মার্চ) তারিখ থেকে আমরা রিকশা চালানো বন্ধ করি। খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি পরিবার নিয়ে। আমার পরিবারের ১০ জন সদস্য। এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কেউ কোন সাহায্য দেয় নাই। শুনছি লকডাউন মোতাহারের বস্তিতে দুইবার ত্রাণ দিছে। কিন্তু আমাগোরে কিছুই দেয় নাই। মোতাহারের বস্তি ৮ দিন ধইরা লকডাউন আছে। এই বস্তিতে এক জন করোনার রোগী পাইসে।’

সমবায় বস্তির বাসিন্দা আলমগীর বলেন, ‘এহন পর্যন্ত আমাগো বস্তিতে ত্রাণ নিয়া কেউ আহে নাই। তিন থেকে চারবার আইসা আমাগো ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি আর নাম লিখ্যা নিয়া গেছে। নাম নিয়া গেছে থানা, এনজিও আর কাউন্সিলরের লোকজনেরা। কিন্তু এহন পর্যন্ত আমগোরে কেউ কোন প্রকার ত্রাণ দেয় নাই। আমাগো বস্তির অনেক মানুষ না খাইয়া দিন পার করতাছে। অনেক কষ্টে আছে। কেউ আমাগো খোঁজ নেয় না।

একই বস্তির বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনছি কাউন্সিলর ত্রাণের নাম করে অনেক টাকা তুলছে। কিন্তু সে আমাদের কোনো ত্রাণ বা সাহায্য এখন পর্যন্ত দেয় নাই। আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে দিন পার করতাছি। আমাগো খোঁজ কেউ নেয় না। আগে আমরা কাজ করে খাইতাম, কিন্তু এখন ঘরে বইসা না খাইয়া থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন বলেন, পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় ত্রাণ দেওয়া হবে। এক দুটি বস্তিতে ত্রাণ দেওয়া বাকি আছে। দু-একদিনের মধ্যেই আমরা সব জায়গায় ত্রাণ দিয়ে দিব।

পরিচিতজনদের ত্রাণ দেওয়ার হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হলো সবাইকে ত্রাণ দিতে হবে। বিএনপি আর জামাত বলে কিছু নেই। সবাইকেই পর্যায়ক্রমে ত্রাণ দেওয়া হবে। আমরা প্রতিটা ঘরে মানুষকে খাবার পৌঁছে দিব।

ত্রাণের টাকা তোলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেই নি। আমার নামে নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে বলেন। যারা এসব কথা বলছেন, তারা কোন কাজ করে না‌। মাথার চুল ফেলে বাসায় বসে আবোল তাবোল কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এই লকডাউনের মধ্যে মানুষ দিয়ে কাজ করানো কঠিন। কেউ মাঠে নামতে চায় না। আমার এলাকার ১০ হাজার মানুষকে ত্রাণ দেওয়া যাবে। আমরা ত্রাণ দিয়েছি ১৩’শ মানুষকে। সব জায়গায় কিছু কিছু করে ত্রাণ দিয়েছি কিন্তু সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হয়নি। এ কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে- আমি কেন ত্রাণ পেলাম না। বস্তির সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হবে, কেউ বাদ যাবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে দুই সন্তানকে নিয়ে মায়ের ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, তিনজনের মৃত্যু

‘বস্তিতে ত্রাণ দেয়, আমাগোরে কিছু দেয় না’

আপডেট সময় ০৪:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবে রাজধানীতে চলছে অঘোষিত ‘লকডাউন’। তিন দফায় বাড়িয়ে সরকারি ছুটি করা হয়েছে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বন্দি জীবন পার করছেন কোটি মানুষ। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবেতর জীবনযাপন করছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

রাজধানীর নিম্ন আয়ের বস্তির মানুষদের মিলছে না ত্রাণ-সাহায্য। না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানুষ। এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বস্তি ঘুরে।

নিম্ন আয়ের সাড়ে তিন হাজার পরিবারের বাস ওয়ার্ডটিতে। এখানকার দরিদ্র মানুষের দাবি, গত ১৯ দিনে তাদের খবর নিতে কেউ আসেনি। ৮ দিন আগে এখানকার মোতাহারের বস্তিটি ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। সে বস্তিতে কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে মাত্র দু’বার দেওয়া হয়েছে ত্রাণ। তবে আশেপাশের বস্তিগুলোতে কোন ত্রাণ দেওয়া হয়নি। এমনটাই অভিযোগ বস্তিবাসীদের।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে আগারগাঁওয়ের কাসেমের বস্তি, ময়মনসিংহ বস্তি, সমবায় ও মোতাহারের বস্তি ঘুরে জানা যায়, তিন থেকে চারবার এখানকার বস্তিবাসীদের নাম, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যাওয়া হয়েছে; কিন্তু কোন প্রকার ত্রাণ-সাহায্য কারো কাছ থেকে তারা পায়নি। নাম লিখে নেওয়া হয় থানা, এনজিও এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বস্তি। বস্তির বাসিন্দা রিকশা চালক মানিক পাটোয়ারী বলেন, ‘গেছে মাসের ২৬ (২৬ মার্চ) তারিখ থেকে আমরা রিকশা চালানো বন্ধ করি। খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি পরিবার নিয়ে। আমার পরিবারের ১০ জন সদস্য। এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কেউ কোন সাহায্য দেয় নাই। শুনছি লকডাউন মোতাহারের বস্তিতে দুইবার ত্রাণ দিছে। কিন্তু আমাগোরে কিছুই দেয় নাই। মোতাহারের বস্তি ৮ দিন ধইরা লকডাউন আছে। এই বস্তিতে এক জন করোনার রোগী পাইসে।’

সমবায় বস্তির বাসিন্দা আলমগীর বলেন, ‘এহন পর্যন্ত আমাগো বস্তিতে ত্রাণ নিয়া কেউ আহে নাই। তিন থেকে চারবার আইসা আমাগো ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি আর নাম লিখ্যা নিয়া গেছে। নাম নিয়া গেছে থানা, এনজিও আর কাউন্সিলরের লোকজনেরা। কিন্তু এহন পর্যন্ত আমগোরে কেউ কোন প্রকার ত্রাণ দেয় নাই। আমাগো বস্তির অনেক মানুষ না খাইয়া দিন পার করতাছে। অনেক কষ্টে আছে। কেউ আমাগো খোঁজ নেয় না।

একই বস্তির বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনছি কাউন্সিলর ত্রাণের নাম করে অনেক টাকা তুলছে। কিন্তু সে আমাদের কোনো ত্রাণ বা সাহায্য এখন পর্যন্ত দেয় নাই। আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে দিন পার করতাছি। আমাগো খোঁজ কেউ নেয় না। আগে আমরা কাজ করে খাইতাম, কিন্তু এখন ঘরে বইসা না খাইয়া থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন বলেন, পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় ত্রাণ দেওয়া হবে। এক দুটি বস্তিতে ত্রাণ দেওয়া বাকি আছে। দু-একদিনের মধ্যেই আমরা সব জায়গায় ত্রাণ দিয়ে দিব।

পরিচিতজনদের ত্রাণ দেওয়ার হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হলো সবাইকে ত্রাণ দিতে হবে। বিএনপি আর জামাত বলে কিছু নেই। সবাইকেই পর্যায়ক্রমে ত্রাণ দেওয়া হবে। আমরা প্রতিটা ঘরে মানুষকে খাবার পৌঁছে দিব।

ত্রাণের টাকা তোলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেই নি। আমার নামে নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে বলেন। যারা এসব কথা বলছেন, তারা কোন কাজ করে না‌। মাথার চুল ফেলে বাসায় বসে আবোল তাবোল কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এই লকডাউনের মধ্যে মানুষ দিয়ে কাজ করানো কঠিন। কেউ মাঠে নামতে চায় না। আমার এলাকার ১০ হাজার মানুষকে ত্রাণ দেওয়া যাবে। আমরা ত্রাণ দিয়েছি ১৩’শ মানুষকে। সব জায়গায় কিছু কিছু করে ত্রাণ দিয়েছি কিন্তু সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হয়নি। এ কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে- আমি কেন ত্রাণ পেলাম না। বস্তির সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হবে, কেউ বাদ যাবে না।