ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলেকে অবৈধভাবে নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট ওয়াসান্থা কারান্নাগোডাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন।

৭৩ বছর বয়সি এই সাবেক নৌপ্রধানের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২ জুলাই) এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে দেশটির বহুল আলোচিত রাজাপক্ষ আমলের দুর্নীতি মামলার তদন্ত আরও জোরদার হলো।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ২০০৬ সালে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে যোশিতা রাজাপক্ষকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং অ্যাডমিরাল কারান্নাগোডা এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধ সমাপ্তির সময় কারান্নাগোডা দেশটির নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তাকে ‘অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট’ পদে উন্নীত করা হয়, তবে বর্তমানে তিনি নৌবাহিনীর কোনো সক্রিয় দায়িত্বে নেই।

এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সি যোশিতা রাজাপক্ষকে গত মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী ডার্টমাউথ নেভাল কলেজে নিজস্ব প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া সেই মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যোশিতা রাজাপক্ষের বেআইনি নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক নৌপ্রধান সুস্পষ্টভাবে দুর্নীতি করেছেন।

এছাড়া যোশিতা রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে বাবার শাসন আমলে (২০০৫-২০১৫) বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে, যার উৎস হিসেবে তিনি তার খালাতো দাদির দেওয়া মণি-মুক্তা বিক্রির যে দাবি করেছিলেন, তা তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

সাবেক এই নৌপ্রধান কেবল দুর্নীতির মামলাই নয়, বরং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও অভিযুক্ত, যার কারণে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ জন যুবককে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের একটি পুরোনো মামলাও তার বিরুদ্ধে পুনরায় সচল করা হয়েছে। রাজাপক্ষ সরকারের আমলে ২০২১ সালে এই মামলাটি স্থগিত করা হলেও, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান রাষ্ট্রপতি অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের প্রশাসনের অধীনে মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

বর্তমান সরকারের অধীনে রাজাপক্ষ পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলাগুলো নতুন করে গতি পাওয়ায় শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয় : রিজভী

শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৫:২০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলেকে অবৈধভাবে নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট ওয়াসান্থা কারান্নাগোডাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন।

৭৩ বছর বয়সি এই সাবেক নৌপ্রধানের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২ জুলাই) এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে দেশটির বহুল আলোচিত রাজাপক্ষ আমলের দুর্নীতি মামলার তদন্ত আরও জোরদার হলো।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ২০০৬ সালে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে যোশিতা রাজাপক্ষকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং অ্যাডমিরাল কারান্নাগোডা এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধ সমাপ্তির সময় কারান্নাগোডা দেশটির নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তাকে ‘অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট’ পদে উন্নীত করা হয়, তবে বর্তমানে তিনি নৌবাহিনীর কোনো সক্রিয় দায়িত্বে নেই।

এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সি যোশিতা রাজাপক্ষকে গত মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী ডার্টমাউথ নেভাল কলেজে নিজস্ব প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া সেই মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যোশিতা রাজাপক্ষের বেআইনি নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক নৌপ্রধান সুস্পষ্টভাবে দুর্নীতি করেছেন।

এছাড়া যোশিতা রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে বাবার শাসন আমলে (২০০৫-২০১৫) বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে, যার উৎস হিসেবে তিনি তার খালাতো দাদির দেওয়া মণি-মুক্তা বিক্রির যে দাবি করেছিলেন, তা তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

সাবেক এই নৌপ্রধান কেবল দুর্নীতির মামলাই নয়, বরং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও অভিযুক্ত, যার কারণে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ জন যুবককে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের একটি পুরোনো মামলাও তার বিরুদ্ধে পুনরায় সচল করা হয়েছে। রাজাপক্ষ সরকারের আমলে ২০২১ সালে এই মামলাটি স্থগিত করা হলেও, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান রাষ্ট্রপতি অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের প্রশাসনের অধীনে মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

বর্তমান সরকারের অধীনে রাজাপক্ষ পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলাগুলো নতুন করে গতি পাওয়ায় শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে।