ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করুন: মেয়র আতিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করতে বাড়িওয়ালাদের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

মেয়র বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের বস্তি বা অন্যান্য যে সব এলাকায় থাকেন তারা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন। করোনাভাইরাসজনিত দুর্যোগের কারণে সে সব বস্তির নিয়ন্ত্রক বা বাড়িওয়ালাদের আহ্বান জানাব- এই দুঃসময়ে তাদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করুন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের কারণে বাড়িওয়ালা বা বস্তির ঘরের মালিকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অসহায় এবং নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেক বেশি লাভবান হবেন। এ দুর্যোগের সময় তারা কোনোরকম টিকে থাকার বড় সুযোগ পাবেন। আমাদের যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা অপেক্ষাকৃত ভালো রেখেছেন, তাদের সবাইকে অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাব।’ আতিকুল এখনও মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তাতে কী? করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় দুস্থ মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, দিচ্ছেন আর্থিক সহায়তা। খাবার, পানীয় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণও বিতরণ করছেন। কোনো দায়িত্বে অধিষ্ঠিত না থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, এটা প্রমাণ করলেন তিনি।

নতুন মেয়াদে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার বাকি ছিল প্রায় চার মাস। তিনি সে সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকেননি। সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীকালে ডিএনসিসিও বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে পাশে রেখেছেন। এখনও তার দায়িত্ব বুঝে পেতে প্রায় দেড় মাস সময় বাকি রয়েছে। কিন্তু গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানীবাসীকে সচেতন করতে এবং নানাভাবে সহযোগিতা করতে দিন-রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

‘সবাই মিলে, সবার ঢাকা’- মেয়র আতিকুলের এই সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিদিন ২ হাজার অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য উপকরণ।

গত ২৯ মার্চ থেকে এ উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। দুর্যোগ চলাকালীন তার এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান আতিকুল।

এ দিকে প্রথমে নিজ এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা শুরু করলেও তার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

বনানী ‘বি’ ব্লকের ১৪ নম্বর সড়কের ৭৭ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবকরা একত্রে খাদ্য উপকরণ প্যাকেট করছেন। আর এ সব প্যাকেটজাত খাদ্য উপকরণ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সে সব এলাকার বেকার দিনমজুর, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এ সব উপকরণ বিতরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, যারা প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল তারা এ সময় কিছুই করতে পারছেন না। এ জন্য নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য খাবার দিচ্ছি। আমি আহ্বান জানাই আমাদের যার যা আছে তা নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াই।

ডিএনসিসির মেয়র বলেন, আমরা পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার ভোজ্যতেল এবং একটি হুইল সাবান দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমার কারখানায় বলে দিয়েছিলাম মাস্ক তৈরি করতে। যাদের খাবার দিচ্ছি তাদের এর সঙ্গে তিনটি মাস্কও দিচ্ছি। এগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসা হবে। কোনো জনসমাগম যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করুন: মেয়র আতিক

আপডেট সময় ০৪:২৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করতে বাড়িওয়ালাদের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

মেয়র বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের বস্তি বা অন্যান্য যে সব এলাকায় থাকেন তারা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন। করোনাভাইরাসজনিত দুর্যোগের কারণে সে সব বস্তির নিয়ন্ত্রক বা বাড়িওয়ালাদের আহ্বান জানাব- এই দুঃসময়ে তাদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করুন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের কারণে বাড়িওয়ালা বা বস্তির ঘরের মালিকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অসহায় এবং নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেক বেশি লাভবান হবেন। এ দুর্যোগের সময় তারা কোনোরকম টিকে থাকার বড় সুযোগ পাবেন। আমাদের যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা অপেক্ষাকৃত ভালো রেখেছেন, তাদের সবাইকে অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাব।’ আতিকুল এখনও মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তাতে কী? করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় দুস্থ মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, দিচ্ছেন আর্থিক সহায়তা। খাবার, পানীয় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণও বিতরণ করছেন। কোনো দায়িত্বে অধিষ্ঠিত না থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, এটা প্রমাণ করলেন তিনি।

নতুন মেয়াদে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার বাকি ছিল প্রায় চার মাস। তিনি সে সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকেননি। সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীকালে ডিএনসিসিও বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে পাশে রেখেছেন। এখনও তার দায়িত্ব বুঝে পেতে প্রায় দেড় মাস সময় বাকি রয়েছে। কিন্তু গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানীবাসীকে সচেতন করতে এবং নানাভাবে সহযোগিতা করতে দিন-রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

‘সবাই মিলে, সবার ঢাকা’- মেয়র আতিকুলের এই সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিদিন ২ হাজার অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য উপকরণ।

গত ২৯ মার্চ থেকে এ উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। দুর্যোগ চলাকালীন তার এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান আতিকুল।

এ দিকে প্রথমে নিজ এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা শুরু করলেও তার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

বনানী ‘বি’ ব্লকের ১৪ নম্বর সড়কের ৭৭ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবকরা একত্রে খাদ্য উপকরণ প্যাকেট করছেন। আর এ সব প্যাকেটজাত খাদ্য উপকরণ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সে সব এলাকার বেকার দিনমজুর, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এ সব উপকরণ বিতরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, যারা প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল তারা এ সময় কিছুই করতে পারছেন না। এ জন্য নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য খাবার দিচ্ছি। আমি আহ্বান জানাই আমাদের যার যা আছে তা নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াই।

ডিএনসিসির মেয়র বলেন, আমরা পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার ভোজ্যতেল এবং একটি হুইল সাবান দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমার কারখানায় বলে দিয়েছিলাম মাস্ক তৈরি করতে। যাদের খাবার দিচ্ছি তাদের এর সঙ্গে তিনটি মাস্কও দিচ্ছি। এগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসা হবে। কোনো জনসমাগম যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।