ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সেই ইজিবাইকচালক হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মেহেরপুরে চাঞ্চল্যকর ইজিবাইকচালক এনায়েত হোসেন খোকন হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম।

ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আলমগীর হোসেন, রামনগর গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে মামুন হোসেন ও একই গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. ওয়াসিম আলী।

একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর একটি ধারায় ওই তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া মামলার অপর দুই আসামির ৩ বছর করে জেল এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

তারা হলেন- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের খাইবর হোসেনের ছেলে কাবুল ইসলাম ও দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি গ্রামের সাত্তার আলীর ছেলে ফিরোজ আলী।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার এলাকার আব্দুল জলিল খানের ছেলে এনায়েত হোসেন খান খোকন ইজিবাইক চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিদিনের মতো দুপুরের দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় বাড়ির সবাই বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে তার কোনো সন্ধান পায়নি।

পরদিন সকালে সদর উপজেলার টেংরামারি গ্রামে পাকুড়তলা নামক স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ইজিবাইকটি পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরের দিন নিহতের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার রুমা সদর থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন সদর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম। আসামিরা ইজিবাইকচালক খোকনকে হত্যা শেষে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় কোনো আসামি বা সাক্ষীর নাম না থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে আসামিদের শনাক্ত করেন।

সেই সূত্রে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি গ্রামের আসামি ফিরোজ আলীকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, অন্য আসামিদের গ্রেফতার করেন। আসামিরা তাদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালতে ১৭ জন সাক্ষ্যপ্রদান করেন। মামলার নথি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে বিচারক এ আদেশ দেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা উচ্চ আদালতে আগামী সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও বাদীপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য।

পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ রায় এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেই ইজিবাইকচালক হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি

আপডেট সময় ০৯:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মেহেরপুরে চাঞ্চল্যকর ইজিবাইকচালক এনায়েত হোসেন খোকন হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম।

ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আলমগীর হোসেন, রামনগর গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে মামুন হোসেন ও একই গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. ওয়াসিম আলী।

একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর একটি ধারায় ওই তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া মামলার অপর দুই আসামির ৩ বছর করে জেল এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

তারা হলেন- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের খাইবর হোসেনের ছেলে কাবুল ইসলাম ও দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি গ্রামের সাত্তার আলীর ছেলে ফিরোজ আলী।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার এলাকার আব্দুল জলিল খানের ছেলে এনায়েত হোসেন খান খোকন ইজিবাইক চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিদিনের মতো দুপুরের দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় বাড়ির সবাই বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে তার কোনো সন্ধান পায়নি।

পরদিন সকালে সদর উপজেলার টেংরামারি গ্রামে পাকুড়তলা নামক স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ইজিবাইকটি পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরের দিন নিহতের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার রুমা সদর থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন সদর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম। আসামিরা ইজিবাইকচালক খোকনকে হত্যা শেষে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় কোনো আসামি বা সাক্ষীর নাম না থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে আসামিদের শনাক্ত করেন।

সেই সূত্রে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি গ্রামের আসামি ফিরোজ আলীকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, অন্য আসামিদের গ্রেফতার করেন। আসামিরা তাদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালতে ১৭ জন সাক্ষ্যপ্রদান করেন। মামলার নথি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে বিচারক এ আদেশ দেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা উচ্চ আদালতে আগামী সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও বাদীপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য।

পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ রায় এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।