ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ ৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের আবারও বিক্ষোভে নামার ডাক রেজা পাহলভির, মেলেনি সাড়া মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও

জয়ের প্রহর গুনছে বাংলাদেশ

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

ঢাকা টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে উইকেট থেকে দারুণ সহায়তা পাচ্ছেন স্পিনাররা। বল ভয়ানক টার্ন এবং স্কিড করছে। সেই সঙ্গে উঠা-নামা করছে। কখনও লাফিয়ে উঠছে, মাঝে মধ্যে নিচু হয়ে যাচ্ছে। এর পুরো ফায়দা লুটছেন বাংলাদেশ বোলাররা।

আধিপত্য বিস্তার করে বোলিং করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। তাদের বল খেলতেই পারছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা। বলির পাঁঠা হয়ে একে একে ফিরছেন সাজঘরে। সবশেষ মিরাজের শিকার হয়ে ফিরলেন দেবেন্দ্র বিশু। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফেরালেন সৌম্য সরকার।

শেষ খবর পর্যন্ত ১৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও কাঁপছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মাঝে ফিফটি তুলে নিয়েছেন শিমরন হেটমায়ার।তিনি আছেন সেঞ্চুরির অপেক্ষায়।৮৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন এ বিস্ফোরক ব্যাটার। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কেমার রোচ।

এখনও ২৪৭ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে আছে মাত্র ৩ ব্যাটসম্যান। সবাই লোয়ারঅর্ডার। ফলে জয়ের প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে ১১১ রানে অলআউট হয়ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ফলোঅনে পড়ে সফরকারীরা। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে পরে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা শুভ হয়নি তাদের।

সূচনালগ্নেই ফিরে যান দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও অতিথি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোবল মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কাইরন পাওয়েলকে মুশফিকুর রহিমের স্ট্যাম্পিং করে ফেরান তিনি।

খানিক বাদে সুনিল আমব্রিসকে এলবিডব্লিউ করে প্রতিপক্ষদের চাপে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। এর মধ্যে রোস্টন চেজকে মুমিনুল হকের ক্যাচে পরিণত করে বিপর্যয়ে ফেলেন তিনি।

সেই বিপর্যয়ের মধ্যে শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন শাই হোপ। সফলও হচ্ছিলেন তারা। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি মিরাজ। সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে হোপকে (২৫) ফিরিয়ে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন তিনি। এতে হেটমায়ারের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙে। স্পিনে দক্ষ এ ব্যাটসম্যান ফিরতে ফের পথ হারায় উইন্ডিজ।এর পর পরই নাঈমের শিকার হয়ে ফেরেন শান ডাওরিচ। স্লিপে দারুণ ক্যাচে তাকে ফেরান সৌম্য সরকার।

এর আগে ফলোঅনের শঙ্কা নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের ৫ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে নতুন দিনে খেলা শুরু করে সফরকারীরা। শিমরন হেটমায়ার ৩২ ও শান ডাওরিচ ১৭ রান নিয়ে খেলতে নামেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা।

তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এ জুটি। শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন হেটমায়ার। ফেরার আগে ৫৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রান করেন তিনি। সেই রেস না কাটতেই দেবেন্দ্র বিশুকে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মিরাজ। এ নিয়ে ৫ উইকেটের কোটা পূরণ করেন তিনি।

এতেই ক্ষ্যান্ত হননি মিরাজ। পরক্ষণেই লিটন দাসের তালুবন্দি করে দেবেন্দ্র বিশুকে ফেরান এ অফস্পিনার। সবাই নিয়মিত বিরতিতে যাওয়া-আসা করলেও একপ্রান্ত আঁকড়ে ছিলেন ডাওরিচ। অবশেষে তাকেও উপড়ে ফেলেন তিনি। নির্ভরযোগ্য এ ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে ৫৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। এটি তার ক্যারিয়াসেরা বোলিং। আগেরটি ছিল ৭৭ রানে ৬ উইকেট, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে।

এ নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট এবং বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ইনিংসে সাত বা এর বেশি উইকেট পেলেন মিরাজ। দেশের হয়ে এ কীর্তি আছে তিনজনের-এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের।

ক্যারিবীয় শিবিরে শেষ পেরেকটি ঠুকেন সাকিব। তৃতীয় শিকার হিসেবে শারমন লুইসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। এতে ১১১ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজ। ফলে ৩৯৭ রানে পিছিয়ে ফলোঅনে পড়েন অতিথিরা।

এ নিয়ে নিজেদের ১৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলকে প্রথমবারের মতো ফলোঅন ফেলে বাংলাদেশ। ফলে প্রথমবারের মতো ইনিংস জয়ের অপেক্ষায় ফের বোলিং শুরু করে টাইগাররা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জয়ের প্রহর গুনছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

ঢাকা টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে উইকেট থেকে দারুণ সহায়তা পাচ্ছেন স্পিনাররা। বল ভয়ানক টার্ন এবং স্কিড করছে। সেই সঙ্গে উঠা-নামা করছে। কখনও লাফিয়ে উঠছে, মাঝে মধ্যে নিচু হয়ে যাচ্ছে। এর পুরো ফায়দা লুটছেন বাংলাদেশ বোলাররা।

আধিপত্য বিস্তার করে বোলিং করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। তাদের বল খেলতেই পারছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা। বলির পাঁঠা হয়ে একে একে ফিরছেন সাজঘরে। সবশেষ মিরাজের শিকার হয়ে ফিরলেন দেবেন্দ্র বিশু। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফেরালেন সৌম্য সরকার।

শেষ খবর পর্যন্ত ১৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও কাঁপছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মাঝে ফিফটি তুলে নিয়েছেন শিমরন হেটমায়ার।তিনি আছেন সেঞ্চুরির অপেক্ষায়।৮৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন এ বিস্ফোরক ব্যাটার। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কেমার রোচ।

এখনও ২৪৭ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে আছে মাত্র ৩ ব্যাটসম্যান। সবাই লোয়ারঅর্ডার। ফলে জয়ের প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে ১১১ রানে অলআউট হয়ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ফলোঅনে পড়ে সফরকারীরা। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে পরে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা শুভ হয়নি তাদের।

সূচনালগ্নেই ফিরে যান দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও অতিথি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোবল মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কাইরন পাওয়েলকে মুশফিকুর রহিমের স্ট্যাম্পিং করে ফেরান তিনি।

খানিক বাদে সুনিল আমব্রিসকে এলবিডব্লিউ করে প্রতিপক্ষদের চাপে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। এর মধ্যে রোস্টন চেজকে মুমিনুল হকের ক্যাচে পরিণত করে বিপর্যয়ে ফেলেন তিনি।

সেই বিপর্যয়ের মধ্যে শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন শাই হোপ। সফলও হচ্ছিলেন তারা। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি মিরাজ। সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে হোপকে (২৫) ফিরিয়ে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন তিনি। এতে হেটমায়ারের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙে। স্পিনে দক্ষ এ ব্যাটসম্যান ফিরতে ফের পথ হারায় উইন্ডিজ।এর পর পরই নাঈমের শিকার হয়ে ফেরেন শান ডাওরিচ। স্লিপে দারুণ ক্যাচে তাকে ফেরান সৌম্য সরকার।

এর আগে ফলোঅনের শঙ্কা নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের ৫ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে নতুন দিনে খেলা শুরু করে সফরকারীরা। শিমরন হেটমায়ার ৩২ ও শান ডাওরিচ ১৭ রান নিয়ে খেলতে নামেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা।

তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এ জুটি। শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন হেটমায়ার। ফেরার আগে ৫৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রান করেন তিনি। সেই রেস না কাটতেই দেবেন্দ্র বিশুকে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মিরাজ। এ নিয়ে ৫ উইকেটের কোটা পূরণ করেন তিনি।

এতেই ক্ষ্যান্ত হননি মিরাজ। পরক্ষণেই লিটন দাসের তালুবন্দি করে দেবেন্দ্র বিশুকে ফেরান এ অফস্পিনার। সবাই নিয়মিত বিরতিতে যাওয়া-আসা করলেও একপ্রান্ত আঁকড়ে ছিলেন ডাওরিচ। অবশেষে তাকেও উপড়ে ফেলেন তিনি। নির্ভরযোগ্য এ ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে ৫৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। এটি তার ক্যারিয়াসেরা বোলিং। আগেরটি ছিল ৭৭ রানে ৬ উইকেট, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে।

এ নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট এবং বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ইনিংসে সাত বা এর বেশি উইকেট পেলেন মিরাজ। দেশের হয়ে এ কীর্তি আছে তিনজনের-এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের।

ক্যারিবীয় শিবিরে শেষ পেরেকটি ঠুকেন সাকিব। তৃতীয় শিকার হিসেবে শারমন লুইসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। এতে ১১১ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজ। ফলে ৩৯৭ রানে পিছিয়ে ফলোঅনে পড়েন অতিথিরা।

এ নিয়ে নিজেদের ১৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলকে প্রথমবারের মতো ফলোঅন ফেলে বাংলাদেশ। ফলে প্রথমবারের মতো ইনিংস জয়ের অপেক্ষায় ফের বোলিং শুরু করে টাইগাররা।